ফকির ইলিয়াস-এর ব্লগ

কবিতা লিখি, থাকি নিউইয়র্কে।

পেনড্রাইভ
জমা হয়ে আছে সূচালো দু’খের ধার। বরফে বিদ্ধ হচ্ছে
শীতের সূর্যকণা। কোথাও পুড়ছে জীবন- কোথাও
থেমে যাচ্ছে চুল্লীর আগুন, তা দেখে হাসছে চাঁদ, কাঁপছে
নক্ষত্রের সংসার। চারপাশে ঝুলে থাকছে অনেকগুলো মহাকাল।
অনেকগুলো মৃত বসন্ত,
অনেকগুলো শাদা পাপড়ির কফিন
যারা বিদায়ী বর্ষাবরণে জলে নেমেছিল, কেবল
তারাই দেখছে এসব দৃশ্য। বাকী সবাই নজর রাখছে
তাসের পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ২৩ বার দেখা | ৬২ শব্দ
পলাশের চিতাচিহ্ন
প্রতিবেশে হায়েনা শকুন আর পরিবেশে মৃত ফসফরাস, দেহ
থেকে ঝরে যাওয়া শিশুর পাঁজর। আমি ছুঁয়ে দেখি, এই কফিনে
আমিও শুয়েছিলাম বিগত জনমে আর সিজোফ্রেনিয়া ঘেরা আকাশ
ছিল আমার সহচর। ভালোবাসা দেবে বলে কেউ আসেনি কাছে,
ডাকেনি ধরে নাম। বিধি বাম ছিল না জানি, তবু কেন এই মানব
নির্মিত বলয় পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ২১ বার দেখা | ১১০ শব্দ
তুষারপাতের ঘ্রাণ
তুষারপাতের ঘ্রাণ
তুষারের গন্ধ পেলেই আমি হয়ে উঠি, বারুদময়।
রোদ দেখবো না জেনেও আকুতি রাখি, সূর্যের চরণে
আহা! বিগত পৌষ! তুমিও আমার জন্য-
রেখে গেলে না কিছু উষ্ণ হিম, কাঁথার করুণা! আগামী চব্বিশ ঘন্টা এই নগরের সড়কে সড়কে
ঝরবে যে বরফ, কিংবা যে ঝড়োহাওয়া
উড়িয়ে নিয়ে যাবে পুরনো পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ২৮ বার দেখা | ৮১ শব্দ ১টি ছবি
ভূমিকম্পের আগে
ভূমিকম্পের আগে
তোমার কাঁপন দেখলেই বুঝতে পারি, কেউ
সমুদ্রে গভীর রাতে খেলেছে ঢেউখেলা। দিগন্তের
আড়মোড়া ভেঙে উঠছে পূবের সূর্য। কামকুয়াশায়
ভেজা পৌষের শেষ সন্ধ্যা- কয়েকটি রক্তজবা হাতে
অপেক্ষা করেছে আরেকটি কাঁপনের। পৃথিবী কেঁপে উঠলে ভয় পায় মানুষ। মানুষ কেঁপে
উঠলে গোলাপ ছড়িয়ে দেয় তার প্রথম পরাগ। পরাগায়ণের প্রথম নিশীতে- পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৩০ বার দেখা | ৬৩ শব্দ ১টি ছবি
বিনম্র বিষের মায়া
বিনম্র বিষের মায়া
সাক্ষী দিতে গিয়ে দেখি আমার ছাউনি সরিয়ে নেয়া হয়েছে
বেশ আগে। দংশনের বিপক্ষে কথা বলার আগে, আমিই হয়েছি
দংশিত লখিন্দর। বিনম্র বিষের মায়া আঁকড়ে ধরেছে আমার
সর্বাঙ্গ।ভঙ্গ করে সকল অঙ্গীকার আমি দাