মম চিত্তে নিতি নৃত্যে -[২৭]-৬

এই গানইতো গত নয় মাস ধরে শুনছে কিন্তু আজ যেন অন্য রকম মনে হচ্ছে, আজ এই গানের সুরে আলাদা একটা আমেজ, আলাদা এক অনুভূতি। আজ যে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে! সবাই যখন ক্লান্ত হয়ে থেমে গেল তখন সারা জীবনের জন্য একটা সোনালী স্মৃতি সৃষ্টি করে থেমে গেল শুধু গানের রেশটা রয়ে গেল। নিশাত উঠে মইন চাচা সহ বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল পিছন থেকে নিরু একটু জোরেই বলল। খেজুর গাছ কাটার সময় আজ হান্নান ভাইকে দিয়ে হাড়িতে এলাচ দিয়ে রেখেছি কাল সকালে এসে রস খেয়ে যাবেন। কাকে উদ্দেশ্য করে বলা তা নিশাত ভালো করেই বুঝল আর বুঝল যুঁই। পিছন থেকে ডেকে যুঁই বলল শুনেছিস, তোর বৌ কি বলল? নিশাতের কানে আজকের এই রাতে যুঁইয়ের কথাটা সুমধুর হয়ে বাজলো। নিরুর চেহারা কেমন হয়েছিলো তা আর মৃদু চাঁদের আলোতে পিছন ফিরে দেখা হয়নি। তবে নিশাতের অন্ধ-দৃষ্টি তা ঠিক অনুমান করে নিয়েছিল। পরদিন আর রাত পোহায় না, হে যামিনী কেন আজ বিদায় নিচ্ছ না তুমি?

দেশ স্বাধীন হলো। নতুন দেশ। নিশাতের বাবা তার ছুটির কাগজ পত্র নিয়ে ঢাকায় এলেন। সাথে নতুন দেশ, নতুন রাজধানী ঢাকা শহর দেখার জন্য নিশাতও এলো। নিশাতের মামার সেই ধানমন্ডির বাসায় উঠল। পরদিন তার বাবা সেক্রেটারিয়েটে গেলেন কি করা যায় সেই উদ্দেশ্যে। ভাগ্য ভালো সেক্রেটারিয়েটে তার কাগজ পত্র দেখে পর দিন থেকে কাজে জয়েন করতে বলে দিল। বাবার চাকরী হয়ে গেল। নিশাত ২/৪ দিন নতুন দেশের রাজধানী শহরে বেড়িয়ে বাড়ি ফিরে এলো। বাবা ঢাকায় রয়ে গেলেন। ফেরার দিন বাবা বলে দিলেন দুই এক মাসের মধ্যে একটা বাসা পেলে তোমাদের নিয়ে আসব, কলেজে ভর্তি হতে হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করবে বেশি ঘোরা ঘুরি করবে না।

সময় চলে যায়। আকাশে তারা জ্বলে, চাঁদ ওঠে, জোসনা ছড়ায়। আবার সূর্য ওঠে। শীতের সোনালি বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়। ইছামতী নদী দিয়ে পানি পদ্মায় গিয়ে মিশে আবার সেই পানি পদ্মা থেকে মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে মহা মিলনের জন্য মিশে যায়। গ্রামের মেঠো পথ ধরে ঝাঁকা মাথায় হাটুরেরা হাট থেকে নানা সওদা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরে। নিশাত পথের পাশে হালটে বসে বসে চেয়ে দেখে। কলই ক্ষেতে নীল ফুল ফোটে, সিম ধরে আবার সেগুলি ফসল হয়ে উঠে। কৃষকেরা মাথায় করে বাড়ি নিয়ে আসে। সোনালী গম ক্ষেতের আড়ালে আবার সূর্য তার রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিগন্তে হারিয়ে যায়। দোয়েল, শালিক, ঘুঘু পাখি ডেকে ডেকে বিষণ্ণ দুপুরের মায়া ছড়িয়ে দেয়। এ ভাবেই প্রকৃতি তার অস্তিত্ব জানিয়ে দেয়, আমি আছি। সবাই তার নিজস্ব ভঙ্গিতে চলতে থাকে কিছুই থেমে থাকে না। নিশাতের জীবনও থেমে থাকে না। নিরুর সাথে নিয়মিত না হলেও প্রায়ই দেখা হয়। ক্ষণিকের জন্য চারটি চোখে কি যেন এক দুর্বোধ্য ভাষায় কথা হয়। সে কথার মানে অন্য কেউ বোঝে না। তবে এটুক বোঝে যে কিছু একটা আদান প্রদান হলো। এই আদান প্রদানের রেশ কোথা থেকে কোথায় যাবে দুইজনের কেউ অনুমান করতে পারে না।

