গত কয়েকটি দিন থেকে এমন ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে প্রতিটা রাতেই ঘটছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে মিল না থাকলেও একটা অদৃশ্য যোগসূত্র আছে বলে মনে হচ্ছে। আগেই বলেছি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস আমার নেই। দেড়টা – দুইটার দিকে ঘুমাতে যাই।

প্রথমদিন যখন আওয়াজটি কানে আসে ঘুম থেকে চমকে উঠি। মধ্যরাতে এমন পিলে চমকানো অট্টহাসির শব্দে এই প্রথম আমি ভয় পেয়ে যাই। মনে হলো একসঙ্গে প্রায় পাঁচ – ছয়জন ছেলে- মেয়ের একটি দল কিছুক্ষণ পর পর হেসে উঠছে কোন কারণ ছাড়াই। হাসিটা ঠিক দক্ষিণ দিক থেকে আসছে। ওদিকটার জানালাটা খুলে রাখি প্রায়ই। গরমকালে কখন বিদ্যুৎ যায় – আসে তার কোন ঠিক নেই। জানালা খুলে রাখলে একটু বাতাস ঘরের ভিতরে আসে। মধ্যরাতের ঘুমটা আরও জমে ওঠে। আগে কখনো এমন হয়নি। তাই ভয়ে জানালাটা বন্ধ করে লকটা পর্যন্ত লাগিয়ে দিই। দেখি মাথার ওপরে ফ্যানটা ঘুরছে। ফ্যানের স্প্রিটটা বাড়িয়ে দিই। ১০০% গতিতে এখন ফ্যান চলছে। তবুও আমি ঘেমে যাচ্ছি অকারণে।

দ্বিতীয় দিনেও যথারীতি সব কাজ সেরে সবে ঘুমিয়ে পড়ছি। এবার কেউ হাসি দিচ্ছে না। কান্না! খুব করুণ সুরে কেউ একজন কেঁদে যাছে। কান্নার রূপটা মাঝেমধ্যে পাল্টে যাচ্ছে। প্রথম প্রথম কান্নাটি আস্তে শুরু হলে সময়ের ব্যবধানে এটা আরও জোরে শব্দ করে কান্নায় পরিণত হয়। কখনো মনে হয় কোন মেয়ে বুঝি কেঁদে চলেছে। কান্নার রহস্য ভেদ করতে বাইরে যাবো ভাবতেই মনে হলো কেউ বুঝি আমার দরজার সামনে বসেই কান্না শুরু করে দিয়েছে। দরজা খুলতে গিয়েও কি মনে করে দরজা না খুলে আবার বিছানায় বসে পড়ি।

একটা সোনালি ভোরের অপেক্ষায় থাকি।
তৃতীয় দিনের ঘটনাটি আরও মারাত্মক – ভয়ংকর। ঘুমানোর আগে বারান্দায় বসে একটা সিগারেট টানার অভ্যাস আমার দীর্ঘদিনের। বারান্দায় একটা প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা আছে। প্রতিদিন রাতে এই চেয়ারে বসে একটা সিগারেট শেষ করে তারপর রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আজ বারান্দায় বের হয়েছি অনেক রাতে। বিশেষ একটা কাজে আটকা পড়ায় দেরি হয়ে গ্যাছে।

সিগারেটটা তখন মাঝামাঝি চলে এসেছে। ধোঁয়া ছাড়ছি। ধোঁয়াগুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে মিশে যাচ্ছে দূর মেঘে। হঠাৎ অনুভব করলাম কেউ একজন আমার ঘাড়ের খুব কাছে এসে ফিসফিস করে কথা বলছে। একটু পরে আরও কিছু মুখ যুক্ত হয়ে যায়। তাদের ফিসফিসানিগুলো বেড়ে যায়। আমাকে ডাকছে খুব আস্তে করে। আমি দাঁড়িয়ে যাই। চলার শক্তি যেনো হাড়িয়ে ফেলছি। মাথা ঘুরে পড়ে চাই। কতক্ষণ ছিলাম জানি না। সকাল বেলা জেগে দেখি বিছানায় শুয়ে আছি। জলিল চাচা যিনি আমার এই একা বাসায় টুকটাক ফুটফরমাস খাটেন তিনি বসে আছেন শিয়রে। মাথা তুলতে পারছি না কিছুতেই। প্রচন্ড মাথা ব্যথা সঙ্গে জ্বর। মেপে দেখি ১০৩ ডিগ্রি।
.
(চলবে…………………..)

VN:R_U [1.9.22_1171]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্ব নয়), 5.0 out of 5 based on 1 rating
FavoriteLoadingলেখা প্রিয়তে নিন
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে জীবন-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

২ Responses to অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্ব নয়)

  1. মুরুব্বী বলেছেনঃ

    অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ

    অসাধারণ একটি ধারাবাহিক পড়ে চলেছি। শুভেচ্ছা জানবেন কবি।https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif
     

     

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  2. ফয়জুল মহী বলেছেনঃ

     অপূর্ব চিন্তায়  পরিপাটি  লেখা।

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।