অস্তিত্বের খণ্ডন

কৃপণ’রা জীবনে কোন কিছু উপভোগ করতে পারে না। একজন চিন্তাশীল বিবেকবান ও উদার মনের মানুষ তার জগৎ জীবনে ধন-দৌলত অর্থ-সম্পদ নানাবিধ ঐশ্বর্য উপভোগ করতে পারেন। আপনি যখন যথার্থরূপে নিজেকে বুঝতে পারবেন তখন অন্যের সম্পর্কে দারুন সব ধারণা তৈরি হবে। মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে গেলে প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে আপনি সেই সম্পর্কটা অর্থের মাধ্যমে করছেন কিনা।

অর্থের সম্পর্ক সারা জীবন মানুষকে একটা ধূম্র ধোঁয়াশার মায়াজাল এর মধ্যে আবিষ্ট করে। যা অন্তরের চোখ দিয়ে দেখা যায়, অর্থ দিয়ে দেখা যায় না। চোখের সামনে অনেক অনেক সত্য দেখা অনুভবে খারাপ লাগলেও আপনার অন্তরের ভাবনাটা ভুল হতে পারে। আমরা যদি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সেইসব বিষয়গুলোকে বিবেচনা করি এবং নিজের চিন্তাশীল আচরণের দ্বারা সেটি যদি ধৈর্যের সহিত বোঝার চেষ্টা করি সেটা যদি সময় নিয়ে ও হয় তবুও ভালো।

আপনার আগ্রহের বস্তু যেটাই হোক না কেন ভুল চিন্তার জন্য উপশম রয়েছে,, ভুল ধারণার জন্য উপশম রয়েছে, ভুল ভাবনার জন্য উপশম রয়েছে কিন্তু যখন আচমকা অন্যকে ভুল মুঝে তুলে ধরেন সেটা আপনার বোধ, বুদ্ধি ও বিবেক থেকে বাইরে এসে অবিবেচকের মতো আচরণ করছেন। অনুভব করছেন আপনি যা কল্পনা করছেন তার ওপর ভিত্তি করে যদি আপনি সেই বিষয়টি নিয়ে একটি অ্যাকশন এর পর্যায়ে বিবেকে সমাবেশ করেন তবে সেই মুহূর্তে সেটা অবশ্যই ভুল চিন্তার প্রতিফলন।

আমাদের পারস্পারিক জীবনে আমরা নিজেরা নানাভাবে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারি কিন্তু সেগুলোকে নিজেদের ভেতর থেকে মোকাবেলা করতে হবে। যদি আপনি সেই মোকাবেলা টা পরস্পরের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে না করেন তবে সেখানে তৃতীয় পক্ষ দ্বারা এমন একটি ঘটনা ঘটবে যে ঘটনার জন্য কোন এক সময় অনুশোচনায় ভুগতে পারেন। বিবেকের সাথে চিন্তা করার অনুশীলন করায় মানব জীবনের সুফল বয়ে আনতে পারে বোধগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভাবগত জীবনে আপনি কখনোই সত্যকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

সে সত্যটা যদি আপনি ভুল বোঝার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন তবে জীবনের প্রত্যেকটি লক্ষে আপনি হেরে যেতে পারেন। অর্থ মানব জীবনে চলতে গেলে বোঝা পড়ার জন্য প্রয়োজন। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় আপনাকে সফলতার দিকে আনতে পারে আপনি যদি পরিকল্পনার সহিত চিন্তা করেন। তবে সেই চিন্তা গুলো অবশ্যই যথার্থরূপে গ্রহণ হবে। চিন্তার পরিপক্কতা আপনাকে সুদুরপ্রসারী চিন্তার মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনা। যদি সেখানে আপনি আপনার ভাবগত জীবনের বিষয়াদি নিয়ে চিন্তাশীল আচরণের বাইরে গিয়ে অবিবেচক ধারণা পোষণ করেন তবে সেই ক্ষেত্রে আপনি আপনার জীবনে উদার মানসিকতার বৈচিত্র্য উপলব্ধি করতে পারবেন না।