এক দিন সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ফিরে নিশাত দেখল বাবা এসেছেন। রাতে খাবার পর বাবা বললেন ঢাকায় বাসা পেয়েছেন। তোমরা সবাই আগামী শুক্রবারে চলে এসো। একটু কাগজ আন আমি ঠিকানা লিখে দিই। নিশাত উঠে তার রাফ খাতা আর একটা কলম এনে বাবার হাতে দিলে বাবা ঠিকানা লিখে নিশাতকে বুঝিয়ে দিলেন গাবতলি বাস স্ট্যান্ডে নেমে কি ভাবে যেতে হবে বুঝিয়ে দিলেন। নিশাতের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, কি চিনে আসতে পারবে না কি আমি আসব?
না, আপনাকে আসতে হবে না, আমি যেতে পারব।

ঢাকায় যাবার দিন ঠিক হবার পর থেকেই নিশাতের মনটা বিষণ্ণ, কি জানি কি এক আশঙ্কা। শীতের শেষে প্রকৃতিও যেন নিশাতের মনের সাথে যোগ দিয়েছে। নিরুর বোন যুঁই এর সাথেও তেমন কথা জমে উঠে না, শিহাবের সাথেও খুব একটা দেখা সাক্ষাত নেই বললেই চলে। গাছের সবুজ পাতা সেই কবেই ঝরে গেছে মাঠ ঘাটের সবুজ তাজা ঘাস গুলিও যেন শুকিয়ে হলুদ বিবর্ণ হয়ে গেছে। বাঁশ ঝাড়ের পাতা গুলি ঝরে গিয়ে কাঠির মত দাঁড়িয়ে রয়েছে। চারি দিকেই কেমন যেন একটা শুকনো মলিন ভাব। সূর্য ডোবার আগে দিগন্তের রক্তিম আভার সাথে গরু বাছুরের পায়ের ধুলো, রাখালের পায়ের ধুলো, বাড়িতে বাড়িতে কলই গম মাড়ানোর ধুম। পিঁয়াজ খেতের ফুল গুলি শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে আসছে কখন যেন কৃষক এসে তুলে নিয়ে যাবে। বিলের ধারে সকাল বেলা বক পাখি ধ্যানে মগ্ন থাকছে না। রোদের তেজ যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাহলে কি ওরাও নিশাতের মনের কথা বুঝতে পেরেছে?

