রোমেল আজিজ-এর ব্লগ

শখের বশে কবিতা লেখা শুরু, কিন্তু নিজেকে কবি বলে পরিচয় দেন না। প্রচুর বই পড়েন, বই পড়া পছন্দ করেন, শুধুমাত্র কবিতার বই নয় যেকোন বই। আর মাঝে মধ্যে টুকিটাক লেখালেখি। বর্তমানে শখের বশেই সম্পাদনার সাথে যুক্ত আছেন “দ্বিপ্রহর” কবিতা ও গল্প সংকলন এবং “দ্বিপ্রহর” ম্যাগাজিনের সাথে।

প্রিয় কবি জীবননান্দ দাশ, এছাড়া রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব বসু, হেলাল হাফিজ, শামসুর রাহমান, সুনীল, আবুল হাসানের কবিতাও প্রিয়। প্রিয় উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পড়ালেখা ছাড়া বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, পছন্দ করেন একা একা বেড়াতে। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ঘুম আর অপ্রিয় জিনিস ধর্মীয় তর্ক….

কাঁচপোকাদের অজানা কথা
এক শুদ্ধ কাঁচপোকা হারানোর কষ্ট
জমাট বেঁধে থাকে কিছু বুকে,
মৃত উল্কাপিন্ড যখন ঝরে পড়ে
মধ্য রাতে দক্ষিণ আকাশে,
তখন হারানো সময় গুলোর দুঃখ
পানি হয়ে জমে ক্লান্ত চোখ গুলোতে। পাওয়া না পাওয়ার জটিল সমীকরণ
বুঝেনা ক্ষুধার্ত উদর,
ছল ছলে চোখ গুলোর ভাষা বুঝে না
শহুরে রাক্ষসী অতৃপ্ত আত্মাগুলো। তাই দিন শেষ নিজেকে বিকায়
জীবন পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৪৩ বার দেখা | ৫৩ শব্দ
নক্ষত্রেরা জেগে রয়
মৃত্যুকে মৃত্যু দিয়ে হত্যা করে
ছুটে চলছি নীল জোছনায় অবিরাম,
দিন গুলি আর ফিরে আসবেনা জানি
হারিয়ে যাচ্ছি তাই এই রূপালী বন্যায়। নক্ষত্রেরা জেগে রয় দীপ জ্বেলে
তাহাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৪৭ বার দেখা | ২৬ শব্দ
এদিক সেদিক…
এদিক সেদিক চলতে চলতে
উদ্ভ্রান্ত আমি, না না দিকভ্রান্ত;
চলতে চলতে, এদিক সেদিক জলে জল খুঁজতে খুঁজতে
ডুবছি আমি, না না ডুবছে তরী;
খুঁজতে খুঁজতে, এদিক সেদিক… মেঘে মেঘ দেখতে দেখতে
ভিজছি আমি, না না ভিজছো তুমি;
দেখতে দেখতে, এদিক সেদিক… পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৪০ বার দেখা | ৩৩ শব্দ
যাপিত জীবন
যাপিত জীবন
সে দিন হয়তোবা অসময়ে
গাইছিলো ভুল পাখিটা,
যদিও শরতের জোছনা রাত ছিল
তবুও ছিল কালপুরুষ।
জানি না কার বিহনে
জেগে থাকে নীল মেঘ,
কোন স্রোতে যায় ভেসে
আনমনা গাংচিল। সেদিনও সোনা ঝড়া রোদ ছিল,
ছিল রাতে বারবনিতার চুড়ি।
তোর সেই চিরচেনা
শহুরে রাস্তায় ছিল
সারাদিন অলস ট্রাফিক। ছিল কুকুর ডাস্টবিনের ধারে,
ছিল ছিন্নমূল শিশু
মানবিকতার পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | ৪১ বার দেখা | ৪২ শব্দ ১টি ছবি
অসম সমীকরণ
শুক্লপক্ষের দ্বাদশ তিথির চাঁদটা
