মেয়ে ও মায়া মাদক ও রাষ্ট্র

আসলে ভাইয়া আমি যখন বুঝতে পারি যে নাহিদের স্বভাব ভালো নয় সে মাদক কারবারী ও জুয়াড়ি এমনকি কাজকর্মও করে না তখনি চলে যেতে চেয়ে ছিলাম। না গিয়ে যেমন ভুল করেছি তেমনি এমন একটা লোকের সাথে ঘর ছেড়েও ভুল করেছি। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া মেয়ে মানুষের বিয়ে একবার করাই ভালো। আর আমিতো গরিব ঘরের তালাকপ্রাপ্ত গরিব মেয়ে কেউ বিয়ে না করে সমালোচনা করবে। এর পর আছে সামাজিক নিয়ম নীতি আমি এখনো ঘরে ফিরতে হলে অনেক কৈফিয়ত দিতে হবে সমাজের কাছে কোথায় ছিলাম কি করেছি শত সওয়াল জবাবের পরও আছে অর্থনৈতিক জরিমানা। এইসব ভয়ে সব সহ্য করে নাহিদকে ভালোবাসা দিয়ে ভালো করতে চেয়েছি। ঘর যেমন ভালোবাসার কানন হওয়া উচিত তেমনি সমাজও ভালোবাসার বিশাল কানন হওয়া উচিত। আপনাদের ঘর যেমন আমাদের ঘরও তেমন আমাদের টাকার কষ্ট আছে না পাওয়ার কষ্ট আছে না খাওয়ার কষ্ট আছে কিন্তু ভালোবাসার কষ্ট নাই ভালোবাসার সুগন্ধীর অভাব নাই। আপনার বাবা মা যেমন ভালোবাসার কাননের মালি তেমনি আমার কৃষক বাবা ও গৃহকর্ত্রী মা ভালোবাসার মালি।

আমার বাবা আমাদের মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে হিমশিম খায় আর করবেই বা কেমন করে দামের এই উর্দ্ধগতির দিনে একজন দিন মজুর কি আর করতে পারবে তার পরিবারের জন্য। আমার মা এইসব নিয়ে কখনো মন খারাপ করে না পরিবারের সব মানিয়ে চলার শিক্ষাটা দিয়েছে উনি। আমার নানা নানী অনেক সাহায্য করে আমার এক দাদী অনেক সাহায্য করে এইসব খয়রাতির সাহায্য না এইসব হলো অকৃত্রিম ভালোবাসা। আমি নাহিদকে সেই ভালোবাসা এবং মায়ের শিক্ষা দিয়ে ভালো করতে চেয়ে ছিলাম। আসলে মনের অজান্তে তাকে এত গভীর ভালোবেসে ফেলেছি যে পরিবার ছেড়ে আজ আমি পথে পথে। তারপরও তাকে আমি আরেকটা সুযোগ দিবো আর এই সুযোগ দিতে চলতে হবে আপনি আমার সাথে একজন গরিব অসহায় মেয়ে আপনাকে বড় ভাই বলে ভালোবাসার দাবি দিয়ে এই অনুরোধ করবো।

আমার একটা কাজিন আছে মৌরি আপু সেও আপনার মত মানুষের উপকার করে আমাকে অনেক ভালোবাসে। এখন বিদেশে পড়তে চলে গিয়েছে সে থাকলে আমি ফোন দিলে চলে আসতো উনার আম্মু ঢাকায় আছে। ওই যে বললাম দাদীর কথা উনি আর উনার ছেলে কানাডা থাকে কিন্তু মৌরি আপুর আম্মু ঢাকায় বড় চাচা কানাডায় বিয়ে করায় আন্টি মেনে নেয়নি। মৌরি আপুকে নিয়ে ঢাকায় থাকতো তবে চাচার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেনি। তাই দাদী একা বলে কানাডা চলে যায় আর মৌরি আপুকে উনার আম্মু বিদেশে পাঠায় পড়তে। চাচী এত ভালো মানুষ যে দাদী উনাকে বউমা বলতো না নিজের মেয়ে বলতো। দাদী কানাডা যাওয়ার সময় জমানো টাকা এবং জমিজমা সব চাচীকে দিয়ে গিয়েছে। চাচী বলে ছিল আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবে এবং আমার শিক্ষা বিয়েশাদী সব উনি দেখবে। কি আজব আমরা চাচা চাচীর অঢেল টাকা উচ্চ শিক্ষিত অথচ বিছিন্ন ভাঙ্গা ঘর।