যাবার আগে সন্ধ্যা বেলা শিহাবদের বাড়ি এলো। শিহাব বাড়ি নেই, যুঁই বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল কিরে, তোরা তাহলে কালই চলে যাবি? কখন যাবি, আয় ভিতরে আয়। আজ আমাদের খৈ বানিয়েছে, হাট থেকে বাবা দৈ এনেছে একটু খেয়ে যা। ভিতরে নিয়ে বসতে বলে রান্না ঘরের দিকে চলে গেল। দরজার পাশে এসে দাঁড়াল নিরু। যুঁই একটু পরে এক হাতে দৈ খৈ এর পেয়ালা আর এক হাতে এক গ্লাস পানি এনে নিশাতের সামনে টেবিলে নামিয়ে রেখে বলল নে খা। আবার কবে আসবি না আসবি তার ঠিক নেই। তোদের বাড়িতে তাহলে কেউ থাকবে না সবাই চলে যাবি?
আর কে থাকবে বল?
বিষণ্ণ মনে যুঁই বলল বাবা মনে হয় আমাকে মানিকগঞ্জের কলেজে ভর্তি হতে দিবে না, কাজেই আমার পড়া শুনা বন্ধ। তুই কিন্তু বাবাকে বলে যাবি অন্তত তুই ঢাকায় যে কলেজে ভর্তি হবি শিহাবকেও যেন সেখানে ভর্তি হতে দেয়। এসব কথার কিছু নিশাতের কানে ঢুকছে কিছু ঢুকছে না। তার মন রয়েছে দরজার ওপাশে। ও কি একটু ভিতরে আসতে পারছে না। মনে একটা সূক্ষ্ম অভিমান এসে ভর করল। কেন? এখন কি আমার ভিতরে যাওয়া সাজে? তাহলে যুঁই কি বলবে? তুমি একটু এ ঘরে আসতে পারছ না কেন? আর কিছু ভাবতে মন চাইল না। কোন রকম খৈ খেয়ে যুঁইকে বলল শিহাব এলে ওকে রাতে দেখা করতে বলবি। বলেই বের হয়ে বাড়ি চলে গেল।

৩।
পরদিন ওরা ঢাকায় চলে এলো। মিরপুর এলাকায়। বাবা যেভাবে ঠিকানা লিখে বলে দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী ঠিক ভাবে আসতে কোন অসুবিধা হয়নি। গাবতলি নেমে নতুন শহর বলে একটু ইতস্তত লাগছিল তবুও আসতে পেরেছে। নিশাত কলেজে ভর্তি হলো, ছোট ভাই বোনেরা স্কুলে। কয়েক মাস থাকার পর মা এক দিন নিশাতের সাথে পরামর্শ করলেন, পরের বাড়িতে থেকে মাসে মাসে এত গুলি টাকা ভাড়া দিয়ে সংসার চালান কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছি যদি নিজেদের একটু জায়গা হত তাহলে যেমন তেমন একটু টিনের চাল বেধে থাকার ব্যবস্থা করতে পারলে এই ভাড়ার টাকা গুলি বেচে যেত।
তা হয় কিন্তু জমি কেনার এত টাকা পাবেন কোথায়?
কেন, গ্রামের বাড়িতে আমাদের এজমালি জমি গুলি আছে সেগুলি থেকে আমরা কি পাই ওগুলি বিক্রি করে দিলে যে টাকা আসবে তা দিয়ে হয়ে যাবে।
বেশ ভালো কথা, আব্বার সাথে আলাপ করে দেখেন কি বলে।

নিশাতের বাবা বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পর হাত মুখ ধুয়ে চা নাস্তা খাবার সময় নিশাতের মা কথাটা তুললেন। শুনে সেও মোটা মুটি সম্মতি জানাল। এবার গ্রামের ওই সব টুকরা টুকরা জমি, পুকুর, বাগানের অংশ যেখানে যা ছিল সব বিক্রি হয়ে গেল। শুরু হলো ঢাকায় জমি খোজার পালা। এক সময় তাও হয়ে গেল। যেখানে ভাড়া থাকত তার কাছেই ছোট এক টুকরো জমি পেয়ে রেজিস্ট্রি ইত্যাদি যা করার তাও হয়ে গেল। নতুন জমিতে কোন রকম কাচা মাটির একটা দোচালা টিনের ঘর। পাশে বাঁশের বেড়ার চাল দেয়া রান্না ঘড় আর কাচা একটা টয়লেট বানানোর কাজ হয়ে গেল। এবার একটা শুভ দিন শুভ লগ্নে তারা নতুন বাড়িতে উঠে পরল। কাচা পাকা যাই হোক নিজেরতো! মাস শেষে ভাড়ার টাকা গুনতে হবে না। বাইরের দিকে আস্তে আস্তে বাঁশের বেড়া দিয়ে ভিতরে কিছু শাক সবজির বাগান করে নিলো। পাশেই একটু খোয়ারের মত করে কয়েকটা মুরগী। এইতো নিজের বাড়ি আর ভাড়া বাড়ির তফাত। এখন থেকে ভাড়াতো দিতে হয়ই না উপরন্তু কিছু শাক সবজী সহ ডিম মাংসের খরচও কমে গেল। যত ছোটই হোক আর যত সামান্যই হোক ঢাকা শহরে নিজের একটু খানি কুটিরের দাম যে কি তা হারে হারে বোঝা যাচ্ছে।