এজন্যই বলা হয় উদার ব্যক্তিরা তার জগত জীবনে সকল ধরনের ঐশ্বর্যকে উপভোগ করতে পারে। মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে গেলে অবশ্যই বিবেক এবং সুন্দর মানসিকতার প্রয়োজন রয়েছে। প্রত্যেকটি আগ্রহের সম্পর্কে নিজেকে সচেতন হতে হবে, বুদ্ধিমান হতে হবে, চিন্তাশীল হতে হবে, বিবেকবান হতে হবে এমনকি বোধ সম্পন্ন হতে হবে তবেই আপনার আগ্রহের যাত্রাপথ অনুকূলে আসবে। যেকোনো অনুকূল পরিবেশে আপনি যাতে নিজেকে খুব সহজে গ্রহণ করতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা আপনার ভাবনা আপনার বিবেক আপনার মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো অবশ্যই সুন্দর ভাবে নিপুণতার সহিত উপলব্ধি করতে হবে। নয়তো তা নিমিষেই ভেস্তে যাবে।

প্রত্যেকটি চিন্তাশীল প্রতিভাবান মানুষ হেরে যেতে পারে না। আবার মানব জীবনে মানুষই একমাত্র যারা অন্যের শক্তির কাছে হেরে যায় সামর্থ্যের কাছে হেরে যায় ক্ষমতার কাছে হেরে যায় জ্ঞানের কাছে হেরে যায়।
কিন্তু সেই হেরে যাওয়াতে অনেক ক্ষতি হলেও একটা মানুষকে কোনদিন পেছন ফিরে তাকানোর অবকাশ রাখা উচিত নয়। মানুষ হেরে গেলেও সামনের দিকে গমন করে আরেকটি ক্ষেত্রে দুর্বল মানুষেরা হেরে গেলে তার সামনে শেষ দেয়ালটি দেখে এবং সে নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়।

চিন্তাশীল মানুষেরা মানবসমাজে যুগের পর যুগ ধরে তাদের সুন্দর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। মানুষ যদি নিজেকে আগ্রহের বস্তু মনে করেন তবে সেটি খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার, মানুষকে হতে হবে আগ্রহী, আগ্রহের মানুষ। যাকে নিয়ে অন্য কেউ চিন্তা করবে অন্য কেউ ভাববে। মানুষ যখন শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে তখন তার ভেতরে অগাধ পরিমাণ স্বার্থপরতা কাজ করে। স্বার্থপরতা সব সময় প্রতিহিংসার দিকে ধাবিত করে যেখানে অপরের চিন্তা-ভাবনা অপরের কথা বলার সুযোগ নস্যাৎ করে দেয়। এরকম অবিবেচক মানুষ সব সময় আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গ্রোথিত হয়ে রয়েছে ওরা কখনোই অন্যের ক্ষেত্রে বিবেচক হয় না। তারা কখনোই অনুভব করতে জানেনা অপরের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া জরুরী।

একজন মানুষ যখন শুধুমাত্র নিজের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তখন তার বক্তব্যকে কোনভাবেই গ্রহণ করছে না তখন সম্পর্কের দরজাটা আপনাআপনি শেষ হয়ে যায়। ভেঙ্গে যায় তছনছ হয়ে যায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এটি যদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থির থাকে তবে জীবনের সব জটিল দিক গুলো পুনরায় তার জীবনে এসে বাসা বাঁধবে যা আর কখনই সেই বিদ্যমান জায়গা থেকে সরে আসবে না।

