জসীম উদ্দীন মুহম্মদ-এর ব্লগ
দেয়াল
কবিতাটাও হয়েও হলো না গোঁফ খেঁজুরে সময়
তবুও রাত্রির নিস্তব্ধতার কথা খুউব মনে পড়ে
মনে পড়ে মধ্যরাত্রির সপ্তর্ষি মণ্ডল, আদম সুরত ওদের
এখনও ওরা সবাই ঘুমিয়ে আছে সুরতহাল রিপোর্ট
সুমনা জানো, আজকাল গজবে আর গুজবে কেন
এতো চোট?
তবুও আশা আর নিরাশার মাঝামাঝি কেউ আছে
সেঁজুতির দাপ্তরিক কর্ম শেষে রোগীর মতোন পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৫ বার দেখা | ৭৩ শব্দ
তেজারতি
চায়ের স্টলে যতটা গন্ধ ওড়ে আদা, তেজপাতা,
লং, কালোজিরা
ততটা মুদী দোকানে নেই, অনেকটাই নিরাকপরা!
তবুও কাঁচা আনন্দে ঘুম আসে না
সবাই শিখে গেছে হিসাব বাইনারি
কিছু কিছু ভদ্দরলোক সুপুরুষ এখন কেবলই নারী!
আমিও তেমনি কেউ নাগরদোলা
চাহিদারেখা জাগ দিয়েছি আত্মভোলা!
তবুও আমূল বদলে গেছে মরাকটাল-তেজকটাল
তবুও
তেজারতির নামে নামিক হিসাবের ভাঙে পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৭ বার দেখা | ৪৫ শব্দ
ঢেঁকুর
জানি নীরবেই ঢেঁকুর তুলতে হয়
আমিও নীরবেই ঢেঁকুর তুলতে চেয়েছিলাম
সখি, এখন দেখি তথাস্ত
আমার ঢেঁকুরের শব্দ সবারই মুখস্ত!
তবু্ও ভ্রুক্ষেপহীন হোক গণশুনানির দিন
ইশতেহারে লেখা আদ্যক্ষর “ভ”
পিতা আজও নীরবেই কেঁদে কেঁদে কেঁদে
বলেন, “ম”!
ঢেঁকুর দিয়ে কবিতাটা শুরু করেছিলাম
কে জানে কী দিয়ে হবে শেষ
লোকে বলে, শেষ ভালো যার পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬১ বার দেখা | ৪৭ শব্দ
এক একে এক
একের নামতা বারবার পড়লাম
রাশি রাশি ধনের সমাহার
যে আজন্ম বুভুক্ষু সেও পেতে পারে
এক থেকে অনন্য আহার।
আসলে সৃষ্টি আর প্রলয় একসুতে
গাঁথা দুটি মুক্তোর মালা
প্রমোদতরীতে যেজন প্রণয় খুঁজে
সে অর্থে সবাই প্রমোদবালা।
যেজন বুঝতে শিখেছে উচ্ছিষ্ট জীবন
তার কাছে রুপ-রস-গন্ধ অতল
দেখো একের নামতায় ছড়িয়ে আছে
কী প্রেমময় এই ধরাতল!! পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৯ বার দেখা | ৪৩ শব্দ
ন কবিতা
নিশাচর এই আমি আরও একবার ঘুমিয়েছিলাম
যেভাবে মরুভূমির বালুকণারা ঘুমিয়ে থাকে
যেভাবে আকাশে ওড়তে ওড়তে পাখিরা ঘুমিয়ে থাকে
আমিও ঠিক সেভাবেই আরও একবার ঘুয়েছিলাম!
তখনও এই গ্রহে চলছিলো পৌষের চাষ
না রাত আর না দিন বারোমাস
তবুও গণকবরে ঝিমিয়ে থাকে চিত্তের ঋণ
অথচ এই আমি
যেমন অর্বাচীন ছিলাম, এখনও তেমনি পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৯ বার দেখা | ৬৫ শব্দ
খসড়া জলের দাগ
কবিতারা আর কবে গণমুখী হবে?
যেভাবে রাস্তার ধারে ভাঁপ-ওঠা পিঠারা গণমুখী হয়
যেভাবে সাত-সকালে কাঁচাবাজার গণমুখী হয়
ঠিক ঠিক সেভাবে।
সময়ের মৃত শরীর ঘেঁষে বিস্তীর্ণ মশা-মাছি ওড়ে
কাব্যের কালো অক্ষরগুলো কাব্য থেকে বেশ দূরে
তবুও কপালকুণ্ডলারা খিলখিল হাসে
মোটাদাগে খসড়া জলের দাগ ভালোবাসে
এভাবেই একদিন মরাগাঙে চির ধরে
তবুও ওরা পড়ুন
কবিতা | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৪ বার দেখা | ৪৮ শব্দ
বিশ্বস্ত ছাতা
অনেকদিন ব্রহ্মপুত্রের কাব্যশ্রী দেখি না
যেমন দেখি না আজন্মের পৈতৃক ভিটা
পেছন বাড়ির ক্ষেতের ধানের চিটা
ধূলো পড়তে পড়তে স্মৃতিরাও কালশিটা!
জীবনের ব্যস্ত সড়কে কেবল অথৈ যানজট
বঊ, ছেলে, মেয়ে সবাইকেই “হ্যা”বলতে হয়
কখনো বলতে পারি না এবার “নট”!