এক দিন সকালে কলেজে যাবার আগে নিশাত বাগানে সবজির যত্ন করছে এমন সময় একটু দূরে খোলা রাস্তায় নজর গেল। দেখল সবুজ শাড়ি পরা এক জন মহিলা আর তার সাথে বাচ্চা কোলে নীল কামিজ গায়ে এক মেয়ে এদিকে এগিয়ে আসছে। হঠাৎ চেনা চেনা মনে হলো। আরও একটু কাছে এলে দেখল নিরু আর তার বড় বোন বীণা আসছে। বীণা মাঝে মাঝেই আসে। কাছেই বাড়ি। পাশে যখন ভাড়া বাড়িতে থাকত তখনও এসেছে কয়েক বার। কিন্তু সেই আসা আর আজকের আসার মধ্যে কোথায় যেন একটু পার্থক্য মনে হলো নিশাতের কাছে। আজ যেন এক ভিন্ন সুর বেজে উঠল নিশাতের মনে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত কত কিছুই ঘটে যাচ্ছে তার সব কিছু মনের চোখে সব সময় ধরা পরে না। আবার অনেক কিছু আজ যে রকম মনে হয় সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথেই ভিন্ন জনের কাছে ভিন্ন ভাবে ধরা দেয়। সময়, কাল, স্থান ভেদে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। এ ও ভালো। এক ধরনের বৈচিত্র্য। প্রকৃতি যেমন খেয়াল পাল্টায় ঋতু বদলায় মানুষের মনও তেমন। আজকে যা ভালো লাগছে কাল তা আঁকড়ে ধরে রাখতে পারছে না। শুধু পার্থক্য এ টুক যে ঘড়ির কাটা মহা কালের সাথে মিলনের জন্য বার বার ঘুরেই চলেছে। দক্ষিণ মেরু থেকে অনেক বাতাস উত্তর মেরুর দিকে বয়ে গেছে। পৃথিবীতে অনেক ক্ষুধা তৈরি হয়েছে।

বীণা নিরুকে নিয়ে নিশাতদের বাড়িতে এসেছে। চাচীর সাথে দেখা করার জন্য। গতকাল নিরু এসেছে গ্রামের বাড়ি থেকে। ওকেও সাথে করে নিয়ে এসেছে। নিরুর স্কুল বন্ধ হলেই একটা দিনও দেরি না করে সোজা বড় বোনের কাছে এসে কাটিয়ে যায়। নিরু গ্রাম থেকে আসার সময় এই এটা ওটা যা গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে আনতে হয়, ক্ষেতের কিছু মটর শাক, ধনে পাতা, কলার মোচা, গাছের কিছু ফল মুল, কাচা আম, কিছু আম সত্ত্ব, নারকেলের লাড়ু, গাছের পাকা কুমড়োর মোরব্বা যা কিনা মা নিজে বানিয়েছে, কয়েকটা গাছ পাকা কত বেল। ঢাকা শহরে কি আর গাছ পাকা কত বেল পাওয়া যায়! যা পায় সব জাগ দেয়া। যা খেয়ে বড় হয়েছে সেই ছোট বেলায় যা নিয়ে মন কষা কষি হয়েছে, যা নিয়ে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছে সে দিন গুলির স্মৃতি কি মনে পড়ে না? সেই বাড়ির ঘাটের নয়তো চৌরাস্তার ছবি, সেই গন্ধ আবার পিছনে ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে না? তাই আসার আগে মা পোটলা বেধে এগুলিও দিয়ে দেয়। বীণা আবার তাই কিছু চাচীর জন্যে নিয়ে এসেছে। চাচীও ওগুলি পেয়ে বেশ খুশি।
মা সিঙ্গারা বানালেন, রান্না ঘরের পাশে পিঁড়িতে বসেই চা সিঙ্গারার পালা শেষ। মা বায়না ধরলেন নিরুকে নিয়ে এসেছিস আজ দুপুরে এখানে খেয়ে যাবি, কবির আসবে সেই সন্ধ্যায় কাজেই আর চিন্তা কি? বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা আছে। অকাট্য যুক্তি দেখালেও প্রথমে বীণা আপা একটু আমতা আমতা করে শেষ পর্যন্ত রাজী হয়ে গেল। নিশাতের মা রান্না ঘর থেকে বের হয়ে নিশাতকে একটা মুরগী বের করতে বলে কলেজে যাবার তাগিদ দিলেন। নিশাত আস্তে করে বলল আজ কলেজ বন্ধ।
বন্ধ! তখন যে বললি তাড়াতাড়ি যাবি!

