মোকসেদুল ইসলাম-এর ব্লগ
গৃহ সন্ন্যাস
মৃত্যু ভয়- নির্মাণ শিল্পে পেরেক ঠোকার মতো
ঊর্ধ্বমুখী বাজারের দিনে বাঁধন আলগা হলেও
এবার লকডাউন উঠে গেলে ঠিকই খুঁজে নেবো
মাটির ঘ্রাণ – বাতাবি লেবু – ঝর্ণার গান
আলগা হাতে খুব সহজেই ধরতে পারি জীবন
পৃথিবী ছুঁয়েছে মরণব্যাধি, শোক-তাপ আর জ্বরে
জীবনকে চিনেছে যতো তারও বেশি নিজেকে চিনেছে মানুষ
পাশাপাশি বসে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৩৬ বার দেখা | ৫৫ শব্দ
ছোটগল্প: দড়ি
মাথার উপরে টাঙানো দড়িটার দিকে শেষবারের মতো এক ‍দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ফয়সাল। ছিঁড়ে যাওয়া মাকড়সার জাল যেমন করে ঝুলে থাকে আর সামান্য বাতাসেই দুলতে থাকে ঠিক দড়িটাকেও এখন তাই মনে হচ্ছে। নিজেকে তার মাকড়সা মনে হয়। ঝুলে যাওয়া একটা দড়ির শেষ মাথায় এসে সে পড়ুন
অণুগল্প | ৩ টি মন্তব্য | ৩২ বার দেখা | ৯২৭ শব্দ
অমৃত কথা
অ্যাসিড জলে গা ধোয়ায় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ঘুম
যার স্বভাব আকাশের তারা গোনা সাত কিংবা সতেরোয়
তাকে বেঁধে রাখা অতোটা সহজ নয় বাছা
যজ্ঞ শেষে আমাদের তৃষ্ণা বেড়ে যায়
দুপুর বেলায় যারা দিত ভাতঘুম তারা এখন
মৃত্যুকে আংশিক মেনে নিয়ে উর্বরতার চাষ করে
মুছে যায় না খুব সহজে জলের দাগ
মীন পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৩৫ বার দেখা | ৫৩ শব্দ
আলোর নাচ
কত গভীরে থাকে মানুষের চোখ
এতোটা অন্ধকার – হা-হুতাশ
অথৈ সাগরে ডুবে যায় জীবনের রং
তবু আগুন আগুন খেলা
এ পোড়া চোখ নীড় নয়
বিবর্ণ আলোর নাচন।
কত গভীরের থাকে চোখ
ধরে রাখি মুঠো মুঠো অন্ধকার
হৃদয় জুড়ে ভাঙ্গনের গান
তবু স্বপ্ন দেখে চোখ
শাল – তমালের বন
রংতুলি আর আলোর নাচন। পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৩৭ বার দেখা | ৪১ শব্দ
বিকার
গাছদের হাত আছে পা আছে
এটা সেটা খায় হেঁটে হেঁটে চলে যায় দূরে
কথা বলে পরস্পর মানুষগুলো বোবাকালা
দুধের মতো ঘন ছায়ায় জুড়িয়ে নেয় প্রাণ আশ্বিনের দ্বিতীয় রাত- জারিগান সারিগান
অক্ষত দেহে গাছগুলো লিখে রাখে
চুপ কথার ইতিহাস দশমিকের ঘর ছেড়ে আমরা হেঁটে যাই দ্বিগুণ জোরে
গাছগুলো মারিয়ে হৈ হুল্লোড় সত্যি বলছি আমাদের চোখে পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৩৭ বার দেখা | ৪৭ শব্দ
জীবনবাজি
কিছু আকার রেখে এসেছি চন্দ্রমল্লিকা বনে
বেখেয়ালে ছুঁয়ে দেয়া হাত খুঁজে
পরিচিত মুখের আদল
উষ্ণতা শুষে নেয়া ক্ষরণ বেলায় স্বপ্ন লেপন করি নিষিদ্ধ খোয়াবনামায়
প্রত্যয়ে বীরত্ব আসে- আসে জয়
নিষেধের বেড়াজালে জেহাদী ঘুম
দহন শীৎকারে জাগে নির্বোধ মন নিয়ম ভঙ্গের দিনে ঘড়িটাই চলছে টিক টিক টিক পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৪১ বার দেখা | ৩৯ শব্দ
