মেয়ে ও মায়া মাদক ও রাষ্ট্র

MG_16057

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৪৬তম পর্ব।
5
আসসালামুলাকুম আন্টি। কেমন আছেন।
আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছো নাহিদ। যাক, জামিন হলো শোকর আল্লাহর ।
জ্বি আন্টি জামিন পেলাম।
যাও ফ্রেশ হয়ে নাও আমি খাবার দিচ্ছি।
ঠিক আছে আন্টি। আম্মু এবং শিউলীর কথা খুব মনে পড়তেছে।
আল্লাহ মেয়েটাকে জান্নাতবাসী করুণ। শিউলী জীবিত থাকলে তোমার জামিনে অনেক খুশি হতো। তোমার বাসায় জানে তুমি জেল হতে বের হয়েছো।
জ্বি, আম্মুকে ফোন দিয়ে কথা বলেছি।
আম্মু আপনি নাহিদকে খেতে দিবেন নাকি কথাই বলবেন।
আরে সুজন আমি খেতে পারছি ।
ঠিক আছে তোমরা খাও, কিছু লাগলে বলিও।
কি লাগবে বল নাহিদ।
সামনে সব আছে লাগলে আমি নিবো।
ভেরি গুড়।

কোন কিছুই ভালো লাগছে না সুজন, প্রচণ্ড অস্থির লাগছে মনটা । এইভাবে শিউলী আমাকে ছেড়ে চলে গেল। ইস! সে হয়তো আমাকে আমৃত্যু অভিশাপ দিয়ে গেল। আমি তাকে ভালো খাওয়াতে পারিনি ভালো পরাতে পারিনি। সে আমার প্রকৃত পরিচয়ও জানতে পারলো না শুধু জানতো আম্মু কিছু টাকা পাঠাতো যাহা দিয়ে চলতেও কষ্ট হতো।
এখন আর এইসব চিন্তা করে কোন লাভ হবে না।
তা ঠিক সুজন কিন্তু মনকে বুঝাতে পারছি না।
এখন কি তুই কোথায় থাকবি কি করবি ভেবে দেখ। দেখি সোবহান মিয়া কি বলে, তারপর সিদ্ধান্ত নিবো। জীবন তুমি আমাকে এমনভাবে ধাক্কা দিলে চলার পথে সব কিছু তছনছ হয়ে গেল।
একটা টিকটিকি দেয়ালের উপরে কোনায় বসা । বুকের মাঝামাঝি জায়গায় চামড়াটা টিকটিক করে উঠানামা করছে। কখনো কখনো দৌড়ে এসে লাইটের উপর বসা ছোট পোকামাকড় ধরে খায়। তবে বসে থাকে না আবার ফিরে যায় নিজের জায়গায় সেই কোনায়টায়।
আমি ঘুম যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু ঘুম আসে না। চোখ বন্ধ করলেই শিউলীর মায়াবী নিষ্পাপ মুখটা ভেসে উঠে। মনে হয় যেন বলতে চায় ভালোবাসি বলে ভালোবাসি। খুব ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে কপালটায় একটা আদর করি কিন্ত পারি না। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ঘুম আসে কখন বলতেই পারি না।

