কথাগুলো তোমাকে দিলাম

কথাগুলো তোমাকে দিলাম

কথাগুলো তোমাকে দিলাম বসন্ত চলে যায় যদি যাক, কথা দিলাম পাতাঝরা দিনে ঝরে পরা বৃক্ষের ডালে সবুজ ফলাবো। তোমার বাকল খুলে খুলে লিখে দেবো হৃদয়ের শর্করা, আমিষের উপমায়! যদি হেমন্তে শুকনো পাতাদের শরীর থেকে ফেরারি হয় কিছু মর্মর কথা দিলাম চুম্বনের চর্চা বাড়াবো! মিশে যাবো, যেভাবে জলের অঙ্গে মিশে যায় বৃষ্টির ভঙ্গিমা। যদি শীতরাতে তোমার … Continue reading “কথাগুলো তোমাকে দিলাম”

ফিনিক্স শিশু

ফিনিক্স শিশু

এরপর মৃত মায়ের গর্ভাশয় হতে বেরিয়ে আসলো অসংখ্য ফিনিক্স শিশু তাদের দুধ মুখগুলোতে ফুটে উঠলো অনিবার্য প্রতিশোধ চিহ্ন। ফিনিক্স শিশুরা লাল লাল রক্তে দৃঢ় প্রতিবাদ এঁকে প্রতিজ্ঞা করলো মাতৃভূমিকে স্বাধীন না করে ও মুখগুলো ছোঁবে না আর মাতৃস্তন।

শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ছে

শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ছে

দ্যাখো দ্যাখো শিশুর তাজা রক্তে খসে যাচ্ছে পৃথিবীর মানবিক মানচিত্রগুলো। ওদিকে অবলীলায় মুছে যাচ্ছে ভূগোল ও নৃতত্ত্ব! প্যালেস্টাইনের আকাশ আজ উদার ভীষণ সেখানে নেই ঈশ্বরের কোনো ছাদ তাইতো বুলেট বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে ঘুমন্ত শিশুগুলো আর ঘুমের মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়ছে পুনরায়! এদিকে একদল পিতা ঘুমন্ত শিশুদের হাড়গোড়, অস্থিমজ্জা, রক্তমাংস বুক ভর্তি তুলে নিয়ে ছুটে পালাচ্ছে … Continue reading “শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ছে”

আমাকে হত্যা করো জীবন দাও পাখির শরীর

আমাকে হত্যা করো জীবন দাও পাখির শরীর

অলিখিত স্পর্শের ভেতরেই বেঁচে থাকুক প্রিয় পালিত শব্দেরা। কোনো দুঃখ নেই। জানি ভুলে যাওয়া শব্দ এখন মানুষের প্রিয় পাঠ। হৃদয়ের সুঘ্রাণ মেখে যে শব্দগুচ্ছ ছড়িয়ে দিয়েছিলাম চারিদিকে বাতাসও প্রতিপক্ষ ছিল তার। একদা ভুলে যেতে হয় বলে মানুষেরা ভুলে যায় কাদা ছেনে তুলে আনা কেঁচো কাল- শুশুকের ঝাঁপ। স্মৃতির বয়স বাড়ে, চেয়ে দেখি একটি উদাস ভোর … Continue reading “আমাকে হত্যা করো জীবন দাও পাখির শরীর”

মায়ার পৃথিবী দেবো তোকে মেয়ে

মায়ার পৃথিবী দেবো তোকে মেয়ে

মায়ার পৃথিবী দেবো তোকে মেয়ে। তুই হবি হৃদপিণ্ডে দস্যি বুনোহাঁস! মেয়ে তুই করিস বিচরণ অবাধে সেখানে; তুলিস তুফান! দেহের ভেতর আরেক দেহ পাবি তুই! ভালবাসার প্রচণ্ড বিলাপে যদি হারাই শ্রবণ, তোর বুক হবে ভাষার কোমল সংকেত! বুঝে নেবো, বুঝে যাবো বুকে রেখে বুক, পরাণ কি চায়; যাচে কিসের ফাগুন! মেয়ে দস্যি যদি হোস তবে হবো … Continue reading “মায়ার পৃথিবী দেবো তোকে মেয়ে”

