নাজনীন খলিল-এর ব্লগ
মাত্র একটি শব্দ-উচ্চারণের হেরফের
মাত্র একটি শব্দ-উচ্চারণের হেরফের তেমন করে যাওয়া হয়না।
কোন সীমাহীনেই তো হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম————-
গন্তব্যবিহীন এক ট্রেনের হুইসেল যখন বেজে ওঠে,
বলি–একটু থামো।ভেবে দেখি আর আমার নেবার মতো কিছু বাকী আছে কিনা। নিতান্ত প্রকৃতির খেয়ালে বেড়ে ওঠা অশ্বত্থ–কতদূর তার শিকড় ছড়ায়
কেমন রাশি রাশি নেমে আসা ঝুরি-জটাগুলো ঘিরে রাখে তার পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ১৬ বার দেখা | ৯৪ শব্দ
হরস্কোপ
হরস্কোপ ভাবছি একটা খাঁচাবন্ধী টিয়া হাতে
বসে যাবো রাস্তার পাশে।
তুমি বলতে পারো
এসব ভাগ্যগণনা,
হরস্কোপ টোপ সব বাজে কথা,
কুসংস্কার!
কিন্তু আমি তোমাকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি
টিয়ার ঠোঁটে তুলে নেওয়া রংগীন কাগজে
বিশ্বাস রেখো।
সময়ের শবদেহ ক্ষমা চায় শুধু
অবিরত ক্ষমা করতে করতে
একবার আয়নার সামনে দাঁড়াই;
ক্ষমাহীন সব কালশিরা ফোটে আছে।
কেবল নিজেকেই ক্ষমা করা পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ১৪ বার দেখা | ৫২ শব্দ
তীব্র বাজাও তবে
তীব্র বাজাও তবে তুমি হুইসেল বাজাতে জানো?
নিমেষে খান খান
ভেঙ্গে ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করতে পারো
স্থবির পাথরের জগদ্দল স্তব্ধতা?
একটি আকাশপাতাল জোড়া খাতা খুলে বসে আছি।
অমিয়ঘোরে নিষিক্ত নতুন শব্দ লেখা হোক কিছু
এমন ভাবতে ভাবতে
চুরি হয়ে গেলো ভৈঁরো রাগে বাঁধা বেলীর সুগন্ধ।
বাতাসের কানে কানে রেখে দেই তবে
কিছু নীরবতা। পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ১৬ বার দেখা | ৪৩ শব্দ
স্যুভেনির
স্যুভেনির তোমার শহরের মানচিত্র আঁকছিলাম দীর্ঘক্ষণ
সাদা কাগজে অবিরত পেন্সিলের উল্টোপিঠ ঘষে গেছি ;
কোন দাগ পড়েনি কোথাও।
ছায়াঘন চোখের রাজপথ থেকে
গলি-উপগলি পেরিয়ে
এক গভীর উদ্যানের সাথে
মিশে গেছে যে অঙ্গুলি-নির্দেশ
কোন আঁচড়ের টানে যায়না ধরে রাখা তাকে। নিমগ্ন পাঠে খুঁজেছি
শব্দের অর্ধস্ফুট বর্ণমালার ঘ্রাণ।
যন্ত্রণা গুলোকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে
একটা হট্টগোলের পৃথিবীতে চলে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪২ বার দেখা | ৭৮ শব্দ
চশমার কাঁচের ছবি
চশমার কাঁচের ছবি তখন হাঁটছিলাম রংধনুর পথে
এতোটুকু বাজেনি দুর্লঙ্ঘ্য অতিক্রমের কোন ব্যাথা,
পথের দুপাশে থোকা থোকা
বর্ণালী রডোডেনড্রন ফুটেছিল।
এক উল্লসিত পুষ্পবিহার শেষে
চিহ্নিত হলো পায়ের পাতার গাঢ় ক্ষতদাগ।
খুব দ্রুত ঝরে পড়ে সোনালি পরাগ, তাই
ডানায় খুশীর সুগন্ধ মেখে প্রজাপতি উড়ে গেলে
ঈর্ষা হয়।
সেই থেকে
সোনালি নূপুরের একফোঁটা দ্বেষণার মেঘ,
সযতনে আগলে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৩ বার দেখা | ৬৫ শব্দ