পরিশেষে যা হবার তাই হবে একটি দূরত্ব একটি দেয়াল একটি বিধ্বস্ত চিন্তা একটি অসামঞ্জস্য ভাবধারা পার অধঃপতনের জন্য দায়ী থাকবে সেটি কারো জন্য কাম্য নয়। তাই বলবো প্রত্যেকটি মানুষকে তাঁদের আপন আপন জায়গা থেকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ সংবেদনশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরী। যখন একজন মানুষের অনুভূতির দেয়াল একদম ক্ষীর্ণ হয় তখন তার মধ্যে কোনভাবেই জাজমেন্ট থাকেনা তারা অ্যাগ্রেসিভ হয় আগ্রাসী হয় এমনকি এমন সব ঘটনা ঘটে যা অন্য কেউ ভাবার সুযোগ পাওয়ার আগেই ঘটে যায়। একজন বোধ সম্পন্ন মানুষ তার বক্তব্যকে যখন বারবার প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে একজন নির্বুদ্ধি পরায়ণ মানুষ তার জায়গা থেকে অটল অনড় এটা তো বিচক্ষণতা নয় এটা তার মস্তিষ্ক গত ভাবনার পরিধি যেখানে চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই।

তাদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক বা অন্য কোন কিছু করাই উচিত নয়। তারা তাদের স্বার্থের বাইরে কখনোই যাবে না, যেতে পারে না। অপরের প্রতি কোনভাবে করুণা দেখানো উচিত নয় তবে অপরের প্রতি সর্বদা সহানুভূতি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেটা যদি কাছের মানুষ আপন জন প্রিয় মানুষ হয় তবে তো অবশ্যই নয়। আমি কাউকেই সেই জায়গা থেকে বিবেচনা করার সমর্থন করতে পারি না। সহানুভূতির পাশাপাশি একজন মানুষকে দায়িত্ববান হতে হবে বিবেকবান হতে হবে সুন্দর মানসিকতার মধ্য দিয়ে সেই মানুষটা যখন অপরের চিন্তাকে বুঝতে পারবে তখনই সেই মানুষটা তার জায়গা থেকে একটি সুন্দর স্থান দখল করে নিতে পারেন।

করুণা বোধ সম্পন্ন না হলেও এটি একজন অন্ধ মানুষের পথ চিনে নেয়ার মতই স্পর্শ কাতর ব্যাপার। কাউকে করুনা না দেখিয়ে তার জায়গা থেকে দায়িত্ববান আচরণ করা প্রকৃত মানুষের কর্ম। যে কর্ম গুনের কোন মূল্য অর্থ-সম্পদ ধন দৌলত দিয়ে নির্ণয় করা যায় না। চিন্তা ও উদার মানসিকতা উদার ভাবনা কিংবা সকল ধরণের প্রতিহিংসাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নিম্ন চিন্তা নির্বুদ্ধিপরায়ন বাকবিতণ্ডা সর্বদা অশুদ্ধ রাখে। নিকৃষ্ট মনোভাবাপন্ন ভাবনা জগতের সবচেয়ে জঘন্যতম কাজের মধ্যে একটি তাই বলবো সব কিছুকে করুনার জায়গা থেকে না দেখলেই ভালো এসকল স্থান গুলো কে সহানুভূতির জায়গায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই জায়গাটা না থাকলে কোনো মানুষই মানুষ হতে পারবে না।

আপনি একজন মৃত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে পারেন না। যদি তাকে সাহায্য করেন তাহলে জীবিত অবস্থায় আপনার জন্য এটি সঠিক কাজ ছিল। জীবিত অবস্থায় যদি সেই মানুষকে আপনি সহানুভূতি দেখান সাহায্যের হাত বাড়ান বন্ধুত্বের নিদর্শন দেখান তাহলে সে মানুষটা মৃত্যুর জায়গা থেকে আরো অনেক বছর বেঁচে থাকার সুযোগ পায়।
দান দুই প্রকার
১. দেখিয়ে দান করা
২. মহৎ উদ্দেশ্যে নিঃস্বার্থভাবে দান করা