আর আমার সোনালি ভবিষ্যৎ গড়তে না গিয়ে আমি এসে পড়ি মাদক কারবারীর ঘরে। এখন না পারছি বাবার ঘরে ফিরতে না পারছি স্বামীর ঘরে ফিরতে। মাঝখানে হায়েনারা আছে ওৎপেতে আমাকে খাবলে খেতে। ভাইয়া আমার কাছে বাবা, নানা এবং চাচীর ফোন নাম্বার আছে আপনি ভেবে দেখেন কাকে ফোন দিলে ভালো হবে। প্রথমে এদের একজনকে আমার সব বলে আমি ফিরতে চাই জানাতে হবে কোথায় গেলে ভালো হয় আপনি চিন্তা করে বলবেন।

(চলবে)

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৩২তম পর্ব।

তাহলে আমি বলবো প্রথমে চাচীর কাছে ফোন দিতে।
কারণ উনি ভালো পরামর্শ দিতে পারবে তোমার আব্বু আম্মুকে বুঝাতে পারবে সমাজ উনার একটা কথা মানবে। তাই তোমার উচিত উনাকে সব বিস্তারিত বুঝিয়ে বলে উনার সাহায্য চাওয়া।
ঠিক আছে তাহলে উনার সাথে প্রথম কথা বলবো।
শিউলী তুমি আবার মনে করো না আমরা তোমাকে এখানে রাখতে চাইতেছি না তোমার জন্য আমাদের বাসা নিরাপদ নয়। সোবহান মিয়া কিংবা তার লোকজন জানতে পারলে অনেক সমস্যা করবে।
না না ভাইয়া , আমি কিছু মনে করতেছি না ।
সোবহান মিয়া তোমাকে আজ দুই দিন বাসায় না দেখে অবশ্যই খোজ করতেছে।
তা ঠিক , লোকটা সমাজসেবার মুখোশ পরে আছে। ভিতরে এত খারাপ আমি বললেও কেউ বিশ্বাস করবে উল্টা আমাকে খারাপ বলবে।

চাচা পাখিটা রাতের অন্ধকারে উঠাল দিলো টের পেলাম না।এখন আমও গেল ছালাও গেল।
আমি ভাবছি কে তাকে এখান হতে পালাতে সাহায্য করলো। আমার পাড়ার লোকে নাকি ঘরের লোকে।
ইসরে চাচা আপনার ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে নাহিদকে কিছু বলি নাই শালা একটা খাজা খোর। আমি কালকে জেলখানায় যাইবো তার সাথে কথা বলতে। দেখি আসল কথা বাহির করা যায় কিনা।
তোমরা এদিক সেদিক খোজ লাগাও। যদি সুজন এই কাজে জড়িত থাকে তাহলে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দিবে। থানা পুলিশ আমি সামাল দিবো আমরা সরকার আমরা দেশ চালাই আর মানুষ করে আমার সাথে বাটপারি।

আসসালামুলাইকুম আন্টি।
ওয়ালাইকুম সালাম। কিন্তু কে আপনি।
আমি শিউলী আন্টি ।
শিউলী !! তুমি কোথায় হতে ফোন দিয়েছো।
আন্টি সব বলবো। এখন আমি আপনার কাছে আসতে চাই। আপনি আমাকে বাঁচান আন্টি।
কিন্তু তোমার আম্মু আব্বু কি জানে তোমার কথা আর আমার আসবে যে। তারা যদি ভুল বুঝে?
আন্টি আমি প্রথম আপনাকে ফোন দিয়েছি এরপর উনাদের ফোন দিবো আমি তাঁদের বলেই আপনার কাছে আসবো এখন আপনারই সাহায্য প্রয়োজন। আচ্ছা ঠিক আছে আসো আমি বাসার ঠিকানা বলে দিবো যখন আসবে আমাকে ফোন দিও।
আন্টি ধন্যবাদ ।

