করোনায় একজন প্রবাসী (২৬তম পর্ব)

আচমকা ইকামা চাওয়ায় লোকমান ভয় পেয়ে যায় মাথা নিচু মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। জিব ইকামা আবারও বলে পুলিশ লোকমান এবার মুখ খোলে বলে মাফি ইকামা (ইকামা নাই ) ইকামা মাফি পুলিশ বলে। দুই বছরে সে মালিকই দেখেনি ইকামা কিভাবে পাবে শুনেছে ভিসাই ক্যানসেল। লোকমানকে গাড়িতে উঠতে বললে সোজা গিয়ে গাড়িতে বসে সে। লোকমান হয়তো ভাবে আজ হতে জীবনের আরেক অধ্যায় যেটা সত্যের চেয়ে সত্য প্রবাসে জেল। মেয়াদ উত্তীর্ণ ইকামা হলেও হয়তো পুলিশ বিবেচনা করতো ছেড়ে দেওয়ার। কিছু লোকের ধারণা লোকমান যে ভিক্ষা করে তা পুলিশকে অন্য কেউ বলেছে। না হয় এই মহামারীতে ইকামা দেখতোই না। এমনও বহু হয়েছে যে ইকামা না থাকায় পুলিশ ধরে আবার ছেড়েও দেয় এমন আমি নিজেও বহু দেখেছি। প্রথমে নিয়ে যায় এলাকাবৃত্তিক পুলিশ ক্যাম্পে সেখানে কয়েক দিন রেখে পাঠিয়ে দেয় বড় জেলে।

যে কোন ছোটখাটো অপরাধ হলে পুলিশ ফাঁড়ি কিংবা থানা হতেই মালিক জিম্মাদার হয়ে নিয়ে আসতে পারে। অবশ্যই বহিরাগতদের একটা অপরাধ মেয়াদ উত্তীর্ণ ইকামা থাকে আর এইটা তাদের অপরাধ নয় মালিক ইকামা করতে গড়িমসি করে আর বিপদে শ্রমিকেরা। আসলে ইকামাতে সরকারি টেক্স আদায় করলেও এইটাতে একজন শ্রমিকের সমস্ত তথ্য লিখা থাকে। সৌদিয়ানদের জন্য আইডি কার্ড় আর বহিরাগতদের জন্য ইকামা বাধ্যতামূলক এর মাধ্যমে পরিচয় যেমন বহন করে তেমনি সমস্ত সেবা নিশ্চিত হয়। এই ইকামা করা না করার উপর শ্রমিকের কোন হাত নেই এইটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে মালিকের উপর। এই মালিকদ্বয় শতে দশ বিশ জন প্রতারক স্বভাবের নিজের কাজ করলেও অনেক সময় ইকামা করতে চায় না। আর মুখের চুক্তি করে যারা ফ্রী থাকার কথা বলে তারা টাকা দেওয়ার পরও ইকামা করে না এর পরে আছে দেশী দালালদের প্রতারণা।

লোকমান একজন নয় এই রকম হাজারো লোকমান আছে ঘড়ি বাড়ি বিক্রি করে ঢাকা শহর দেখে প্লেন চড়ে বিদেশের সোডিয়াম লাল নীল বাতি দেখে। মাঝখানে জেল জুলুম সয়েও পরিবারের বিরাগভাজন হয়। দেশে গিয়ে আবার আগের পেশায় ফিরে যায় বাধ্য হয়ে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষ বিদেশ আসবে না এবং এসে সবাই সর্বস্বান্ত হচ্ছে। আগে বেশীর ভাগ সফল হতো এখন বেশীর ভাগ মানুষ প্রতারিত হয় তাই অনেক যাচাই বাছাই করে দেশ হতে পা ফেলতে হবে একবার ডুবে গেলে সাগরের তলদেশে পৌছে যেতে হয়। এখন মানুষ অসাধু হয়ে গিয়েছে সীমাহীন অর্থনৈতিক মন্দা চলে দেশে দেশে যার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগাম ছাড়া এরপর আছে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা। মাঝখানে আমরা গরিব দেশের গরিব শ্রমিক অবশ্যই আমাদের দেশেও বড় বড় লোক আছে যারা বিদেশে টাকা পাচার করে। বিদেশে ব্যবসা করে বাড়ি কিনে গাড়ি কিনে নারী কিনে। আমি ও আপনি শ্রমিক শুধু শ্রমিক।

আজকাল খুব ভয়ও লাগে আমার পাশেই একজন ভারতীয় কেরালার নাগরিক হার্ট এ্যাটাক করে মারা যায়। এর কিছু দিন পর লোকমানের পাশে একজন চাঁদপুরের লোক মারা যায় সেও হার্ট এ্যাটাক। সবাই বলে বেকার থাকায় চিন্তায় মানুষের এমন মরণ।

(চলবে)

VN:R_U [1.9.22_1171]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
VN:R_U [1.9.22_1171]
Rating: 0 (from 0 votes)
করোনায় একজন প্রবাসী (২৬তম পর্ব), 5.0 out of 5 based on 1 rating
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৭ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৪ জন মন্তব্যকারী

  1. মুরুব্বী : ১৫-১০-২০২০ | ৭:৪৮ |

    প্রবাস গল্প যা কিনা জীবনের উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া হয়েছে, আপনার এই লিখা ধারাবাহিক সতর্কতা প্রবাস প্রত্যাশীদের অনেক কাজে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    ধন্যবাদ মি. ফয়জুল মহী। ভালো থাকুন। শব্দনীড়ের পাশে থাকুন।

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  2. আলমগীর সরকার লিটন : ১৫-১০-২০২০ | ১২:৩৩ |

    বর্তমান অবস্খায় সুন্দর লেখেছেন কবি মহী দা

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  3. নিতাই বাবু : ১৫-১০-২০২০ | ১৩:৪০ |

    আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের সব দেশেরই একইরকম অবস্থ! যা মানে সর্বত্রই দুর্নীতি। তবে যাইহোক, বিদেশে দেখেশুনে সাবধানে ধৈর্যের সাথে চলতে হবে সবাইকে। তা না হলেই বিপদ অনিবার্য।
    সময়োপযোগী পোস্টের জন্য অজস্র ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  4. রিয়া রিয়া : ১৬-১০-২০২০ | ২১:৪৬ |

    পড়লাম দাদা। ভাগ্যের বিড়ম্বনাই হচ্ছে পরবাস। :(

    VN:R_U [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)

মন্তব্য করুন