তবুও একটু একটু করে আমার দেনা বাড়ে
ভয়ে হাত দিই না হিসাবের পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৪ বার দেখা | ৫৮ শব্দ
বিষণ্নতার ঠোঁট পুড়ে
রোদ গলে গলে বিষণ্নতার ঠোঁট পুড়ে
নগ্ন বাতাসে ওড়ে চলতি হিসাবের করোনার কাল
তবুও হৈচৈ এ মেতে থাকে বৃদ্ধবণিতা আবাল!
ওজন দরে বিক্রি হয় বোধ
কুয়াশায় মুখ ঢেকে ভণ্ডও হয় সুবোধ
ছেঁড়াপালে লাগে হাওয়া
দিন কতেক আগে সখিনা ছেড়ে দিয়েছে খাওয়া!
তবুও উত্থান শেয়ার বাজার
ইতোমধ্যে লেনদেন চুকিয়ে গেছে হাজার হাজার
আঙুলে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭১ বার দেখা | ৫৪ শব্দ
পলাতকা
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। পলাতকা
এখনও শোধ দাওনি জন্মান্তরের দেনা, এখনও–!
দেখো, আমি আজো পথের মাঝেই খুঁজে বেড়াই পথের ঠিকানা!
অথচ এই শিনশিনে কপট শীত উপেক্ষা করেও তুমি পালিয়ে গেছ,
হে যাযাবর পলাতকা!
পালিয়ে গেছ ভাঙা বেড়ার ফাঁক গলিয়ে, ডিঙিয়ে সিঁদকাটা পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৭ বার দেখা | ১৪২ শব্দ
অবাক সূর্যোদয়
অবাক সূর্যোদয়
মৈনাক পর্বতের পাদদেশ থেকে নেমে আসা
কিম্ভূতকিমাকার অন্ধকারে বড়সড় হতে থাকে
রাত্রির দীঘল অজৈব ছায়া, কামুক জলে
স্নান সারে রাজহংস-রাজহংসী; ঘাতক জলও
তখন পৌষের পিঠা
সময়ও তেমনি কখনও তিতা, কখনও মিঠা!
নৈঃশব্দ্যের উর্বর ডানায় পাস্তুরিত হয় নতুন
ভোর, কোকিলের কুহুতানে বাজে বেহালার সুর
পরাজিত হয়েছে সকল আকাল, পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৭ বার দেখা | ৬৫ শব্দ ১টি ছবি
প্রিয়তমেষু
প্রিয়তমেষু,
আর দু’দিন পরেই নতুন হাওয়ায় পুরাতন চুল ওড়বে
একটি ক্যালেন্ডারের জায়গা দখল করে জন্ম নেবে
আরেকটি নতুন ক্যালেন্ডার, কেবল
কিছু আইবুড়ো ব্যাচেলর এখন যেমনি আছে
তখনও ঠিক তেমনি থাকবে আক্ষরিক অর্থের থান্ডার!
তবুও আমার ভুলো মনে আকস্মিক সূর্যের উদয় হয়
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু নাদান-না খাস্ত বয়ান
ঢেঁকুর তুলতে তুলতে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬১ বার দেখা | ৯৫ শব্দ
লোপাট
বেদনাকে এখন আর কিছুই বলি না
বাড়ি যাবে বলে সেও আর গেলো না।
খুলে দেবে বলেও খুললো না কপাট
চিন্তা, চেতনা ক্রমাগত হচ্ছে লোপাট!
বন আগেই পুড়েছিল, এখন পুড়ে মন
জলেও আগুন জ্বলে দাবানলের ক্ষণ।
ক্ষুব্ধ সমুদ্রে উৎসবে মাতে যখন ঢেউ
তখন ছোট্ট তরীর সংগী হয় না কেউ! পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৬ বার দেখা | ৪৩ শব্দ
লুট
সিন্ধু ফুঁড়ে বিন্দু কুড়াই
জনম ভরা ভয়,
দিবানিশি আপন ভাবি
সেই আমার নয়!
তবুও আমি তার পিছু
করছি কতো শুট
বিনিময়ে হচ্ছে আমার
কাঁথা-কম্বল লুট!! পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৬ বার দেখা | ১৮ শব্দ
না চাঁদ না জোছনা...
তপতী কেমন আছে, অনেকদিন কিছুই জানি না
আমিও কেমন আছি, তাই কি কেউ জানে?
লোকে চাঁদ ভালোবাসে নাকি জোছনা? কেউ জানলেও
জানতে পারে তবে আমি জানি না!
তবুও আকাশে চাঁদ উঠার কোনো কমতি নেই
তবুও চাঁদের জোছনা বিতরণে কোনো কৃপণতা নেই
তপতী কি জানে?
পুতুল বেলায় যেমন ছিলাম এখনও পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৮ বার দেখা | ১০৯ শব্দ
শরীর বেয়ে হাঁটে পুণ্যের ঘাম
হেমন্তের উড়ন্ত সূচনায় ওড়ে অভিসারী মন
বউ বাজারের চড়া দামে তা টিকে না বেশিক্ষণ?
স্বরলিপির সমস্ত জমিন জুড়ে অংকিত সোনা
এভাবেই হউক রোপা আমনের শৈল্পিক বোনা!
কিষাণীর একহারা শরীর বেঁয়ে হাঁটে পুণ্যের ঘাম
কাগজের টাকায় কতোটা শোধ হবে তার দাম?
তবুও তোমাদের বিত্ত আর চিত্তের ফানুস ওড়ে
সৌখিন শালের পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৯০ বার দেখা | ৭৭ শব্দ