চাচা কি বাসায় আছে?
জ্বি আছে, বসেন ডেকে দিচ্ছি।
ঠিক আছে, বলবেন নাহিদ এসেছে দেখা করতে।
আরে নাহিদ মিয়া তুমি কবে ছাড়া ফেলে জেল হতে। একটু ফোন দিলে না, একটু খবর দিলে না । আমি জেল গেইটে যেতাম নিয়ে আসার জন্য আচ্ছা থাক এইসব কথা, এখন বলো কেমন আছো, কি খাবে? চাচা আমি আমি ভালো আছি , চা হলে ভালো হয়।
তোমার বাসায় তালা মারা , আমার ভাড়া দিলো না এবং বললোও না তোমার বউ চলে গেল কাজটা কি ঠিক হলো বাবা! আমাকে বলে যেত পারতো সে।
চাচা আমার বউ কিছু দিন আগে বাস দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে আপনি জানেন না?
ইন্নারিল্লাহ। আহারে, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। খবরে দেখেছি ঢাকাগামী একটা বাস অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে।
জ্বি সেটাই। আমি জেলে যাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেল। এখন তুমি আমার বাসায় থাকবে নাকি মা বাবার বাসায় থাকবে। তুমি এখানে থাকলে আমার কোন আপত্তি নাই , টাকা পয়সা লাগলেও বলতে পারো।আমি আপনার এখানে থাকতে চাই এবং আপনার সাথেই কাজ করতে চাই, যদি আপনি সুযোগ দেন ।আমার দরজা তোমার জন্য সবসময় খোলা।
আরেকটা কথা বলবো চাচা।
আরে বলো কি বলতে চাও।
আগামী কাল আমার কিছু টাকা লাগবে। আমি আমার শুশুর-শাশুড়ীর সাথে দেখা করতে যাবো।

আচ্ছা ঠিক আছে আমি তিন হাজার টাকা দিবো যাও দেখা করে আসো। আমি তোমার জামিনের জন্য সরকারি পিপি কে অনেক বার ফোন করে বলেছি ভালোভাবে চেষ্টা করতে। কিন্তু তোমার বন্ধু সুজন কোন দিন দেখাও করলো না আমার সাথে তাই খবরাখবর জানতে পারি নাই। একটু রাগও ছিলো, এখন তুমি আসছো সব পুরাতন কথা ভুলে নতুনভাবে শুরু করো । তোমার সব কিছু আমি দেখবো।
ধন্যবাদ চাচা।
(চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৪৭তম পর্ব।

সোবহান মিয়ার সাথে কথা বলেছি সুজন।
ভালো হয়েছে, কি বললো উনি ?
এইসব লোক হল খুবই চতুর। এরা মিথ্যাভাষণে পটু এদেরকে বিশ্বাস করা আর নরকে বাস করা সমান কথা। তবে ভালোই বলেছে তার বাসায় থাকতে বলেছে টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যা হবে না বলেছে। আমি শিউলীদের ওইদিকে যেতে চাই তুই যাইবি ঘুরতে। আর সকালে আমি সোবহান মিয়ার সেই বাসায় চলে যাব, আপতত সেখানে থাকি।
শিউলীর মা বাবা তোকে দেখে রাগ করে কিছু বললেও তুই মন খারাপ করবি না। আমার সময় হবে না যাওয়ার , না হয় গিয়ে দেখে আসতাম। টাকা পয়সা কোথায় হতে যোগাড় করবি আমার একদম হাত খালি এখন তবুও দেখি কি করা যায়।
ওহ হ্যাঁ, সোবহান মিয়া তিন হাজার টাকা দিবে বলেছে দেখি আরেকটু বেশী নিতে পারি কিনা।
তিন হাজার টাকায় হবে না তোর ।
সন্ধ্যায় দুইজনে চা নাস্তা না করে বাহিরে চলে গেলে। এখন চা দিবো নাকি তোমাদেরকে ?
দাও আম্মু, চা পান রত আলাপে মজা লাগবে।
আন্টি কাজের মেয়ে কোথায়?
তোমার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করো বাবা। সুজন বলে ছোট বাচ্চা মেয়ে দিয়ে কাজ করানো অমানবিক । আর বড় মেয়েরা চুরি করে, মান সম্মানের ভয়ে কিছু বলাও যায় না।
আম্মু আমি তোমার যদি কলিজার টুকরা হই অন্যের সন্তানও তাদের কাছে সেই রকম এইটা কেউ না বুঝলে আপনি আমার মা হয়ে এইটা বুঝবেন। বিভিন্ন কারণে মানুষ ছোট মেয়েদের অন্যের বাসায় কাজে দেয় সেখানে তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করে অমানবিক খাটুনি খাটায়। এর পরও একটু এদিক সেদিক হলে অকথ্য নির্যাতন চালায় যা খুবই দুঃখজনক। এর চেয়ে ভালো আপনি আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন কাজ করছেন। গৃহকর্মীর কাজের টাকা প্রতি মাসেই দুইজনকে পড়ালেখা করতে দিচ্ছি আর আমি বস্তিতে গিয়ে বাচ্চাদের লেখাপড়া দেখিয়ে দিচ্ছি এইটাই আমার কাছে ভালো লাগে। আর সমস্যা হলে আমি আপনাকে কাজ সাহায্য করবো।

