কিছু বই আছে যে বইয়ের শব্দগুলো মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছেনি। সেই বইয়ের মলাট হয়তোবা কেউ খুলেও দেখেনি। হতে পারে এমন কোন বই আছে যে বইগুলোর মধ্যে একাত্তরের সেই ইতিহাস হতে শুরু করে অনেক অজানা সত্য আছে যা আমাদের বর্তমান সময়ের মানুষদের অজানাই রয়ে গেছে।
বইটির লেখক। এ. আর. ভূঁইয়া। বইটির নাম ‘গ ণ ত ন্ত্রে র ক ব র’

আমরা ইতিহাসকে কাছ থেকে না দেখলেও দলীয় হাইব্রিড ইতিহাসবিদরা যা লিখে গেছে হতে পারে সে গুলোকে আমরা বেশি প্রাধান্য দেই। কিন্তু তার পরেও কিছু নিরপেক্ষ মানুষ কিছু বই লিখে গেছেন যে বইগুলো সেই সময়ে বাজারে বিক্রি করার মত অবস্থা ছিল না। সেটা সেই সময়ের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও পরিবেশের কারণে তেমনি একটি বই “গণতন্ত্রের কবর” বইটির লেখক সত্বাধিকারী শুধুমাত্র লেখক নিজে। বইটি লেখক তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখেছেন কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীকে উপহার ছাড়া বিক্রির অনুমোদন দেননি। আমার সৌভাগ্য বইটি আমার কাছে আছে।

বাকিটা পড়লে হয়তো আপনারা জানতে পারবেন বুঝতে পারবেন সেই সময়ের প্রেক্ষাপট গুলো কি রকম ছিল। মানুষের মূল্যবান জীবনের পরিবর্তন কিভাবে ঘটেছে। মানুষ কতটা অসহায় ছিল কতটা নির্যাতিত ছিল কতটা দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে তাদের জীবন।

এই বইয়ের কিছু কিছু লেখা আমি ট্রান্সলেট করে আপনাদের মাঝে পরিবেশন করবো।

গণতন্ত্রের কবর
– এ. আর. ভূঁইয়া।

শেখ মুজিবের শাসনামল।
১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর ২৬ শে মার্চ থেকে শুরু করেন এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র জমা নেওয়া। লক্ষ লক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সব অস্ত্রশস্ত্র জমা দিতে থাকেন কিন্তু একটা শ্রেণি তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র জমা দেয়নি। রাতের অন্ধকারে প্রকাশ্য দিবালোকে যখন সুযোগ পেয়েছে তখনই তারা ডাকাতি খুন, রাহাজানি এবং ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে ৫ লক্ষ লোককে তারা হত্যা করেছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ আর রহমান তাঁর বইতে এই প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছিলেন এই শ্রেণি কারা? কে তাদের নেতৃত্ব দিত? শেখ মুজিব দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন যুদ্ধের পর একটি নব্য স্বাধীন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থা খুব শোচনীয় আকার ধারণ করে। পাকিস্তানি সৈন্যরা এবং তাদের এ দেশীয় দালালচক্র ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করেছিল। যুদ্ধে রাস্তাঘাট সবকিছু ধ্বংস হয়েছিল। চারদিকে শুধু হাহাকার আর হাহাকার। বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী, অর্থ, খাদ্য, বস্ত্র সাহায্য আসতে থাকে।

সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য যে সাহায্য প্রয়োজন ছিল তার দ্বিগুণ সাহায্য বাংলাদেশ পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা কালোবাজারে সেগুলো বিক্রি করে দেয়। তারা নামমাত্র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে থাকে মানুষ। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করে লক্ষাধিক মানুষ। দেশে আইন বলতে কিছু থাকে না। ক্ষমতাশালীরা আইনকে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। শাসন ব্যবস্থা করুন পরিণতি দেখা যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এদেশ সফরে এসে বলেছিলেন “Bangladesh is a bottomless basket” অর্থাৎ বাংলাদেশ একটা তলাবিহীন ঝুড়ি। এর অর্থ বাংলাদেশকে যতই সাহায্য করা হোক না কেন উপকারে আসবেনা। লুটেরা বাহিনী খেয়ে ফেলবে। শুধু হেনরি কিসিঞ্জার নয় স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন ৮ কোটি কম্বল, সাড়ে সাত কোটি মানুষ, আমারটি কোথায়? প্রকৃতপক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাই প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ত্রাণ সামগ্রী লুট করে ভারতে বিক্রি করে।

এ দেশের গরীব, অসহায় মানুষেরা ঠিকমতো সাহায্য পায়নি, তাদের লুট খুন-ধর্ষণ জালিয়াতির মাত্রা এতটাই সীমালংঘন করেছিল যে স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন “সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।”

শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল পর্যালোচনা করে দেখা যায় এই বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের অন্য কোন দেশেও এইরূপ অরাজকতা কখনো সৃষ্টি হয়নি। মানুষ শেখ মুজিবের কাছে কি চেয়েছিল? আর কি পেয়েছিল? যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, চিকিৎসার কোনো উন্নতি, হয়নি বাসস্থানের কোন উন্নতি হয়নি, কৃষিকাজে কোন উন্নতি হয়নি, কল-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি।

এমনকি বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় আসার পর গণমাধ্যমকে গলা চেপে ধরা হয়েছিল। মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেনি মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারেনি, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি।

তাহলে মানুষ কি চেয়েছিল? আর কি পেয়েছিল? কি জন্য ২৫ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এই স্বাধীনতার নামে জাতির সাথে প্রতারণা? এই কি সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শাসন এই কি সেই ২৫ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশ?

GD Star Rating
loading...
GD Star Rating
loading...

শামীম বখতিয়ার সম্পর্কে

মুক্তধারায় জেগে ওঠা মানুষ।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুবাদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

৩ টি মন্তব্য আমাদের কিছু জানা ও কিছু অজানা ইতিহাস

  1. ফয়জুল মহী বলেছেনঃ

    বাস্তবতার যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণ, সুন্দর হয়েছে।

    GD Star Rating
    loading...
  2. মুরুব্বী বলেছেনঃ

    প্রশ্নটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এর উত্তর কখনও পাওয়া যাবে না। Frown

    GD Star Rating
    loading...
  3. নিতাই বাবু বলেছেনঃ

    জানা হলো অনেককিছু। তবে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! শুভকামনা থাকলো।

    GD Star Rating
    loading...

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।