ভাইয়া আপনি নাহিদেকে সব বুঝিয়ে বলবেন। এখন আমি আমার ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে ভালোবাসার মায়ার তাগিদে ঘর ছেড়েছি এখন ইজ্জত সম্ভ্রম বাঁচানোর তাগিদে স্বামীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। সোবহান মিয়ার ওখানে তারা প্রথম জানতে পারে নাই নাহিদ জেলে জানলে এতদিনে হয়তো আমাকে মরতে হতো না হয় দৌলতদিয়ার কুঠিরে সুট টাই পরা কোন ভদ্র লোকের উষ্ণ চুমা সহ্য করতে হতো নাক কাটা যেত পরিবারের। আমি নিরাপদ স্থানে যাচ্ছি তাকে ত্যাগ করছি না সে জেল হতে বাহির হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করবো। আর একটা অনুরোধ আবারও করছি আপনি তাকে জেল হতে বাহির করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিবেন। (চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৩৩তম পর্ব।

তুমি আমার উপর বিশ্বাস রাখো নাহিদকে অতি তাড়াি বাহির করবোই। তুমি নিজেকে এখন নিরাপদ ও সুস্থ রাখো। আম্মু খাবার দাও ক্ষুধা পেয়েছি।
ঠিক আছে আমি যাচ্ছি খাবার আনতে।
না না তুমি বসো সুজন বলে ।
আপনার প্রসংশা করে আপনাকে ছোট করতে চাই না। আপনার সুস্থ নির্মল অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা লিখলে উপন্যাস হবে। আপনার মত লোক আছে বলেই নারী হতে মা হওয়ার ইচ্ছা করে। আমার যদি ছেলে হয় তাহলে নাম দিবো সুজন এতে আপনি আমার ছেলের ভিতর বেঁচে থাকবেন। আর চেষ্টা করবো ছেলেটা যেন স্বভাব চরিত্রে সুজনই হয়।
হাঃ হাঃ হাঃ এত বলো না। চলে গেলে ভুলে যায়।
না না ভাইয়া সবাই এক না। পরজনমে আপনার মায়ের মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে বোনের অধিকার চাইবো

আর যদি ভুলে যাই তাহলে মনে করবেন বাবার ঘরে অথবা নাহিদের ঘরে কিংবা এক অচেনা পরিবেশে শিউলী সংগ্রামে লিপ্ত দু‘মুঠো অন্নের জন্য। তবে নাহিদের বর্তমান অবস্থা আমি আর মেনে নিবো না।আমিও চেষ্টা করবো বুঝাতে নাহিদকে । তবে যারা এই পদে একবার চলে যায় তারা ফিরতে চায় না।
তা ঠিক ভাই ,তবে নাহিদ না বুঝলে কিছুই করার নাই তাকে হয় আমাকে ছাড়তে না হয় মাদক ছাড়তে হবে।দেখা যাক কে জিতে। মাদকের ভালোবাসা নাকি শিউলীর ভালোবাসা ।
কিরে খাওয়ার ঠাণ্ডা হচ্ছে আর তোমরা কথাই বলে যাচ্ছো। এই সুজন মেয়েটাকে এবার খেতে দেয়।
ঠিক আছে আম্মু আপনিও একসাথে বসে যান।
াাএসো এসো খেয়ে কথা বলো।
এইদিন আন্টি আমি নিয়ে দিচ্ছি আপনি খেতে বসেন