চা নাও তোমরা ।
আন্টি আপনি সুজনের মা হয়ে গর্বিত। তার জন্যই আমি জেল হতে বাহির হতে পেরেছি।
এইভাবে আমাকে উপরে উঠাতে হবে না শেষে পড়ে আমার কোমর ভেঙ্গে যাবে, নাহিদ।
হাঃ হাঃ হাঃ (সবাই হেসে উঠে)।
“মা তুমি আমাকে দুনিয়ায় এনেছো
আমি তোমাকে দুনিয়া দেখাবো”।
সুজন কবিতা বলে মাকে জড়িয়ে ধরে। নাহিদ সেই দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ে। আস্তে আস্তে নাকি সব ঠিক হয়ে যায়? অথচ প্রিয়জনের স্মৃতি মনে পড়লে মানুষ কাঁদে? কারণ মনের অগোচরে সব রয়ে যায়! শুনেছি মানিয়ে নিলেই নাকি সব ঠিক হয়ে যায়। তবে কেনো সংসার ছেড়ে মানুষ বৈরাগী হয়। তবুও কেনো মানিয়ে নিতে নিতে লোক চরমভাবে হেরে যায় জীবনের কাছে!

পরিবারের জন্য ভালোবাসা ত্যাগ দেওয়া কি ঠিক? নাকি ভালোবাসা আগলে রেখে সময়ের সঙ্গে চলা উচিত? কিন্তু মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে খুশি করতে চাইলে, তাকে শুধুই ভালো রাখা যায়, ভালোবাসা হয়না! তাই হয়ত ভালোবাসা মানে ভালো রাখা হলেও ভালো রাখা মানেই ভালোবাসা নয়। আম্মু আমাকে ভালোবাসা দিয়ে বুকে আগলে ভালো রাখতে চেয়ে ছিল কিন্তু হয়নি আমি ভালোবাসা দিয়ে শিউলীকে ভালো রাখতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু পারিনি।নিয়ম করে কোন কিছু হয় না কিংবা চলে না। জীবন চলে জীবনের আপন নিয়মে মানুষকে শুধু শক্ত হাতে হাল ধরতে হয় না এলোমেলো হওয়ার সম্ভবনা থাকে।সাগরে পাল তোলা নৌকার মত মাঝি শক্ত হাতে বৈঠা না ধরলে ঝড় আসলে উল্টে যায় নৌকা জীবনও ঠিক তাই। জানি না আমার জীবনে কোন ভুলের প্রভাব পড়লো। আব্বুর অতিরিক্ত শাসন আম্মুর অতিরিক্ত আদর ভালোবাসা এই দুইটির প্রভাবে জীবনের মাঝ সাগরে ডুবন্ত জাহাজ আমি। এই ঝড়ের মাঝো শিউলী যাত্রী হয়ে সাগরের তলদেশে যেখান হতে আর কখনো ফিরে আসার পথ নেই। ক্ষমা করো শিউলী তোমার স্বর্গময় বিচরণ হতে। শুনেছি – “মানুষের জীবনে সব কিছুই ছোট ছোট হয়, জীবন ছোট, ভালোবাসার দিন ছোট, শুধু দুঃখের কাল বড়”। দেখা যাক আমার বেলায় কেমন হয়।

