এক অলৌকিক নক্ষত্রের অপেক্ষায়

তবুও ভুলভালসহ ঠিকই কাটছে জীবন খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে পাথর সময় – নগ্ন ইতিহাস আর যুৎসই কৌশলে বৃষ্টিকে নামিয়ে আনি ঠিক বুকের ওপর – নদীকে দত্তক দিয়েছি যে! তবুও পাখির উড়ে যাবার কী তীব্র বাসনা গায়কী ঢঙ – বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো আঙুলে গুণে রাখছি নিজস্ব কিছু সংখ্যা বাড়ছে ভ্রুণের মতো ঠোঁটের কিনারে – ভাষা! অপেক্ষায় আছি … Continue reading “এক অলৌকিক নক্ষত্রের অপেক্ষায়”

দ্বিতীয় ঈশ্বর

একটা মানচিত্র। লাল পৃথিবীর তার ভেতর নীল মানুষ। বেঁচে থাকে অসুস্থ চোখ। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে জানা গেল মানুষের মৃত্যু হয়। জ্বরগ্রস্ত রোগীর মতো অতঃপর জানলাম। আমাদের দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই পরিচয়হীন একটা চিঠি। পোস্টম্যান হয়রান খয়রাতি আত্মাকে খুঁজে পাওয়া অতোটা সহজ কাজ নয়। দীর্ঘ একটা রাত কেটে গেলে আমরা ঢুকে পড়ি পোস্টবক্সের অন্ধকার থলির ভেতর … Continue reading “দ্বিতীয় ঈশ্বর”

বাবা

বাবা

বাবা নেই অনেক দিন হলো। দেড় যুগ পেরিয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে মনে হয় কে যেন নাম ধরে ডাক দেয়। ঠিক বাবার কণ্ঠের মতো। রাশভারি গলা। আমি হুড়মুড় করে উঠে বসি বিছানায়। ঘুম ভাঙ্গলে দেখি গলা শুকিয়ে গেছে। দ্বিপ্রহর রাত। টেবিলের ওপর রাখা মগ থেকে ঢকঢক করে পানি পান করি। বড় রাস্তায় তখন এক-দুইটা গাড়ি চলাচল করছে। … Continue reading “বাবা”

প্রেমজ কথা

হ্যালো, এইযে শুনছেন ইদানিং আমিও আপনাকে লুকিয়ে চুপিয়ে দেখি ইনিয়ে – বিনিয়ে কথা বলার সমূহ চেষ্টাও করি বেহুশ ঘুমের সময় স্বপ্নেও আসেন প্রায়ই কথা হয় হাতে হাত রাখি চুমু খাই নাগরদোলায় চড়ি; আপনার যা রূপ! মাশাআল্লাহ্! হুর – পরীও ফেল মারবে নিশ্চিত। মাইরি বলছি আমার ভালোবাসায় খাদ নেই কোন হ্যালো শুনছেন আমি শুধু আপনাকেই ভালো … Continue reading “প্রেমজ কথা”

অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্ব নয়)

গত কয়েকটি দিন থেকে এমন ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে প্রতিটা রাতেই ঘটছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে মিল না থাকলেও একটা অদৃশ্য যোগসূত্র আছে বলে মনে হচ্ছে। আগেই বলেছি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস আমার নেই। দেড়টা – দুইটার দিকে ঘুমাতে যাই। প্রথমদিন যখন আওয়াজটি কানে আসে ঘুম থেকে চমকে উঠি। মধ্যরাতে এমন পিলে চমকানো অট্টহাসির শব্দে এই প্রথম … Continue reading “অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্ব নয়)”

অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্বঃ আট)

অনেকদিন হলো ইচ্ছে করেই রাতের বেলায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বেশি বাইরে বের হই না। রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিই। তারপর একটা চা আর বিড়ি টানার জন্য বাইরে বের হই। রুম থেকে বের হয়ে মিনিট তিনেক হাঁটলেই হরেকৃষ্ণের মোড়। এই মোড়েই একটা ছোট্ট চায়ের দোকান আছে। বিবি স্টোর। বিবি … Continue reading “অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (পর্বঃ আট)”

অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ ৫

অনেকদিন আগে একটা গজারি লাঠি বানিয়ে রেখেছিলাম। বাসাটা ভাড়া নেওয়ার সময় অনেকে তখন বলেছিলেন আশেপাশে সাপ-টাপের দেখা মেলে, যেনো সাবধানে থাকি। আজ সেই লাঠিটা কাজে লাগতেছে। বিছানা থেকে উঠে সুইচ অন করতে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নেই। মফস্বল এলাকায় এই একটা বড় সমস্যা। নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকে না। যদি লোডশেডিং হয় তো বিদ্যুৎ আসার আর কোন খবর … Continue reading “অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ ৫”

অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (৪র্থ)

অলৌকিক সব কাজ – কারবার! যে বাসায় ভাড়া থাকি সেটা অনেক দিনের পুরনো একটা বাড়ি। তিন রুমের একটা সেমি পাকা ঘর। চাকরীর সুবাদে এই শহরে আসা। এলাকায় একদম নতুন। অফিসের কাছাকাছি হবে ভেবে এই খানে ভাড়া থাকি। আরও একজন আমার পাশের রুমে ভাড়া থাকতেন। আক্কাস আলী সাহেব। তিনি পদবীতে আমার নিচে হলেও সিনিয়র হওয়ায় তাকে … Continue reading “অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ (৪র্থ)”

অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ

ভয়ংকর রাতগুলো এভাবেই কাটে। একা! নিঃসঙ্গ! আমি যেখানে থাকি সেটা থানা সদর হলেও জেলা কিংবা রাজধানী থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন একটা শহর। ঠিক শহর না বলে এটাকে একটা অজপাড়াগাঁ বলটাই বোধহয় শ্রেয়। এই মধ্যরাতে আমার মনে হয় শুধু মাত্র এই অজপাড়াগাঁটা নয় যেনো সমগ্র পৃথিবী ঘুমিয়ে আছে। সুনসান নিরবতা। দূরের মাঠে কিছুক্ষণ পর পর শেয়ালের হুক্কাহুয়া … Continue reading “অশরীরীঃ না গল্প না প্রবন্ধ”

নাকফুল

কিছু নাকফুলের আলাদা ঘ্রাণ থাকে বিকেলের রোদ গায়ে মেখেও ছুটে আসে পুরুষ প্রজাতি দুধসাদা দুপুরবেলায় কেউ কেউ লেখে বিচ্ছেদের এপিটাফ। সোনাভান পুঁথি কিংবা গুনাই বিবির কেচ্ছা পড়ে আছে অবহেলায় তোরা দে তালি দে আমার ঘরে ফেরার তাড়া নেই দীর্ঘশ্বাসের ঝোলাটা বাড়তি হলে কিছু দুঃখ বিলিয়ে যাবো। নাকফুল হারিয়ে গেছে সেই কবে এ পোড়া শহর! মানুষের … Continue reading “নাকফুল”