নাহিদ আজ তোকে কিছু গুরত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই।
ঠিক আছে বল শুনি আমি নাহিদ বললো সুজনকে তুই একজন আমার বলার লোক আছে এখন। আগে বল শিউলী ও আন্টি কেমন আছে।
সবাই ভালো আছে তুই এইসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আগের সব কথা তোকে বলেছি এখন কথা হলো শিউলীকে নিরাপদ রাখা। আমার বাসায় আছে যদি সোবহান মিয়া জানতে পারে তাহলে আমারও ক্ষতি করবে। সে লোকজন লাগিয়ে দিয়েছে খবর নিতে।
এখন তাহলে কি করা যায়।
আমি আর শিউলী সব ঠিক করে রেখেছি শুধু তোর অনুমতি প্রয়োজন তাহাছাড়া তুইও জানা দরকার ।
যা ভালো হয় তুই তাই করবি আমার বিশ্বাস।
সে এখন ঢাকায় চলে যাবে তার চাচীর কাছে উনার সাথে কথা হয়ছে। উনি শিউলীর বাবা মাকে সব জানাবে ।
আমাকে আবার কোন আইনী জটিলতায় ফেললে আন্টি। আমি উনার কথা শুনেছি।
আরে না এইসব এখন আর করবে না।

শিউলী জানে না আমার এবং পরিবারের বিস্তারিত সব। আমার বাবাও সম্মানিত লোক আমি তাকে বলি নাই এবং তারাও জানেও না আমার বর্তমান জীবন। নেতার সাহসে কিশোর কালে গ্যাং নিয়ে চলতে চলতে অস্ত্র আর মাদকে ডুবে খুনে জড়িয়ে পড়াশোনা হলো না। জেল হতে বাঁচতে এলাকা ছাড়লাম যদিও নেতা খুনের মামলা হতে বাঁচালেন আর তখনি শিউলীর সাথে পরিচয়। মেয়েটা আসলে সহজ সরল মাটির ময়না। আমি আমার অভ্যাস পাল্টাতে পারিনি আর পারবো না । মেয়েটাকে আসলে সংসারী করা ঠিক হয়নি মাঝে মাঝে তার জন্য খুব কষ্ট লাগে। তার কথাই সত্য সোবহান মিয়ার কুনজর ছিলো তার উপর তাই হয়তো আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। আমাকে জেলে আটকে রেখে সে শিউলীর পিছে পড়বে তা স্বাভাবিক । সুজন তোর কোন টাকাই আমি রাখবো না যে করে হোক আমাকে জেল হতে মুক্ত করবি। (চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৩৪তম পর্ব।

আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখছি তোকে মুক্ত করার। আর টাকা পয়সা নিয়ে তুই ভাবতে হবে না। আগে তুই মুক্ত হয়ে আয় তারপর সব হিসাব হবে।
তবে সোবহান মিয়ার মুখামুখি হওয়া দরকার ।
আমি বিয়ে করে শিউলীর জন্য সব ছেড়ে দিয়েছি। শুধু মাদকটা ছাড়তে পারেনি আর কুচক্রী তার সুযোগ নিলো সেই কুচক্রীকে কি করে ভুলে যাবো। যে শিউলীফুলের সুগন্ধকে দূষিত করতে চায় তাদের সমাজে মুখোশ খুলে দেওয়া উচিত। এরা ভুলে যায় নিজের জন্ম নারীর গর্ভে এরা ভুলে যায় নারী তার বোন এরা ভুলে যায় নারী তার স্ত্রী এরা ভুলে যায় নারীর সে বাবা।
এই বাবা লোকটা শুধু পুরুষ হয় মানুষ হয় না। তাই তারা নারীকে মানুষই ভাবে না।
একদম ঠিক কথা সুজন।