আমি সকাল সকাল যেতে হবে, না হয় সোবহান মিয়াকে পাবো না পরে গেলে, বাসাটাও দেখে আসবো। সব ঠিকঠাক মতো আছে কিনা দেখবো। টাকা হলে আগামী কাল রওয়ানা হবো শিউলীদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কয়েক দিন থাকবোও সেখানে । ঠিক আছে নাহিদ।
(চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৪৮তম পর্ব।

চাচা আরো এক হাজার টাকা বেশী দিলে ভালো হয়। কিন্তু কেন এত টাকা দরকার তোমার। থাকবে আমার এখানে খাবে হোটেলে, দরকার হলে হোটেলে আমি বলে দিব। তুমি কি কোথায়ও যাবে?
জ্বি চাচা আমি আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি যাবো কয়েক দিন সেখানে থাকবো তাই টাকা একটু বেশী দিতে বলতেছি , এছাড়া অন্য কোন কারণ নাই।
ফিরে আসবে এখানে ?
হ্যাঁ চাচা অবশ্যই ফিরে আসবো, মাত্র কয়েকটা দিন। দেখো আবার আমাকে বেকুব বানানোর চেষ্টা করো না। তুমি এখানে ফিরে আসবে আশা করি। এই নাও পাঁচ হাজার টাকা দিলাম ।
ধন্যবাদ চাচা, অবশ্যই আমি ফেরত আসবো চার/পাঁচ দিন পর।
ঠিক আছে যাও। আসার পর একটা কাজ করতে হবে।
কি কাজ চাচা।
তোমাকে মন্ত্রীর সাথে ভালো করে পরিচয় করে দিতে হবে। তুমি আমাদের জন্য কাজ করো তা মন্ত্রী জেনে রাখা ভালো হবে।
উনি এলাকায় আসবে কখন চাচা?
এখনো তারিখ সিউর করা হয়নি। তাই বলছি তুমি এলাকায় থাকলে ভালো হয়।
আচ্ছা চাচা অচিরে ফেরত আসবো।

আমারও ইচ্ছা ছিল মন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়া এই সুযোগ কিছুতেই হাত ছাড়া করা যাবে না। সোবহান মিয়া তোমার হতে বাঁচতে পালাতে গিয়ে আমার বউ কবরে। আমি তা ভুলি কেমন করে চাচা সোবহান মিয়া। যে দল ক্ষমতায় আছে সরকারে আছে সেই দলেই আমি আছি। অচিরে আপনাকে একটা ধাক্কা দিবো আমি তখন থানা পুলিশকে ঠাণ্ডা রাখতে বড় লোকের টেলিফোন খুব দরকার হবে। সহজ সরল সুন্দর মনের মানুষ পৃথিবীতে বেশী কিন্তু অল্প কিছু অসুন্দর ও কুলষিত মনের মানুষের কাছে পৃথিবীটা অসহায়। সুজন কিংবা শিউলী কারোই ক্ষমতা কিংবা টাকা পয়সায় কাছে দাঁড়ানোর সাহস নেই হবেও না। সুজনকে চুপ থাকতে হচ্ছে নিজের জীবনের ভয়ে আর শিউলীকে জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবনের অবসান হয়েছে। অথচ সোবহান মিয়ার কিছুই হয়নি হবেও না তাহাছাড়া মানুষ জানবেও না আর জানলেও বিশ্বাস করবে না কারণ উনি সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষ। উনার নামের আগে আছে বিশেষণ সবাই জানে উনি দানশীল ও জনদরদী । আর আমি জানি উনি চোরাচালানকারী, মাদক কারবারী, ভূমিদস্যু ও নারীর দেহ লোভী। উনার কথার প্রভাব আছে কোট-কাচারি, থানা এবং অফিস আদালতে।