দানে স্বার্থ থাকেনা যে দানে স্বার্থ থাকে সে দান গ্রহীতার জন্য বিপদজনক অসম্মানের দায়িত্বের জায়গা থেকে সেদান কখনোই গ্রহণ করা উচিত নয়। আবার যে দামে স্বার্থ থাকেনা যে দান স্বার্থহীন যে দান মানব কল্যাণের জন্য সূচিত হয় রচিত হয় সেই দানের মহত্ব অসীম। আমাদের এই সমাজে কিছু কিছু মানুষ নিজেকে প্রকাশ করার জন্য জাহির করার জন্য নিজের প্রতি অন্যের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য অন্যকে আনুগত্য করনের জন্য অন্যের কাছে ভালো সাজার জন্য দেখিয়ে-দেখিয়ে দান করে এই মানুষেরা এক জায়গায় বুক দেখায় আর অসংখ্য জায়গায় পিঠ দেখিয়ে চলে। এরাই সেই মানুষ যারা আপনার সামনে আপনাকে ভালো বলবে কিন্তু পেছন থেকে আপনাকে মন্দ বাক্য বলতে দ্বিধা করবেনা।

সর্বদা সুযোগসন্ধানী বড় কিছু পাবার জন্য ছোট-ছোট ত্যাগ করে আর সেই ব্যর্থতাকেই তারাতান বলে চালিয়ে যায়। আসলে তারা ভালো কাজে কখনোই আপনাকে সহযোগিতার হাত বাড়াবে না। নিঃস্বার্থ দানশীল মানুষ সর্বদা মানব চক্ষুর আড়ালে বসবাস করার চেষ্টা করে যে মানুষের সমাজে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দান করে সেই মানুষদের প্রতি অন্যের যে দৃষ্টি তা নিতান্তই জগত জীবনের জন্য দারুণ এক উপমা বহন করে। আমরা এই মানুষদের সামনাসামনি কদর করতে না জানলেও আড়াল থেকে তাদের আলোচনা-সমালোচনা দুটোই করা হয় তবুও তারা কখনই থেমে থাকে না তারা থেমে থাকে না অন্যের কথা শুনে। তাই এই মানুষদের মাঝে সর্বদা হাস্যজ্জল মুখ উপলব্ধি হয়।

যাদের ভেতরে অপরের জন্য ভালোবাসার আকুতি বিরাজমান তারা কোনদিনও অন্যের কোন বিপদে পিছুপা হয়না। এ মানুষদের সমাজে কদর না থাকলেও তারা গ্রহীতার হৃদয়ে দীর্ঘকাল বসবাস করে। এটাকে মনুষত্ববোধ বলে; এটাই মনুষত্ববোধ এর প্রথম কর্ম পরিচয় এই কর্মটি প্রত্যেকটি মানুষের ভেতরে যত্নের সহিত লালনপালন করা উচিত। মৃত ব্যক্তির কোন অর্থের প্রয়োজন হয় না যে অনুদান অর্থ সাহায্য মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছবে না সেটি কোন সাহায্য নয় এটি কোনো সহানুভূতি নয়, কোনো সুন্দর কর্মনয়। আপনি কখনও বেওয়ারিশ লাসের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন যদি তা করে থাকেন সেটা অবশ্যই জগতের সবচেয়ে সুন্দর কর্মের একটি।

যে চিন্তা মানব জীবনে ক্ষতি সাধিত করে সে চিন্তা করার চেয়ে না করা ভালো। অভিঘাতের প্রাণান্ত চেষ্টা বড় বড় মানুষকে নিম্ন মানসিকতার পরিচয় এর দিকে ধাবিত করে। সুন্দর মানুষ কখনোই অন্যের ক্ষতির জন্য প্রার্থনা করতে পারে না পক্ষান্তরে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসা মানুষ সর্বদা অন্যের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। জ্ঞান মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় এনে সত্তের দরজা খুলে দেয়। সহৃদয় ভাবনা-চিন্তায় জিহবা কখনও আহত হয় না। দ্রতার মাধ্যমে বিবেক উদিত হয় দ্রতা যখন তার বিবেকের প্রকাশ ঘটায় তার নীতি বা আদর্শের কখনো অনুভব করতে পারে না। কিন্তু অপর প্রান্তের একজন বুদ্ধিমান মানুষ তার জায়গা থেকে ঠিকই অনুভব করতে পারে।