সময় শেষ হয়ে আসছে সুজন । যেটা ভালো হয় তুই ওটাই করবি। শিউলীকে একটু বুঝিয়ে বলিস আমি বাহির হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার শুধু তাকে নিয়ে চিন্তা ।
তুই চিন্তা করিস না নাহিদ। উকিল বললো মাদকের মামলা হওয়াতে জামিন হতে দেরি হচ্ছে । টাকা পয়সার কোন সমস্যা নাই যেখানে যাহা লাগছে তা দিচ্ছি। তুই শুধু কথা দেয় জেল হতে ছাড়া পেলে আর মাদকের সাথে জড়াবে না শিউলীর প্রতি কোন অবিচার করবে না। মেয়েটা গরিব হলেও একটা ভালো পরিবারের মেয়ে মনে হয়। চালচলনে বুঝা যায় না সে গরিব কিংবা অশিক্ষিত তাহাছাড়া সে রূপবতী, মোট কথা সে একজন মার্জিত এবং সুশ্রী মানুষ।
হাঃ হাঃ হাঃ তোর দোস্ত কি তার বউয়ের চেয়ে খারাপ সুজন। আমি তাই শিউলীর প্রেমে পড়েছি, তাহলে বলা যায় না ভুল করেনি তার একটাই কমতি আছে সেটা হলো গরিব, তবে এতে আমার মাথা ব্যাথা নাই। আমিতো এমনিতেই খারাপ বলে ঘর ছাড়া মা টাকা পয়সা দেয় তাতে চলে বাপ ভাই বোন আমার খবরও রাখে না । জেলে আছি মাও জানে না একবার ফোন করেছি আমি বলেছি ভালো আছি টাকা লাগবে না । তাহাছাড়া তোর মত বন্ধু থাকতে চিন্তাও করি না। ঠিক আছে বাই নাহিদ।

আসলে এই ধরনের লোক তেমন একটা ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে না। এদের কাছে সংসারের ভালোবাসার চেয়ে মাদকের আসক্তিটা প্রেমময় মনে হয়। তাহাছাড়া মাদকের একটা চেইন থাকে আর এই জটিল চেইন রাষ্ট্রের অনেক গভীর পর্যন্ত । তবুও চেষ্টা করছি একজন সুস্থ মানুষ সমাজকে ফিরিয়ে দিতে একজন মেয়েকে তার প্রেম ফিরিয়ে দিতে। যদি নাহিদ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে তাহলে আমার এই কষ্ট সার্থক হবে তার প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যাবে। একটা নারী তার সংসার সুখী করে সাজাতে পারবে। এমনও আছে ত্রিশবার জেল খেটেও মাদকের কারবার ছেড়ে দেয়নি। তার গল্প শুনলে আজব মনে হবে। (চলবে)।

মেয়ে ও মায়া , মাদক ও রাষ্ট্র ।
৩৫তম পর্ব।

প্রথম যাত্রা ২২ বছর আগে। এর পর থেকে এ পর্যন্ত মাদকের কারবার করার অভিযোগে একে একে ৩০ বার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছেন । কিন্তু এ কারবারটি ছাড়তে পারেননি। উল্টো অপরাধী করেও যেন গ্রেপ্তার এড়ানো যায়, সে উদ্দেশে বাড়ির চারপাশে স্থাপন করেছেন অনেক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে ভবনটিতে প্রবেশ করলে তিনি জানালা দিয়ে বেরিয়ে গা ঢাকা দিতেন। ভবনের তৃতীয় তলায় প্রস্তুত থাকত জানালা কেটে তৈরি করা তার পলায়ন পথ। চট্টগ্রামের ইকবাল ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ায় ছিলেন। এর পর দেশে ফিরে ওয়ার্কশপ চালু করেন। এ সময়ে তিনি প্রথমে মাদক সেবন এবং এর পর তা বিকিকিনিতে জড়িয়ে পড়েন। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া আর জামিনে বের হতে গিয়ে তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনও অনেক অর্থও খুইয়েছেন।

একবার খুব কৌশল করে তাকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অর্ধ ডজনেরও বেশি মাদক মামলার আসামি ইকবাল। ইকবাল ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ইত্যাদি নেশাদ্রব্য নগরীর বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহের পর বিক্রি করেন। সমাজে এই রকম অসংখ্য ইকবাল আছে যাদের খবর আমরা জানি না। বর্তমানে ইয়াবা নামক মাদকটা যুব সমাজ ধ্বংসের জন্য দায়ী আর এইটা পাড়া মহল্লায় ও গ্রাম গঞ্জে খুবই সহজলভ্য । কিছু কিছু মাদক কারবারী খবুই প্রভাবশালী থাকে তাদের সাথে সম্পর্ক থাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিত্তশালী লোকদের তাদের সমীহ করে চলতে হয় জনসাধারণকে এবং সাধারণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও। মত এবং পথের অমিল হলেই পোটলা বহনকারী মাদক কারবারী সংবাদ শিরোনাম হয় ক্রসফায়ার না হয় জেল জুুলুমে।