বাসার ভিতরে সব কিছু সাজানো গুছানো আছে শুধু নেই শিউলী। আমি বিপদে পড়ে সোবহান মিয়ার পিছনে হাটতে হচ্ছে কিন্তু আমার দম বন্ধ হয়ে যেতে চায়। জানি না কবর হতে শিউলী আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে কিনা তারপরও বলবো যদি পারো ক্ষমা করো।জীবনের তাগিদে সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছু করতে হয় অনেক সহ্য করতে হয় নাহিদ।
তাই করছি সুজন।
নিম পাতাকে যতই মিষ্টি রসে ভিজিয়ে রাখো সে তিতা থাকবেই। সেই রকম কিছু মানুষও আছে, তাদেরকেে তুমি যতই ভালো উপদেশ দাও তারা লোভী থাকবেই।
তা ঠিক, সোবহান মিয়া সেই রকম একজন মানুষ। আমি তোকে কোন উপদেশ দিবো না তোর মনে যে কাজ করতে চায় তা মেজাজ দিয়ে বিবেচনা করে তারপরে করবে যা ভালো হয়। আবেগী হয়ে কোন কিছু করাটা উত্তম নয়। আর যখনি বাসায় থাকবি বই পড়তে চেষ্টা করবি, ভালো ক্ল্যাসিক্যাল বই, বড় বড় মনীষিদের জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী পড়তে চেষ্টা করবি। দেখবি ভালো লাগবে অনেক কিছু জানা হবে, মন উৎফুল্ল থাকবে।
ঠিক আছে চেষ্টা করবো তোর কথা রাখতে।
ধন্যবাদ তোকে নাহিদ।

কুটুমনগর ভারতের সীমান্তবর্তী ছোট ছোট টিলা আর গাছ পালায় সৌন্দর্যময় এলাকা। রাস্তা কিংবা টিলা সবখানে নানা জাতের কাঠের গাছ লাগানো দেখতে এলাকাটা নয়ন জুড়ানো তবে শিউলীদের গ্রাম থেকে একটু দুরে। বিকাল বেলায় বিভিন্ন গ্রাম হতে কুটুমনগরে দলবেঁধে ঘুরতে আসে সব বয়সী নারী পুরুষ। ।
(চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৪৯তম পর্ব।

এই সীমান্তবর্তী এলাকাটি মাদক চোরা কারবারীদের
স্বর্গ রাজ্য। ওপার হতে শুধু মাদক নয় আসে কাঠ, কাপড়, ঔষধ ও মসলা। এপার হতে যায় ইয়াবাসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এতে জড়িত বড় বড় রাঘববোয়াল যাদের নাম নিলে রাষ্ট্র আমাকেই অস্বীকার করবে যে আমি বাংলাদেশের নাগরিক। সারি সারি মেহগনি আকাশী সেগুন গাছের বাগান দেখতে খুব ভালো লাগে। শীত মৌসুমে বাগানে কিশোরী মেয়েরা দল বেঁধে পাতা কুড়ায এইসব পাতা রান্নার কাজে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারগুলি। এই ছোট ছোট মেয়েদের সাথে কথা বলে মজা করতে আমার কেনো জানি খুব ভালো লাগে। কুটুমনগর আসা যাওয়ার পথে শিউলী আমার নজরে পড়ে আর প্রথম দেখায় আমি তাঁর গভীর প্রেমে পড়ে যাই। অথচ শিউলীর গায়ের রং সাদাও না। শ্যামলা ছিপছিপে লম্বা মায়াবী নেত্র আমাকে আকৃষ্ট করে তাই দেখতে দেখতে আমি তার নেত্রজলে ডুবে যাই। কুটুমনগরের টিলায় টিলায় ঘুরে বেড়াতে শিউলী ছিলো আমার সঙ্গী, মনে হয় সেইসব দুই/একটা দিন যেন জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার বিধাতার।