বলেছিলাম না কি! কি জানি ভুলে বলেছি মনে হয়। আচ্ছা থাক কলেজে আজ যেতে হবে না তার চেয়ে মুরগীর খাঁচার বেড়া গুলি জায়গায় জায়গায় ভেঙ্গে গেছে ওগুলি ঠিক করি কাজে লাগবে। মুরগী বেরিয়ে যায় ধরে আনতে আপনার কষ্ট হয়।
মা কি বুঝলেন তা নিশাত জানে না তবে মা আর চাপা চাপি করেননি। নিশাত একটা মুরগী বের করে পাশের বাড়ির কালামকে ডেকে জবাই করে মার হাতে এনে দিয়ে ঘর থেকে সাড়াশি গুনা তার এনে আবার লেগে গেল খোয়ার ঠিক করার জন্য। মন কাজে ছিল না। হাত দুটাই শুধু নেট বাধার কাজে উঠা নামা করছে। এক সময় পিছনে চেনা পায়ের শব্দ শুনে ফিরে দেখে নিরু এসে দাঁড়িয়ে তার মুরগীর খামার দেখছে। নিশাতকে পিছনে তাকাতে দেখে নিরু বলল বাহ্ বেশ সুন্দর! এক এক করে মুরগী গুলি গুনে দেখে বলল পনেরটা! নিশাত পিছনে তাকিয়ে বলল তুমি আবার এখানে কেন, যাও তোমার চাচীর কাছে গিয়ে বস। এ কথা শুনে নিরু আর একটা মুহূর্ত দেরি না করে চলে গেল। মনে বিষাদের করুন সুর বেজে উঠেছিল। সেদিন ঢাকায় আসার সময় একটু দেখা দিয়ে আসতে পারনি আজ আমি নিজে এসেছি কোথায় দুটি কথা বলবে তা না করে বলে কি না যাও চাচীর কাছে যাও। আমি কি চাচীর কাছে এসেছি? আমি এসেছি শুধু তোমাকে একটু দেখতে। তুমি কেন বুঝলে না। নিশাত আবার পিছনে ফিরে ওকে দেখতে না পেয়ে কেমন যেন বিদিশা হয়ে গেল। এ কি করলাম যার জন্য কলেজে গেলাম না তাকে এ কি বললাম! কি হে নিশাত! তুমি কোন ধরনের মানুষ? এ যে তোমার প্রথম প্রেম তা কি বুঝতে পারছ না? ওদিকে নিরু এসে সেই যে চাচীর কাছে বসল যতক্ষণ ও বাড়িতে ছিল ততক্ষণ কারো সাথে আর একটি কথাও বলে নি।
[চলবে]

GD Star Rating
loading...
GD Star Rating
loading...
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

১০ টি মন্তব্য (লেখকের ৪টি) | ৫ জন মন্তব্যকারী

  1. একজন নিশাদ : ৩১-০১-২০১৯ | ১৮:০৩ |

    Shaiful Monower

    ভাই ভালই লাগছিল পড়তে , নামের সাথেও প্রায় মিল থাকায়, ভেতরে আলাদা অনুভূতি হচ্ছিল, পরবর্তীর অপেক্ষায় থাকলাম।