একজন মানুষের দ্বারা যে কোন ভালো কাজ করার পর সেই মানুষটি অন্তর থেকে সুখ বোধ করে। ভদ্র মানুষেরা খুব তীক্ষ্ণ ধারালো বুদ্ধিমান হয় না এমনটা নয় কম কথা বলা মানুষ সমাজের বাইরের এমনটি ভাবা উচিত নয়। ভদ্র মার্জিত মানুষেরা যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই কথা বলার প্রয়াস করে থাকে তবে কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যে মানুষ সারাজীবন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন না হওয়ার কারণে পিছিয়ে যান। এরা পিছিয়ে পড়লেও অন্যের ক্ষতি করবে এমন হৃদয় তাদের ভেতরে জায়গা করতে পারেনা। তাত্ত্বিকভাবে তারা সর্বদা ধৈর্যশীল। এই মানুষেরা এক সময় পিছিয়ে পড়লেও আর একসময় অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে কারণ তাদের ছোট ছোট কর্মই তাদের কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তা করে এবং মজবুত একটা ভিত্তি স্থাপন করতে সহায়তা করে যা ভাঙ্গার কোন প্রয়াস রাখে না।

জীবন চলার পথে অনেক মানুষকে সামনে পাওয়া যায় যাঁরা নিজেদের সুবিধার্থে সর্বদা ঊর্ধ্বমুখী। মানুষেরা অন্যকে বিপদে ফেলতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনা। এ মানুষেরা যখন কোন পরিবারে প্রবেশ করবে সেই পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছারখার করে দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনা। এরা নিজেরাও বুঝতে পারে কিনা তারা কখন কি ধরনের আচরণ করছে এমনকি পণ্যের ভালো তাদের চক্ষুশূল হয়ে থাকে এরা অন্যের ভালো কিছু দেখলে আফসোস ফেটে পড়েন এমনকি তাকে অপমান করার জন্য উদ্যত হয় যেকোনো মূল্যে ক্ষতি করার জন্য পিছপা হন না। আসলে পচনশীল হৃদয় কখনোই মমতা বা সমতার গান শুনতে পান না তারা তাদের নিজের চিন্তা জায়গা থেকে বধির হন। কখনোই তাদের চোখ দ্বারা সুন্দর দৃষ্টিতে তাকানো উপমা খুঁজে পায় না এরা সর্বদা ব্যর্থ জীবনের পথে নিজেদের ধাবিত করে যা তাদের জীবনকে অন্ধকারের পথে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।

এই মানুষের একটা সময় একুল ওকুল সব কুল হারিয়ে পথে বসে কিন্তু তবুও যদি তাদের হৃদয়ে একবার সেই অনুশোচনা একবার সেই ভাবনাটা তাদের ভেতরে উপলব্ধি হতো তবে তাদের নতুন করে সুন্দর একটি জীবন শুরু করার দারুন একটা সম্ভাবনা থাকে। এটাতো আমাদের হিসাবের কথা। তারা কখনোই এই পর্যায়ে যেতে পারে না। ছোটখাটো ব্যাপারেও অনেক জটিল এবং কঠিন পরিস্থিতি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে এজন্য এদের সাথে অতিরিক্ত ভাবে কোনো কথা না বলাই শ্রেয়। তাদের সাথে প্রয়োজনের বাইরে যখনই আপনি কোন কথা বলতে যাবেন তখনই তারা তাদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে পড়ে এবং একটা সময় আপনি আপনার অস্তিত্বকে অনুপস্থিতির দাঁড়া অনুভূতি শূন্য হৃদয় খুঁজে পাবেন। সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এর সমাহার অত্যন্ত দীর্ঘ। এই মানুষেরা সারা জীবন নিজেদের ভেতরে যা কিছু রয়েছে তার সবটুকু আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অতিবাহিত করে এদের কষ্টের সীমা অসীম হলেও এদের কোন দুঃখ অনুশোচনা হারানোর ব্যথা জাগ্রত হয় না।