ক্যারিকেচার
ক্যারিকেচার এক ঢেউসমুদ্রের খুব মন কেমন করা অন্ধকারে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে নিষিদ্ধ করে দিতে
জানালার ফাঁক গলে অনাহুত ঢুকে পড়া
আবছা চাঁদের ছড়ানোছিটানো পাপড়িগুলো।
দূরে কোথাও একটি ‘পিউ কাহা’র কুহুতান
থেকে থেকে নাহয় ডেকেই গেলো অনিবার। যখন আগাপাছতলা দেখে নিলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন ;
মনে হলো এই দিনযাপনের ছবিটা
উদভ্রান্ত পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩২ বার দেখা | ১৩৬ শব্দ
বৃক্ষের মতো
বৃক্ষের মতো ছায়া বাঁকানো পথটা চলতে চলতে
কোথাও না কোথাও হুটহাট ঢুকে পড়বে
কোন অচেনা গলিতে। ক্রমশঃ সাহসী হয়ে উঠা মুমূর্ষু গাছ
আনকোরা কুঁড়ি ও পল্লবের জেগে ওঠা ;
এসব দেখলে —
স্বপ্ন দেখার সাহস ফিরে আসে। ত্রাস কেটে যায়। গ্লেসিয়ারে অনিচ্ছুক ঢুকে পড়া
মত্ত তুষার ঝটিকার হাড়ভেদী হিমের কীলক
মৃত্যুভয়ে কেঁপে ওঠা ; পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩১ বার দেখা | ৫৭ শব্দ
ইনকগনিটো
ইনকগনিটো সবাই সতর্ক খেলছে। চেস, ট্রাম্পকার্ড, হাউজির খেলা।
ছায়ার অন্তর্গত ভিন্ন ছায়াবাজির খেল ;
ইন্দ্রজাল আর ছদ্মবেশের চৌকাঠে
পা আটকে যাচ্ছে বারবার। হয়তো-
তোমার পিংক বাথটাবেরকানাভর্তি স্বচ্ছতার
আড়ালে আছে কোন প্রাণঘাতী দাহক ;
উপুড় অডি কোলনের শিশি ঢাললেই
রুদ্ধ হবেনা তার জ্বলন স্বভাব।
বিপরীতে –
গায়ে ভীতিকর রোঁয়া ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে
ভয় দেখাচ্ছে যে হত কুৎসিত শুঁয়াপোকা পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩২ বার দেখা | ১০৫ শব্দ
সসেমিরা সময়
সসেমিরা সময় গোপন কোঠরে চুপচাপ বসে থাকি ;
আমার চারপাশে গল্প তৈরি হয়
গাছের, ছায়ার, ঝরাপাতা আর শামুকের।
অঙ্গন
তার ছায়ার ভেতরে টেনে নিয়েছে,
একটি গাছ
ডালপালাসহ পাখির ছোট্ট ঘর।
পাতার উপরে পাতা ঝরে গেলে
আধো আধো নূপুরধ্বনি বাজে ;
যেন
তবলার বোলের অপেক্ষায় তৈরি নাচের মেয়েরা
আনমনা টুকছে
অস্থির আলতো পায়ের ঘুঙুর।
বৃক্ষের এই ছায়ামগ্ন বিলাসের পড়ুন
কবিতা | ৫ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৮ বার দেখা | ৯৬ শব্দ
একবার কড়া নাড়লেই
একবার কড়া নাড়লেই আছি
এক মায়াবী স্বপ্নের কোলাহলে। একবার কড়া নাড়লেই
আবার খুলবে দরোজা
বেজে যাবে সুর;
ধ্রুপদী গানগুলো মনে পড়ে যাবে। সেই বিকেল
সেই গুনগুন
রবীন্দ্রনাথ। দৃশ্যের ভেতরে ঢুকে পড়বে
গলির সমস্ত হৈ চৈ সহ দুষ্টু বালক- বালিকা,
কর্কশ কাকগুলো ডেকে ডেকে উড়ে যাবে,
দানা খুটে খেতে ঘাসে নামবে শালিখের পাল,
দেওয়ালে জিমন্যাস্টের মতো হাঁটবে
পাশের বাড়ির বেড়ালটা,
আচমকা পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৪ বার দেখা | ৫৮ শব্দ
বেঁচে থাকি অন্য জগতে
বেঁচে থাকি অন্য জগতে স্বপ্নের ভুল?
