ফকির ইলিয়াস-এর ব্লগ

কবিতা লিখি, থাকি নিউইয়র্কে।

কবিগুরুর পদচিহ্নে
এই জমি খুব পরিচিত আমার। এই নদীর সকল উজানী
ঢেউ- একদিন আমার বুকে রুয়েছিল যে বীজ, আমি যতনে
বৃষ্টি ছড়িয়েছিলাম সেই মনবৃক্ষে। জোড়াসাঁকোর ভোরে
খুব একাকী পড়েছিলাম গন্তব্যের গীতবিতান। এই গান খুব স্বজন আমার। যে প্রেমিকা আমাকে হাত ধরে
নিয়ে গিয়েছিল প্রান্তিক চত্বরে- সেদিন সেখানেও উপস্থিত
ছিলেন একজন রবীন্দ্রনাথ। তিনি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৩১ বার দেখা | ৬৭ শব্দ
চন্দ্রপথ
পথ মিশে যায়, ছাপগুলো হারায়
পাঁজর খুঁজে চূর্ণ
এর আগে যারা, হলো মাতোয়ারা
তাদের ভুলে পূর্ণ ! চাঁদ এসে বলে, দূরের সকালে
লিখেছো যতো নাম
সবাই কি তবে, এই পরাভবে
হেঁটেছিল অবিরাম। কেউ থেমে থেমে, এসেছিল নেমে
পূণ্য পরিত্রাণে
কেউ ফিরে গিয়ে, এ মাটি সরিয়ে
ডুবেছে ভুলের ঘ্রাণে। ভুল করে তবে, সুখের এই ভবে
এসেছে আদম -হাওয়া
সেই পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৩৭ বার দেখা | ৫১ শব্দ
ভুলে যাওয়া উষ্ণতার গান
আর কোনও দিন বৃষ্টি এসে আমাদের ডাকবে না তাদের কাফেলায়।
বলবে না- চলো সমুদ্র দেখে আসি। দেখে আসি পাখিদের সংসার, আর
লাঙল কাঁধে যে পিতামহ প্রত্যুষে ছুটে চলতেন মাটির টানে-তার পদছাপ।
আর কোনও দিন আমাদের ডাক দেবে না কোনও প্রতিবেশী আগুন। বলবে না- উষ্ণতা নেবে, উষ্ণতা ! সওদাপাতি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৪০ বার দেখা | ১০১ শব্দ
ভাসমান যমুনার মুখ
আমাদের রাত্রিকলায় সংরক্ষণ করে রেখেছি নিরঙ্কুশ নদীদের
জীবন। স্রোতের দেখা পেলে মিশিয়ে দেবো আমূল নগ্নতা,
ভূমিতে-শেকড়ে-স্বপ্নের প্রতিটি বিভায়। একটি ভ্রূণের বৃত্তান্ত
লিখে জানিয়ে যাবো জন্মসংক্রান্তির আদি উন্মীলণ। কারা দেখবে
ভাসমান যমুনার মুখ, কারা পাবে পাপড়ির প্রাণপরিধান – সবই
নির্ধারণ করে লিখে যাবো লাভাপৃথিবীর পৃথক ভূগোল। আপাতত:
উৎপাদিত অগ্নিগিরির অনলে-
নিজেদের মুখ পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৪৪ বার দেখা | ৫০ শব্দ
পথিক ও পরাণপর্ব
কতটা পথ হাঁটলে হওয়া যায় পথিক! কতটুকু ভূমি
পেলে নির্মাণ করা যায় একটি সড়ক, তা ভেবে আমি,
কখনোই পথে দাঁঁড়াই’নি। বরং কয়েকটি হাসনা-হেনার
ডাল রুয়ে রেখেছি, পথের দু’পাশে। কেউ এসে
নেবে সেই সুবাস। অথবা কেউ পাঠ করবে মমিচিত্র,মনচিত্র,মানচিত্র
এমন আরাধনায় সাজিয়েছি ভোর, সেরেছি
পরাণপর্বের পঞ্চম সুরবীক্ষণ। মানুষেরা অনেক কণ্ঠধ্বনিই শোনে না,
মানুষেরা অনেক পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৫৪ বার দেখা | ৬০ শব্দ
পঁচিশে বৈশাখ
অভয় আনন্দ এসে খুঁজে কার ঘর, কার পথে
অনেকগুলো পথ মিশে যায়- কালের প্রভাতে
আমি তো ব্রাত্যজন-আজীবন অন্বেষণে আছি
একটু সবুজ পেলে, ঘাটে বসে প্রাণ নিয়ে বাঁচি
অথবা সাঁতরে শেষে; সমুদ্রের গভীর প্রণয়ে
থেকে যাই শুদ্ধাচারে- কবিতার নামগুলো লয়ে অপার উদ্ভিদে এই ভালোবাসা রাখে যে আঙুল
কিংবা ঝড়ের কাছে সারিবদ্ধ রেখে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৩৯ বার দেখা | ৭১ শব্দ
দূরে গেলে প্রিয় হয় মর্গের সব কোলাহল
মিথের মর্গ দেখে বড় করুণা হয়।
অনেকটা দূরেই থাকি আজকাল কোলাহল থেকে।
তবু এই সিঁড়ির সংসার দেখে মায়া হয় খুব। এই রাত সুবর্ণ জয়ন্তীর।
এই দিন মুখোশের প্রথম পালক। সবই লেখা আছে আমার অভিধানে। তার
পরও খুলে দেখতে মন চায় মুছে যাওয়া আলতার প্রকৃত উজ্জ্বলতা। এবং চন্দ্র
ভেজা পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৪৩ বার দেখা | ৮৭ শব্দ
আরেকটি মে দিবসের কবিতা
সবাই জেগে থাকতে পারে না। কেউ কেউ আয়ু পাহারা
দেয়। কেউ কেউ হাতঘড়ির কাটার মতো, ঘুরে পৃথিবীর
উত্তর প্রান্তে – যেখানে কেবলই ঢেউ, কেবলই ধূসর। যারা ঘুমায়, তারা ভালো থাকে অবশেষে। না দেখার
সাম্রাজ্যে সেতু বানাতে বানাতে, অন্যকে পার করার
তাড়না অনুভব করে না। অথবা ধার ধারে না হিসেবের। জীবনের পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৬৫ বার দেখা | ৭৩ শব্দ
নীরব পাথরচূর্ণদের সাথে কথোপকথন
তিনবছর আগে যে স্থানটিতে হলুদ ফুল ছিল, সেখানে ফোটে রয়েছে
কয়েকটি শাদা ফুল। আমি সেই ফুলগুলোর সামনে দাঁড়ালাম। এখনও
বসন্ত আসেনি এই সেন্ট্রাল পার্কে। ঋজু অশ্বখুর, ভেদ করে যাচ্ছে পীচ
ঢালা পথ। দূর থেকে ছুটে আসা পর্যটক পুরুষ, ধরে আছে প্রেমিকার
হাত। ছুটছে অশ্ব-ডানে বামে ঝুলে আছে বিক্রেতাদের পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৩৭ বার দেখা | ১৩২ শব্দ
শঙ্খময় পৃথিবীর ছায়া
করোনা বলে আসলে বিশেষ কোনো বীজাণু নেই!