কারণ তারা জানে তার সামর্থ, তারা জানে তাদের কি করতে হবে তারা জানে তাদের জীবন কিভাবে পরিচালনা হবে এবং তারা জানে তাদের জীবনকে কিভাবে অন্যের মাঝে টিকিয়ে রাখতে গেলে বন্টন করতে হবে।
তারাই প্রকৃত মানুষ প্রকৃত মানুষরা কখনোই সমাজের আলোড়িত ব্যক্তির মধ্যে ওঠা বসা করতে পারেনা এই মানুষেরা লোকচক্ষুর আড়ালেই নিজেদেরকে রাখতে অভ্যস্ত তাই তাদের মানুষ সমাজে খুব কমই উপলব্ধি হয়। বস্তুতঃ তাদের দেবতুল্য জীবনকে খন্ডন করা যেতে পারে।

আমাদের এই অস্তিত্বশীল জীবনে কষ্ট মানুষকে দুর্দান্ত কিছু নরক যন্ত্রণার উপহার দেয়। আমি ইহকাল অনুভব করি না পরকাল। আমি অনুভব করি আজ এবং আগামীকাল। আজও আগামীকাল সেটি অন্যের ও হতে পারে।
এ দু এর মাঝখানে ইহকাল এবং পরকাল বিদ্যমান। আজ এবং আগামীকাল আপনি যদি সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হন নিজের বিবেকের মাধ্যমে নিজেকে নিজের অস্তিত্বের তারা পথ দেখান তবেই আপনি আপনার ইহকাল এবং পরকালকে সুশোভিত করতে পারেন।

আত্মসম্মান ও ভালোবাসা, টাকা পয়সা অর্থ-সম্পদ ধন-দৌলত এ সবকিছু নিজের ক্ষমতাবলে করায়ত্ত করা যায় তবে জীবনে এমন কিছু জিনিস রয়েছে যে জিনিস একবার যদি হারিয়ে যায় একবার যদি চলে যায় একবার যদি হাতছাড়া হয়ে যায়। একবার যদি প্রতারণা মাধ্যমে তা নিজের থেকে দূরে চলে যায় আর তাকে যদি ভালবাসার গভীর মসনদটি তার নামেই দিয়ে দেয়া হয় তার পরেও সে যদি সেই জীবন থেকে সেই মানুষটার নিকট থেকে চলে যায় তাহলে তার জীবন যাপনের সব সৌন্দর্য নিমিষের মধ্যে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোর সাথে মিশে যায়। কিন্তু সেটা যদি আপনজনদের নিকট থেকে পাওয়া কষ্ট যন্ত্রণা হয় তাহলে আরও কঠিন থেকে কঠিনতর জীবন যাপনের পথ উন্মোচিত করে যা আর কখনো সুন্দর স্বচ্ছ ও সোজা পথ তৈরি করতে পারে না।

মানবজীবনে অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গেলে আপনাকে অবশ্যই বিবেকের পথে বিচক্ষণতার সহিত হাঁটতে হবে এগিয়ে যেতে হবে যার কোন বিকল্প নেই। মানুষ অমর হতে পারে না তার কর্মগুণ অমর হয় অমর করে দেয় অমর করে রাখে যে কারণে মৃত্যুর হাজার বছর পরেও মানুষ টিকে থাকে পৃথিবীর এই বৈভবে যে সমৃদ্ধ সুনীতি তিনি তৈরি করে গেছেন এই মসনদের তিনিই হোন একমাত্র রাজা।

GD Star Rating
loading...
GD Star Rating
loading...
অস্তিত্বের খণ্ডন, 5.0 out of 5 based on 2 ratings
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

১টি মন্তব্য (লেখকের ০টি) | ১ জন মন্তব্যকারী

  1. মুরুব্বী : ১৭-১০-২০২১ | ২১:১১ |

    “অবিবেচক মানুষ সব সময় আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গ্রোথিত হয়ে রয়েছে ওরা কখনোই অন্যের ক্ষেত্রে বিবেচক হয় না। তারা কখনোই অনুভব করতে জানেনা অপরের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া জরুরী।” সহমত প্রিয় শামীম বখতিয়ার। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

    GD Star Rating
    loading...