যতোই জোছনা ঝরাক না কেন
তোর শহরে এই রাত্রি দ্বিপ্রহরে,
তবুও জেগে থাকে অসময়ে
এক অভিশপ্ত ক্লান্ত হৃদয়
পুরনো ব্যাথা গুলো বয়ে। অভিশাপ দিলেও
তবুও যে জীবন যায় কেটে,
জীবনের অসম সমীকরণে। পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৩৩ বার দেখা | ২৮ শব্দ
অনল ও অন্ধকার
অনল ও অন্ধকার
অন্ধকার রাত্রিরও,
ভয় থাকে মানুষের।
সে তো জানে –
আদিম মানুষের হাতেই,
পরাজিত হয়েছিল –
তার পূর্বসূরী একদিন। পাথুরে প্রকোষ্ঠের বৃত্তে বন্দী
আদিম মানুষের ভয় গুলো,
গিয়েছিল মুছে সেদিন ;
যেদিন এসেছিল অনল
সভ্যতাহীন যাযাবর সমাজে। এ অনলের হাত ধরেই
একদিন এসেছিল সভ্যতা,
এসেছিল একদিন
নাগরিক জীবনের নামে
অলীক অধুনিকতা। সেই অনলেই এখন আবার
পুড়ছে আমার স্বদেশ,
পড়ে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ২৪ বার দেখা | ৪৩ শব্দ ১টি ছবি
আঁধারকে ভালোবেসে
আঁধারকে ভালোবেসে
জেগে থাকে সারা রাত্রি, 
নিঃসঙ্গ তারা একাকী।  সুহাসিনীর মুছে যাওয়া হাসি
সরে যায় দূর থেকে দূরে,
ঝড়ো জলে নেভে বাতি
তপোবনে হারায় জোনাকি।
তবুও সুহাসিনীরা থাকে জেগে –
অন্ধকারে সারা রাত্রি
নিঃসঙ্গ একাকী, শুধুই
আঁধারকে ভালোবেসে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৩৯ বার দেখা | ২৮ শব্দ
মাঝি ভালোবাসিস না
মাঝি ভালোবাসিস না
মাঝি ভুল করিস না
দুপুরের গায়ে অন্তহীন কুয়াশার চাদর ঢেকে দিলেও
সুসান দুপুরই থাকে,
তা কখনো স্নিগ্ধ সকাল হয় না। মাঝি পথ হারাস না
অমাবশ্যার আকাশে হাজার জোনাকি সেলাই করে দিলেও
আঁধার রাতই থাকে, 
তা কখনো রংধনু মাখা বিকেল হয় না। মাঝি তার হাত ধরিস না
হাত বদলিয়ে মধুর পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৮১ বার দেখা | ৫৩ শব্দ ১টি ছবি
দূর কোথাও
মধ্যরাতে দক্ষিণ জানালা
হয়ে যায় কালের আয়না,
রাস্তা নেড়ি কুকুরের গর্জনে
ঢেকে যায় লঞ্চের হুইসেল। জ্বলে লাল নীল হলুদ বাতি
রেন্টাল, কুইক রেন্টাল, 
পাওয়ার হাউজের উপর। ম্রিয়মান উদাস তারা ভাসে, 
সপ্তর্ষিহীন আঁধার আকাশে। 
গলায় নামে তরল আগুন
রক্ত রংয়ে মগজ ঘোলাটে
ফুসফুস ভরা ধোঁয়ার বিষে,
মাথার ভিতর ঘুরছে যেন –
দূর কোথাও 
কে হাসে, কে হাসে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৩০ বার দেখা | ৪২ শব্দ
নিঃসঙ্গতার গান
ঘুম ভাঙা মাঝরাতে 
উথালপাথাল বৈশাখী বাতাসের
প্রতিটা আলোড়নই,
যেভাবে হাহাকার বয়ে দিয়ে যায়।
রাত্রি দ্বিপ্রহরের
দক্ষিণ আকাশে তারা বিহীন চাঁদটার
প্রতিটা আলোর বিন্দু
ঠিক সেভাবেই গেয়ে যায়
একাকী নিঃসঙ্গতার গান পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ২৮ বার দেখা | ২২ শব্দ
বিভক্তি না অনুসৃতা?