প্ররোচনা
প্ররোচনা তবুও বেলা যে যায়
তুলসি পাতায় ধোয়া হাত
ওদিকে অপেক্ষায় প্রাচীন মানব
মৌণমিছিলে নিষিদ্ধ মোমবাতি হাতে মুদ্রার বিপরীতে রাখা বিশ্বাস
মেধা-মননে নিচ্ছি পাঠ
ফলনের ভিতর গোপনীয়তা যদি থাকে
রাত্রির আড়ালে লিখে দেবো সব শাস্ত্র কিংবা সূত্র- তন্ত্রীয় জ্বালে জ্বলছে
এসো শঙ্খ বাজাই জোরেশোরে
সুষুপ্তিতে যারা মগ্ন তাদের জাগিয়ে
ঘুঘু দর্শনে বেড়িয়ে পড়ি রাতবিরাতে। পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৬৯ বার দেখা | ৪২ শব্দ
মৃত্যুদিন
মৃত্যুদিন কোলাহলময় পৃথিবীতে সংক্রামক মৃত্যু আসছে ধেয়ে
পায়ের ঠকঠক আওয়াজে দূরে সরে যাচ্ছে আলো
শব্দের ডেসিবেল কতো হলে মানুষ জেগে ওঠে
বলতে পারো……? নিখুঁত নিশানায় আলগা হচ্ছে শরীর
পোয়াতির কোলে ধ্যানস্ত শিশু
এক পশলা বৃষ্টি দাও প্রভু—
অগভীরে নদীতে সাঁতার কাটছে চতুর মীন কৃতজ্ঞতা – এখন অন্ধকারে বন্দি
কার কাছে কৈফিয়ত দেবো
সামনে আসছে নেতিবাচক পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৬৭ বার দেখা | ৫১ শব্দ
জলধর্ম
জলধর্ম নিজস্ব ধারাপাত জুড়ে জলের খেলা
প্লাবনে ভেসে যাচ্ছে অক্ষর
চোখের কাজল
দহন – দূর্বাঘাস কারা যেন বলেছিল
যে সাঁতার কাটতে জানে না
তার নেই চুমুর অধিকার মাদুলি দুলছে – নাভি বরাবর
যেন সুযোগ সন্ধানী বৃষ্টি
রাষ্ট্রীয় শোক শেষে নেমে আসে দৃষ্টি কে সইতে পারে- ছাতার তলার নিম্নচাপ
হঠাৎ মেঘ
মফস্বলে ধর্ম খুইয়ে হচ্ছে সব শহুরে। পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৩ বার দেখা | ৪৩ শব্দ
ঘরে ফেরা
ঘরে ফিরতে গিয়ে মনে হলো
আমার তো ঘর-বাড়ি কিছুই নেই
তবুও ‘নির্জনতা’ এই শব্দটিকে আমার বড় ভয় করে
ঘরটাকে মনে হয় একটা বন আড়ালে মুখ ঢেকে হাসে রমণী
এই হাসিকে ধরে রাখতেই আমরা ঘর করি
সংসার সাজাই, বাচ্চা নিই
দুঃখ আসে দুঃখ যায় প্রজাপতির মতো উড়ে অপার মুগ্ধতা নিয়ে আমরা ঘরে পড়ুন
কবিতা | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২২৪ বার দেখা | ৫৮ শব্দ
আলোর অপেক্ষা
আলোর অপেক্ষা বিশ্বাসের ছায়া নেড়ে কেউ একজন চলে যাচ্ছে
ও দিকে জাম-জারুলের বন
সমন্ত সন্ধ্যা জুড়ে দ্বিধার ক্ষরণ
ছায়ারা ভাষাহীন – নখের বুননে
ফুটিয়ে তুলেছো শেষবেলার গোধূলিক্ষণ স্বপ্ন দেখি অনুক্ষণ – যদিও অনিকেত সময়
এপাশ ওপাশ – আমার দুঃস্বপ্নের আবাস
আঁধারের গল্প আর কতো কাল এবার ফিরে চলো দখিনা হাওয়ায়
এপাশ ওপাশ – আলোরা পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১২৫ বার দেখা | ৪৬ শব্দ
মধ্যবিত্ত (৩)
অসহ্য ব্যথা রে মনা
এলইডি বাল্বের ন্যায় চোখগুলো জ্বলছে
‘টিমটিম’ যেন কেরোসিন বাতি
এইযে জীবন গন্ধ! তির্যক ভাবনা!