হাত রেখেছি ভুলে তখন অমনি গেছ খুলে

হাত রেখেছি ভুলে তখন অমনি গেছ খুলে

তোমার খোঁপার চুলে হাত দিয়েছি ভুলে ঠিক তখনি খোঁপা গেছে মেঘের মতো খুলে! ডাক দিলে আয় আয় তোমার কোমল গায় সুখের অমন ভ্রমণ শেষে নূপুর দিলাম পায়! তোমার বুকের ফুলে হাত রেখেছি ভুলে, ঠিক তখনি তুমি গেছ মোমের মতো গলে! মেয়ে দস্যি হয়ে ভুলে ঠোঁট নামিয়ে দিলাম ছুঁয়ে তোমার গভীর তিলে!

সুশীলের ভূগোলে লিখেছি প্রবেশ নিষেধ

সুশীলের ভূগোলে লিখেছি প্রবেশ নিষেধ আমি খ্যাতিমানদের সভা সযত্নে এড়িয়ে চলি কেননা, তাদের খ্যাতির আলোর বিচ্ছুরণে আমার ক্ষুদ্র অস্তিত্ব বড় বেশি ফ্যাকাশে লাগে। অবশ্য কুকুরেরাও আজকাল পথসভা করে, পথিমধ্যে একদল নেড়িকুকুর চালায় স্বগোত্রীয় আড্ডাবাজি। সেখানে কয়েকজন প্রভু সাজেন আর বাকিরা সব অনুগত প্রজা। আমি রাজা ও প্রজার বানানো ভূগোলে স্বেচ্ছায় লিখে দিয়েছি প্রবেশ নিষেধ। আমি … Continue reading “সুশীলের ভূগোলে লিখেছি প্রবেশ নিষেধ”

জীবন বৃত্তান্ত

জীবন বৃত্তান্ত কি রকম সুদৃশ্য ঝুলে থাকে জীবনের দেয়ালে মানুষের বৃত্তান্ত গুলো- কত শত জনে, কত কী! আমি উঠে এসেছি হাওরের জল হতে গায়ে মেখে মাছেদের আঁশটের ঘ্রাণ, শালুকের লালা! কাদার শিলালিপি দেখে আমাকে ডেকেছে ভদ্রমহোদয় ‘গেয়ো ভুত কোথাকার’! আমার একটি শূন্যস্থান ছিল জীবনের অমোঘ নিয়তি ছিল, অথচ সেখানে শব্দ সেঁটে দিয়ে কিছু লিখবার মতো … Continue reading “জীবন বৃত্তান্ত”

জলে সন্তরণ

জলে সন্তরণ

জলে সন্তরণ ক্লান্তির ঘোর হতে উঠে আসি তোমার হাওড়ের জলে সচতুর করি স্নান। চৈত্র খরায় তোমার ওষ্ঠে ওষ্ঠ রেখে তৃষ্ণা মেটাই। আমাদের অন্তর জানে উত্তাপের ভাষা জানে শীত গ্রীষ্ম বিষয়ক অনুক্ত শব্দমালা। আমরা নেমে পড়ি, নিবিড় আলিঙ্গনে খসে পড়ে স্বর্গ ও মর্তের আচ্ছাদন। এরপর পরষ্পর পরস্পরে হত্যা লিখি, এবং পুনরায় জীবিত করি। অতঃপর যৌথ নদীর … Continue reading “জলে সন্তরণ”

দহনের শব্দমালা

দহনের শব্দমালা অবহেলায় জন্ম নেওয়া মথের ভেতরেও দেখি সম্ভাবনা অথচ মানুষে দেখি না। এই যে একদল রাজনীতি নামের বেশ্যা কারবারি চতুর বণিক, যাদের বড় জোড় বৃহৎ কোন শপিং মলের সেলস ম্যান কিংবা টি বয় হলে মানাত তারও আজ রাষ্ট্র যন্ত্রের ঘাড়ে অনাহুত চেপে বসা আমাদের স্বপ্ন নির্মাণের ভণ্ড প্রকৌশলী! বড় জোড় তারা অন্তর্বাস বিক্রেতা কিংবা … Continue reading “দহনের শব্দমালা”