10722-lost-love-poems
ফোনটা ভেঙ্গে দিয়ে ভালোই তো করেছিলে, কিন্তু না তাও তোমার সইবে না। আবার আরেকটা ফোন কিনে দিলে, ইসস আজ যদি আমার ফোন না থাকতো তবে ঘন ঘন হেল্প লাইনের ম্যাসেজ আসতো না, আমি ঘুমে, জাগরণে চমকেও উঠতাম না।
তোমার মনে আছে? যখন আমাদের ছোট্ট ডিঙি নৌকার মতো সংসারটা প্রতিদিন ঝড় আর ঢেউয়ের তাণ্ডবে ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছিলো তখন আমি একবার তোমাকে বলেছিলাম যদি শেষ পর্যন্ত হেরে যাই তবে দু’জনে একসঙ্গে এই পৃথিবী থেকে চলে যাবো।
তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে কীভাবে?
আমি বলেছিলাম আমার কাছে একপাতা, মানে দশটা হাই পাওয়ার ঘুমের ঔষধ আছে, খেলে…শেষ।
তুমি বলেছিলে, তাহলে একপাতা কেনো? তুমি চলে গেলে আমাকে কার কাছে রেখে যাবে। দু’পাতা আনো, একসঙ্গে মরবো, খুব ভালো হবে, ভালোবাসার একটা দৃষ্টান্ত হবে।
তারপর কেমন করে সব কী হলো? ঢেউয়ের তোড়ে আর ঝড়ের তাণ্ডবে আমাদের সংসার নামক বৈতরণী টাইটানিকের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে সমুদ্রের অতলে ডুবে গেলো। কোথায় চলে গেলে তুমি আর কোথায় আমি। আমি কিন্তু সেই ঘুমের ঔষধগুলো নষ্ট করিনি। তুমি অনেকবার সেই ঔষধের নাম জানতে চেয়েছিলে, আমি বলিনি। এবার আমি একাই মরবো, তুমি তো চলে গেছো তোমার সুখের সন্ধানে, আর আমি তোমাকে পেয়েছে হৃদয়ের মাঝে, আর কিচ্ছু চাই না আমার, বলে জয় পাতা থেকে একে একে ঘুমের ঔষধগুলো খুলতে শুরু করলো। তার মোবাইল ফোনে তখনো গান চলছেই…
আমি তোমারো বিরহে রহিবও বিলীন,
তোমাতে করিবও বাস,
দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী
দীর্ঘ বরসও মাস
যদি আরও কারও ভালোবাসো,
যদি আরও ফিরে নাহি আস
তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও
আমি যত দূ:খ পাই গো।

জয় পুরো ঘর একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। ক’দিন আগে দু’জনের কিছু ছবি প্রিন্ট করে এনেছিলো। একটা ছবিতে দু’জন আধশোয়া হয়ে আছে, ইরা জয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে আর জয়ইও ইরার চোখের দিকে, দু’জনে একসাথে থেকে কী তৃপ্তি ফুটে উঠেছিলো ওদের দু’জনের চোখে। সেই-ই বিছানার চাদর, যেটা ইরা জোর করে জয়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। যখন ওদের দু’টো পথ দু’দিকে বাঁকা হয়ে যাচ্ছিলো, ইরা চলে যাচ্ছিলো তার ম্যাসে আর জয় তার অফিসে। ইরা জয়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো, এটাতে ঘুমাবে, আমাকে পাবে, আমার ছোঁয়া পাবে।
দু’জনের গণ্ডদেশ বেয়ে তখন অঝোর ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছিলো।

আমি আজো সেই বিছানার চাদরেই শুয়ে আছি ইরা, পরণের সেই গেঞ্জি, সেই প্যান্ট-শার্ট, রুমের দেয়ালে দেয়ালে আমাদের পোস্টার সাইজের ছবি, হৃদয়ে তোমারই ছবি। এতো স্মৃতি নিয়ে আমি কীভাবে বেঁচে থাকি বলো তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি চলেই যাবো, তুমি নিশ্চয়ই জানো রবী ঠাকুরের মতো দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী অপেক্ষা করার মতো মানুষ আমি নই কিন’ আজ আমি এতো সি’র, শান্ত কেনো? হাতে আমার মৃত্যু পরোয়ানা, কিছুক্ষণ পরেই হয়তো আমি চলে যাবো এই পৃথিবী ছেড়ে কিন’ আমার মধ্যে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, অস্থিরতা নেই, যেনো আমি হাসতে হাসতে মরতে যাচ্ছি সেই কবিতার মতো…
যখন তুমি এসেছিলে ভবে,
কেঁদেছিলে তুমি হেসেছিলো সবে,
এমন জীবন তুমি করিবে গঠন,
হাসিতে হাসিতে মরিবে তুমি সবাই কাঁদিবে তখন।

জয় একে একে কয়েকটা ঔষধ আমি খেয়ে নিলো, আমি কি তোমার জন্য কয়েকটা রেখে যাবো? তুমি যদি আমাকে বেঈমান বলো, যদি বলো আমার জন্য কয়েকটা রেখে গেলে না কেনো? এমনি নানান কথা ভাবতে ভাবতে জয়ের দু’চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, শরীর অবশ হয়ে আসছে, আর কয়েকটা, আরো কয়েকটা কি আমি খেয়ে নিবো ইরা, যদি তাড়াতাড়ি, আরো তাড়াতাড়ি যেতে পারতাম, নাকি তোমার জন্য….
চলবে…
এই গল্পটি প্রথম থেকে পড়তে ক্লিক করুন:আমারও পরাণও যাহা চায়-০১
আমার সব লেখা একসাথে পড়তে ক্লিক করুণ:আমার ঠিকানা
ফেসবুকে আমার লেখা উপন্যাস গডফাদার পড়তে লাইক দিন:গডফাদার

GD Star Rating
loading...
GD Star Rating
loading...

জিল্লুর রহমান সম্পর্কে

চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। কবিতার পাশাপাশি সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে শুরু হলো ছোটগল্প, উপন্যাস লেখা। একে একে প্রকাশিত হতে থাকলো কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস। প্রকাশিত হলো অমর একুশে বইমেলা-২০১৬ পর্যন্ত ০১টি কাব্যগ্রন্থ, ১৭ টি উপন্যাস এবং ০১ টি ধারাবাহিক উপন্যাসের ০৩ খণ্ড। গ্রন্থ আকারে প্রকাশের পাশাপাশি লেখা ছড়িয়ে পড়ল অনলাইনেও। লেখার শ্লোগানের মতো প্রতিটি উপন্যাসই যেন সামাজিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। সর্বশেষ প্রতিচ্ছবিটি প্রকাশিত হয় অমর একুশে বইমেলা-২০১৭।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে গল্প-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

২ টি মন্তব্য আমারও পরাণও যাহা চায়-০৩

  1. মুরুব্বী বলেছেনঃ

    আমারও পরাণও যাহা চায় … বহুল শ্রুত লাইনটি পড়লেই মন স্মৃতিকাতর হয়।
    শিরোনামের ৩য় পর্ব পড়লাম প্রিয় জিল্লুর রহমান ভাই। ধন্যবাদ।

    GD Star Rating
    loading...
  2. ফকির আবদুল মালেক বলেছেনঃ

    এ পর্বও পড়লাম। চলুক। সাথে আছি।

    GD Star Rating
    loading...

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।