চতুর্ভুজ প্রেম! পিপাসা! মোহ!
তবুও দর্শক প্রস্তুত; হাততালি দিবে বলে। কাটছে – জুড়ছে – ছুঁড়ছে
সম্পর্ক! হাঁটছে মধ্যবিত্তের ন্যায়
আমাদের ভাড়াবাড়ি, বাড়াবাড়ি করি না তাই কী বিজ্ঞান – কী দর্শন
আমাদের কিছুতেই কিছু যায় আসে পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৪৯ বার দেখা | ৫২ শব্দ
ঋতুস্নান
ঋতুস্নান মূলত নুন আনতে গিয়েই সবকিছু ফুরিয়ে যায়
হলুদ মরিচ পড়ে থাকে জমিনেই
চেয়ে দেখ ভাতপাতে মাখানো বিষ
দুধসাদা পৃথিবীতে কোথাও সরলরেখা নেই
মিহিদানার মতো মানুষের ভালোবাসাগুলো
এক একটা পরিচিত কীট। তন্দ্রাতেই যতো ভয় জাদুকরের
আস্তাবল থেকে যে ঘোড়া ছুটে গেছে ঋতুস্নানে
তার খুর থেকে উঠে আসে বিচ্ছেদের দ্যোতনা
পারস্পরিক ভুলে মরে যাচ্ছে ঋতুবতী পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৯২ বার দেখা | ৫৮ শব্দ
বিবর্তন
বিবর্তন তবুও বাজিয়েই যাচ্ছ মৃত্যুঘন্টা
হাঘরে মানুষের ডাক
মাছিদের ঢেউ ভেঙ্গে ছুটে চলা নিরন্তর
ওপারে অপেক্ষায় জান্নাতি হুর এপারে একটা বিষণ্ণ কাক
কর্ষিত ঠোঁটে ডাকছে
কা – কা – কা – কা
সিঁড়ি বেয়ে উঠছে স্মৃতির বালক বিচিত্র সব নাচন – কোদন
শেষে জানা গেল
মৃত্যু একটা পটপরিবর্তনের নাম। পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৮৩ বার দেখা | ৩৮ শব্দ
বিষণ্ন এক বিকেলের কথা
সে এক অদ্ভুত বিকেল
যেন বিষণ্ন বেলায়
ক্ষয়ে যাওয়া পাহাড়ের ক্ষত
কিছু বিস্মৃত ইতিহাস
ঝরে যাওয়া ফুলের পাঁপড়ি
দূরত্ব বাড়ছে মানুষের প্রবৃত্তির এতো এতো রং
খুদ খুঁটে খাওয়া পাখি জীবন
জমাট বেঁধেছে রক্ত
মানুষের অসীম ব্যস্ততা এখন মাথা ঠুকে মরছে সবাই
পুবে – পশ্চিমে
জীবনকে ঘিরে অদ্ভুত প্রশ্ন
বাতাসের গুটি ও গুঞ্জন
এখানে – সেখানে
পাখিদের ফিসফাস কথা
যেন ঠিকানা পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩২০ বার দেখা | ৪৭ শব্দ