গুনগুনিয়ে অনেকক্ষণ থেকেই মুখস্থ করছিলাম
‘বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপাদিক বলে’।
প্রাতিপাদিক তো ঢের দূরের জিনিস
আজো বুঝলাম না বিভক্তির রহস্য। আচ্ছা বিভক্তি কি মানুষের সম্পর্কের মতো?
যেখানে বয়ে গেছে অচিন নদী
ত্রস্ত স্রোতের মায়াজাল বিছিয়ে,
তোর আর আমার মাঝে? জানিস অনুসৃতা;
বৃদ্ধ মৃত নদীকে বাঁধ দিয়ে
বশ মানাতে যায় না কেউ,
বশ মানানো হয় –
স্রোতস্বিনী পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৩৬ বার দেখা | ৪৭ শব্দ
অভিযোজন
ছাদ-জানালা-দরোজা বিহীন ঘরকে কি
অন্তঃপুর যায় বলা ?
তবে এ কোন অপার্থিব অনুভূতি ছিল,
যখন সেই অন্তঃপুরে –
রাতদিন তোমায় থাকতাম ঘিরে ? চলে যাওয়ার ক্ষণিক সময়টাতেও
তুমি বলেছিলে, “ভালোবাসি”
আমি বলেছিলাম, “বন্ধুত্ব?”
তোমার উত্তরে ছিল শুধু –
অধর বেয়ে বয়ে চলা জল! তুমি চলে যাওয়ার পর –
কেটে গেছে অনেক সময়।
যেই কণ্ঠ না শুনে
একটা পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৫৩ বার দেখা | ৭২ শব্দ
অনুশোচনা
আততায়ীর তপ্ত বুলেট
মেহেদী রাঙ্গা না হলেও,
রঙ যে হারায় লোহিতে। কামারের হাপড়ের মত
আচমকা থামে হৃদকম্পন।
অশ্রুসজল চোখে ভাসে
চক, ড্রাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড;
পুকুর ভর্তি স্বচ্ছ জল।
চিনচিনে তীব্র ব্যাথা
মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায়,
সময় হয়েছে তোর। এইতো সেদিনও তুই ছিলি
হাসিমুখে থাকা নোংরা মিথ্যুক,
আজকেও কী তুই তা ছিলি না! শুভ্র পোষাক গায়ে জড়ালে তো
মনের কদর্যতা যায় না পড়ুন
কবিতা | | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭০ বার দেখা | ৫৯ শব্দ
বিষণ্নতায় আক্রান্ত সময়
জীবন একটা বিষণ্ণ ফুটবল,
কখনো সট্রাইকারে মুখে
গোল পাওয়ার হাসি ;
কখনোবা ডিফেন্ডারের লাথি !
কখনোবা আবার জড়ায়ে বুকে
গোলকিপারের মতো
পিঠে ফের কষায় লাথি। ঘুরে সময়, গড়ায় জীবন
কমে না অহংকারীর আস্ফালন ।
এরই মাঝে কেটে যায়
কিছু নিরহংকারীর দিন,
অফসাইডের নিয়ম গলে –
রোদ -বৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে
ফুটো হওয়া ফুটবলের মতোই
ধুঁকে ধুঁকে গড়ায়ে। পড়ুন
কবিতা | | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৪ বার দেখা | ৪২ শব্দ
স্বাধীন দেশে শকুনের রাজত্বে
সভ্যতার বোতলে বন্দী
অসহায় বলগা হরিণ,
মুক্ত আকাশে উড়ে
শকুনের দল সীমাহীন। ঢেকে যায় চরাচর
চেতনা তো অসীম,
তারা কিছু পায় না
যারা করে স্বাধীন। ময়ূর পুচ্ছ্ব যদি থাকে
কিসের আবার দুর্দিন,
কাক ময়ূর একাকার
দেশটাতো স্বাধীন। শকুনের হাতে উড়ে
লাল সবুজ বাঁধাহীন,
চেয়ে রয় নির্বাক
শহীদ জননী ভাষাহীন। এদেশ তো ভুলে গ্যাছে
প্রাণ দিল যারা প্রতিদানহীন,
তালে তেলে সয়লাব
দেশটাতো স্বাধীন ! পড়ুন
কবিতা | | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৪ বার দেখা | ৪৪ শব্দ