কি নাহিদ মিয়া কেমন আছো।
জ্বী চাচা ভালো আছি।
তুমি মাদক নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তোমার বউ খবরও দিলো না। আমি শুনে দেখা করতে আসলাম। এখন দেখি তোমার বউও পালিয়েছে।
চাচা আসলে তার মনে ছিলো না। আর আমি জেলে তার সাথে যোগাযোগ হয়নি অনেক দিন।
এইটা একটা হলো নাহিদ । আমার অনেক মাসের বাসা ভাড়া না দিয়ে পালিয়ে গেল। আমি গিয়ে বলেছি কোন অসুবিধা নাই থাকতে পারবে সে ইচ্ছামতো , কোন কিছু দরকার হলে বলতে এবং তোমাকেও জেল বাহির করবার চেষ্টা করতাম শুধু——।
সে মনে হয় তার বাপমার কাছে চলে গিয়েছে। হারামজাদি আমাকে জেলে রেখে পালিয়েছে চাচা।
তুমি কি সত্যিই সত্যিই কিছু জানো না নাকি আমার সাথে অভিনয় করতেছো। আমি মনে করেছি তাকে সোবহান মনজিলে তিন তলার ফ্ল্যাটে থাকতে দিবো যে নিরাপদ থাকে আর তুমি জেল হতে বাহির হলে তুমিও থাকবে ভাড়ার দরকার হতো না। তুমি আমার পার্টির লোক আমার দেখাশোনা করো তোমার বউও একটু দেখাশোনা করতো আমার মেয়ের মত। আর কিনা পালিয়েছে আমার ভাড়া না দিয়ে। আচ্ছা ঠিক আছে তুমি বাহির হয়ে আসো আগে তারপর সব বুঝা পড়া হবে।
ঠিক আছে চাচা। আপনি রাগ করবেন না আমাকে দয়া করে একটু বাহির করেন। আমি বাহির হলে আপনার সব কথা শুনবো শিউলীকেও নিয়ে আসবো

আমার সাথে সব কথা হয়েছে নাহিদের। সোবহান মিয়ার সব কথাই বলেছি তাকে এবং আমাদের কোন কথা সোবহান মিয়াকে বলতে নিষেদও করেছি।
একদম ঠিক করেছেন ভাইয়া, আমি এখন নিশ্চিত হলাম। ঢাকায় আন্টিকে ফোন করা দরকার ছিল।
ফোন করে সিউর করে দাও তুমি ঢাকা যাবে।
জ্বী ভাইয়া আমিও তাই ভাবছি। সোবহান মিয়াকে নিয়ে নাহিদ যে আমাকে ভুল বুঝে নাই এতে নিজেকে হালকা লাগছে ভাইয়া। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ নাহিদকে সব বুঝিয়ে বলে সুন্দর সমাপ্তি করেছেন ঝামেলাটার। (চলবে)।

VN:R_U [1.9.22_1171]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
VN:R_U [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
মেয়ে ও মায়া মাদক ও রাষ্ট্র, 5.0 out of 5 based on 1 rating
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৭ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৪ জন মন্তব্যকারী

  1. মুরুব্বী : ১৫-১০-২০২০ | ১৭:৫৬ |

    লিখাটি স্পষ্টতঃ সামাজিক বা সমাজ দর্পণ হিসেবে বিবেচিত হবে আশা করি। ধন্যবাদ। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  2. শামীম বখতিয়ার : ১৬-১০-২০২০ | ০:৫৪ |