যা আছে, তা দীর্ঘঘুমের একটি বাহু মাত্র!
যে বাহু না থাকলে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে
জড়িয়ে ধরতে পারে না। ফেরাতে পারে না বৈশাখি তাণ্ডব! অগণিত মৃত্যুর ভার নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে যে পৃথিবী
আমার এখন আর তার দিকে তাকাবারও ইচ্ছে
করে না। বরং পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ২৭৯ বার দেখা | ১১৪ শব্দ
রাঙানো ঘোরের মতো
তোমার হাতের ভেতর
কতগুলো রেখা, কতগুলো পথ
রাঙিয়ে রেখেছে মন, ঘোরনিশিগুলো
ভোরের সূর্য ছুঁয়ে
আমিও তো করেছি শপথ-
সাজাবো প্রশাখা আর স্মৃতিমাখা ধুলো তারপর গৃহীত গ্রাফগদ্য পাঠে
লালটিপ এঁকে দেবো
শুভক্ষণে, তোমার ললাটে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৪০ বার দেখা | ২৫ শব্দ
আদিকবি হিসেবে সূর্যস্বীকৃতি
অনেক মা বাবাই জানেন না তার সন্তান কবিতা লিখে। অনেক পুত্র-কন্যাও
বলে- মাঝে মাঝে তাদের পিতা কাগজ ও কলম নিয়ে বসেন। কী লিখেন
সেটা জানে না তারা। এমন কি অনেক মাতৃকাব্যকথাও পড়ে’নি তার সন্তান
– এমন বর্ণনা শুনতে শুনতে আমি যখন নদীর কাছে পৌঁছলাম,
দেখলাম কয়েকটি ঢেউ ছিন্ন-বিছিন্ন পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৪১ বার দেখা | ১২৩ শব্দ
কিছুই বাঁচানো গেল না
কিছুই বাঁচানো গেল না
সন্তান, সম্ভ্রম, স্বাধীনতা
বাঁচানো গেল না সময়, শরত ও শবদেহ
বাঁচানো গেল না সূর্যের প্রখর আলো, শিয়র, শয্যা
কিংবা বাঁচানো গেল না সন্ধ্যাও। সমুদ্রও হয়ে গেল দখল। বাঁচানো গেল না কিছুই। রক্তের দাগ, রিক্ত শিশুর আর্তনাদ
বাঁচানো গেল না, পিতার শোকার্ত পুরোনো কোর্তা
অথবা বোনের সংকুচিত ভ্যানিটি পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৪ বার দেখা | ১৪৮ শব্দ
তিনটি ছায়া
পৃথিবী প্রথম যেদিন আমার কাছে এসেছিল, আমি তাকে
উপহার দিয়েছিলাম তিনটি ছায়া,
একটি আমার, একটি শ্রাবণের আর আরেকটি সে ছায়াটি কার ছিল, তা জানিয়ে তোমাকে এর আগেও
বহুবার লিখেছি প্রবন্ধ। নিবন্ধকার তার লেখার চৌহদ্দি
জানেন না, এমন ইঙ্গিতও ছিল আমার লেখায়, আর ছিল
আগামী শীতে আমাদের বাগানে পাপড়ি কুড়াবে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৬ বার দেখা | ৮০ শব্দ
জ্বলে উঠো, অনুপম
ফ্যাকাশে মমির নীচে সারাদিন খুঁজেছি চাঁদ। দিনে লুকোয় কোথায়
এই ভেবে সেরেছি সব সমীক্ষা। এবং প্রতীক্ষার সূর্যকে তালাশ করেছি
রাতভর, এখানে আগুন থাকে-জানার পর হাত দিয়েছি অন্ধ আগুনে। পিপাসিত সমুদ্রকে বলেছি, শিখে নিতে শুদ্ধ রসায়ন।
জ্বলে ওঠো অনুপম, এবং জ্বালাও
আর যারা যেতে চায় জলে
পারদ পৃষ্ঠা পাঠে তাদেরেও সাথে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৪ বার দেখা | ৪৬ শব্দ