    GD Star Rating
    loading...
    • মোঃ খালিদ উমর : ০৪-০২-২০১৯ | ১৫:১৬ |

      গভীরভাবে আপনার মিতার সাথে থাকুন শেষ পর্যন্ত বিয়ের দাওয়াত পেতে পারেন। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_Claps.gif.gifhttps://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_mail.gifhttps://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_mail.gif

      GD Star Rating
      loading...
  2. মিড ডে ডেজারট : ৩১-০১-২০১৯ | ২২:১৬ |

    আপনার গল্পে সবসময়ই দারুণ ইভেন্ট থাকে! অসাধারণ সেটিং এর কারণে যখন পড়ি চোখের সামনে ছবি ভাসে।

    দারুণ খালিদ ভাই !

    GD Star Rating
    loading...
  3. মুরুব্বী : ৩১-০১-২০১৯ | ২২:৫২ |

    এই পর্যন্ত এসে পড়েছি বন্ধু। কেন জানি মনে হচ্ছে লিখাটির প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। যদিও জানি পুরোটা বুঝতে উপন্যাসটি একটি খণ্ডে পেলে পাঠকের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। দেখা যাক।

    GD Star Rating
    loading...
    • মোঃ খালিদ উমর : ০৪-০২-২০১৯ | ১৫:৩৫ |

      আজ্ঞে জনাব আপনে ঠিকই কইছেন। উপন্যাসটারে ২৭ ভাগ করছি আর এইডা হইলো ৬ নম্বর ভাগ। মানে উপন্যাসটা সফল ভাবে শেষ করতে হইলে আপনেরে এইরকম আরও ২১ খন্ড পড়তে হইবো। বুঝলেন জনাব? ব্লগে এত্ত বড় উপন্যাস একসাতে দিলে প্রথম ২/৩ পাতা পইড়া হাছা মিছা বানাইয়া কিছু কথার ফুলঝুরি ছারবেন। আন্দাজেই কইবেন খুব ভাল হইছে, দারুন হইছে ইত্যাদি। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_smile.gif.gif

      GD Star Rating
      loading...
      • মুরুব্বী : ০৪-০২-২০১৯ | ১৮:১৬ |

        হাছাই কইসেন জনাব। Smile

        GD Star Rating
        loading...
  4. সৌমিত্র চক্রবর্তী : ৩১-০১-২০১৯ | ২২:৫৭ |

    মম চিত্তে নিতি নৃত্যে -[২৭]-৬ !!!!!! আমারও প্রশ্ন –

    আমরা কি ২৭ অনুচ্ছেদের ৬ নং খণ্ডাংশ পড়ছি খালিদ ভাই ? তাহলে তো উপন্যাসের পুরোটাই পড়ে দেখতে হবে। কোথায় পাবো ? 

    GD Star Rating
    loading...
    • মোঃ খালিদ উমর : ০৪-০২-২০১৯ | ১৫:৩৬ |

      আজ্ঞে জনাব আপনে ঠিকই কইছেন। উপন্যাসটারে ২৭ ভাগ করছি আর এইডা হইলো ৬ নম্বর ভাগ। মানে উপন্যাসটা সফল ভাবে শেষ করতে হইলে আপনেরে এইরকম আরও ২১ খন্ড পড়তে হইবো। বুঝলেন জনাব? ব্লগে এত্ত বড় উপন্যাস একসাতে দিলে প্রথম ২/৩ পাতা পইড়া হাছা মিছা বানাইয়া কিছু কথার ফুলঝুরি ছারবেন। আন্দাজেই কইবেন খুব ভাল হইছে, দারুন হইছে ইত্যাদি। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifhttps://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif

      GD Star Rating
      loading...
  5. রিয়া রিয়া : ৩১-০১-২০১৯ | ২৩:৩২ |

    পড়ে গেলাম খালিদ দা।

    GD Star Rating
    loading...