স্বপ্নের আবার ভুল-শুদ্ধ কি? থাক তবে এমনি অন্ধকার লোডশেডিং য়ের এই রাত।
জ্বালবোনা মোমদানে কোন বাতি
ক্ষয়ে ক্ষয়ে মোম কেন এমন ব্যাকুল কেঁদে যাবে?
দূরে কোথাও বেজে যায়
চেনা-অচেনার দোলাচলে হু হু করা এক সুর
আমাকে খুঁজতে দাও সেটা কোন গান।
আলোর ঝলক দিয়ে দেখতে চাইনা কোন পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৭ বার দেখা | ১০৩ শব্দ
নদীর প্রকৃত নাম
পাশ থেকে খুব সন্তর্পণে উঠে চলে গেলে কেউ ;
ধুলোয় কেবল একটুখানি পদচিহ্ন আঁকা থাকে,
কোন পদধ্বনি বাজেনা। একটা হাহাকার গড়িয়ে গড়িয়ে নামে জলের তারল্যে
তবু পাথরের কাঠিন্যে হাত রেখে বসে আছি।
ছায়াটাকে দু’ ভাগ করে,
এক খন্ড যত্রতত্র বিলিয়ে দিয়েছি
বাকীটা নাহয় থাকলো আমার কাছে। সব খেলার একটা শৈশব থাকে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৭ বার দেখা | ৬৯ শব্দ
ইল্যুসন
ইল্যুসন হ্যাঁ তোমাকেইতো!
যুগ যুগ ধরে খুঁজেছি তোমাকেই।
শুধু যুগ? অনন্ত মহাকাল নয় কেন?
চেনাঅচেনা সমস্ত মুখের ভীড়ে তোমার আদল
ব্যস্ত সড়ক পার হতে হতে
প্রতিটি পথিকের দিকে খরচোখে তাকিয়েছি।
তুমি কোথাও ছিলেনা। হয়তো থাকোইনা।
তুমি যে থাকোনা — তুমি যে অলীক
কেউ বললোনা সে কথা। অনেকেই জানে।
হয়তো বড়রাস্তার ওই যে পাগলটা
মাঝেমাঝে মুখোমুখি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৪ বার দেখা | ৮৩ শব্দ
বন্ধ্যা কমলাগাছটির গান: ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা
বন্ধ্যা কমলাগাছটির গান–ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা বাংলা অনুবাদ : নাজনীন খলিল কাঠঠোকরা,
আমাকে বিচ্ছিন্ন করো আমার ছায়া থেকে ,
এই নিস্ফলা যন্ত্রনা থেকে
মুক্ত করো আমাকে ।
কেন জন্ম নিলাম আমি প্রতিবিম্বের মাঝে ?
দিন আবর্তিত হয় আমাকে ঘিরে ।
রাত তার প্রতিটি তারায়
অনুকরণ করে আমাকে ।
আমি থাকতে চাই প্রতিফলনহীন,
এবং তারপর আমাকে রেখো পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬২ বার দেখা | ১১০ শব্দ
চলে যাবার ঠিক আগে
চলে যাবার ঠিক আগে মনে হচ্ছে আচমকা কোথাও চলে যাবো। যেতে হবে। প্রবল জ্বরের পায়ের কাছে শুয়ে আছে প্রাণঘাতি ভাইপার।
মাত্র একটি ছোঁবলেই তুলে নেবে সমস্ত উত্তাপ, আর
উজাড় ঢেলে দেবে বিষথলির সম্পূর্ণ গরল। চেনা-জানা পাখিদের চঞ্চুগুলো খুব আদরে মুখর
সবুজপাতায় অবিরল ঢেলে দিচ্ছে সোহাগঅমৃত।
গোধূলিতে– নীড়ের কোটরে ঢুকার আগেই
মাধবীর পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৯ বার দেখা | ১৯৯ শব্দ