কেউ হারিয়ে যাওয়া কিংবা হারিয়ে ফেলা মানুষ গুলোর কেবলই শারীরিক উপস্থিতি হারায়। চায়ের দোকানের তুমুল সংলাপে কিংবা মধ্যরাতের দীর্ঘশ্বাসে থেকে যায় স্মৃতি চিহ্ন। তারা সরব থাকে রেখে যাওয়া ছোঁয়া কিংবা চলার পথের তিক্ততায়।
বর্তমান পুরাতন হয়ে যায়, নতুনের সুর আসে কথা হয় বহুপথ একসাথে চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে। তারপরও কখনো কখনো আসে ক্লান্তির ছাপ। আশ্রয় নেয় এবং আধিপত্য বিস্তার করে ছোট ছোট শত শত অভিযোগ। আমি সব অভিযোগেও “তোমায় ভালোবাসি”। আর এই কথা বলতে না পারার অভাবে মরে যায় কত নিবিড় সম্পর্ক। মিষ্টি শব্দের স্রোত থেমে যায় নিষিদ্ধ চাওয়ার আকুতিভরা আবদারে। “আমি তোমায় অকৃত্রিম ভাবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসি” এইটা তো কথার ফুলঝুরি। কিন্তু শিউলী তুমি অকৃত্রিম ও নিঃস্বার্থ ভালোবেসেছো এইটা ধ্রুব ও সাদা সত্য। এই সত্য অস্বীকার করা যাবে না কখনো।

অনেক দিন পর আবার দুরের কোথায়ও বেড়াতে বের হলাম। বাসে জানালার পাশে সিট নিয়ে বসে জানালার পর্দা সরিয়ে দিলাম। বাসও ঠিক টাইমে ছেড়ে দিলো। বাস ছাড়ার সাথে সাথে একটা ভয় দপ করে এসে হৃদয়টাকে মোচড় দেয়। ভয়টা যেন একদম দৃশ্যমান দানবের মত আমেকে চেপে ধরে বার বার অদৃশ্য আওয়াজ অ্যাক্সিডেন্ট অ্যাক্সিডেন্ট করে। পাশে বসা ভদ্র লোক বুঝতে পারলো আমার অস্বস্তি তাই তাড়াতাড়ি পানি পান করতে দিলো।
আপনি এমন কেন করছেন ভাই?
আসলে কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে।
লোকটি হেসে উঠে বলে ওহ আচ্ছা, ভয় পাওয়ার কি আছে।
আসলে কিছু দিন আগে রোড় অ্যাক্সিডেন্টে আমার স্ত্রী মারা গিয়েছেন আমি তখন——।
খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সত্যিই দুঃখিত।
এখন তাঁর মা বাবার সাথে দেখা করবো। এবং তাঁর জন্যও দোয়া করবো।
আমিও দোয়া করি আপনার স্ত্রীর জন্য। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুণ।
আমিন। ধন্যবাদ ভাইজান।

থেমে থেমে লোকটার সাথে টুকটাক কথা বলে ভালো লাগলো। কিন্তু উনি একটু পরেই ঘুমিয়ে যায় আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকি। শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের জানালার পর্দা একটু টেনে আমি প্রকৃতি উপভোগ করি। আসলে আমি বাস ভ্রমনে জানালার পাশেই বসতে ভালোবাসি কারণ জানালা দিয়ে প্রকৃতি দেখতে খুবই আনন্দ লাগে। জানালা খোলা থাকলে হু হু করে যে বাতাস ঢুকে তাও খুব উপভোগ্য
(চলবে)।

VN:R_U [1.9.22_1171]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
VN:R_U [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
মেয়ে ও মায়া মাদক ও রাষ্ট্র, 5.0 out of 5 based on 1 rating
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

২ টি মন্তব্য (লেখকের ১টি) | ১ জন মন্তব্যকারী

  1. মুরুব্বী : ১৯-১১-২০২০ | ৮:৫৮ |

    দেশের জনগণের টাকা খরচ করে কবরকে জৌলুস করায় মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় না কিংবা জনসাধারণের ভালোবাসাও নেতার প্রতি বাড়ে না। তারপরও ক্ষমতাধারী বা ক্ষমতায় যেতে অভিলাষীরা আজীবনই এমন করে। দুঃখজনক। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)

মন্তব্য করুন