    আমাদের সমাজটা রাস্ট্র ধনী এবং গরীব নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। আমরা যদি দেখতে পারি ধনাত্মক শ্রেণীর কোন পরিবারের মেয়ে কোথাও দুষ্কর্ম করে বা লিভ টুগেদারে জড়িত থাকে তাহলে তাকে কোন চারদিক থেকে সওয়াল জবের সম্মুখীন হতে হয় না। তাদেরকে এজন্য সওয়াল জও য়াব করতে পারিনা তাদের আমরা যদি কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন করি তাদের সাথে কোনভাবেই পেরে উঠতে পারব না। সেক্ষেত্রে গরিব পরিবার থেকে কোন সমস্যার সৃষ্টি যদি হয় সেই পরিবার তার চারপাশের গরীব মানুষের মাধ্যমে কোণঠাসা হয়ে যায়। এটি আসলে আমাদের চিন্তা-চেতনা সমস্যা পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে নির্যাতিত হতে হতেই এমন একটা পর্যায়ে আমাদের মাইন কে নিয়ে গিয়েছি যেই মাইন্ড কখনোই চোখ তুলে সামনের দিকে তাকাতে পারে না। এখন সময় এসেছে নতুনত্বের। আমাদের পরস্পর পরস্পরের বন্ধনগুলো কে মজবুত করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই এই পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে নইলে আমাদের ভবিষ্যৎ যেভাবে মাটিতে চাপা পড়ে যাচ্ছে ঠিক সেভাবেই অন্ধকারের অতল গহবরে পতিত হবে এটা অন্য কারো দোষ না আমাদের চারপাশের সমাজের মধ্যে যারা বসবাস করছে তাদের চিন্তাগত সমস্যার কারণে এই ভুলগুলো সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই সমস্যাগুলো সারা জীবনের জন্য জারি আছে। এটাকি নিষ্কৃতি করতে গেলে আপনাকে আমাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে নয়তো কখনোই সম্ভব না। সম্ভবত আমি লেখাটার তুমি থেকে পড়তে পারিনি মাঝখান থেকে পড়েছি। লেখাটি আমার কাছে মনে হয়েছে পর্ব হিসেবে তুলে ধরা। বেশ ভালো লেগেছে শুভকামনা জানবেন

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
    • ফয়জুল মহী : ১৬-১০-২০২০ | ১:৫১ |

      আমি এই বাংলাদেশ?আমি লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত সেই বাংলাদেশ?আমি অগণিত মা ও বোনে ইজ্জত হারানো বাংলাদেশ।এই সেই স্বাধীনতা? যার জন্য জীবন দিয়ে ছিল বাংলার দামাল ছেলেরা।আমরা কি চেয়ে ছিলাম এই স্বাধীনতা?হায়রে অবুজ বাংলা

      VN:R_U [1.9.22_1171]
      Rating: 0 (from 0 votes)
  3. নিতাই বাবু : ১৬-১০-২০২০ | ১৩:৪৮ |

    ঘর যেমন ভালোবাসার কানন হওয়া উচিত তেমনি সমাজও ভালোবাসার বিশাল কানন হওয়া উচিত। আপনাদের ঘর যেমন আমাদের ঘরও তেমন আমাদের টাকার কষ্ট আছে না পাওয়ার কষ্ট আছে না খাওয়ার কষ্ট আছে কিন্তু ভালোবাসার কষ্ট নাই ভালোবাসার সুগন্ধীর অভাব নাই। আপনার বাবা মা যেমন ভালোবাসার কাননের মালি তেমনি আমার কৃষক বাবা ও গৃহকর্ত্রী মা ভালোবাসার মালি।

    লেখার মাঝে ঘর-সংসার ও সমাজ নিয়ে খুব সুন্দর বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দাদা। শুভকামনা থাকলো।

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  4. রিয়া রিয়া : ১৬-১০-২০২০ | ২১:৫২ |

    ধারাবাহিক এই লেখাটি নিয়মিত পড়বো এবং নিয়মিত করবেন আশা করি

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)

মন্তব্য করুন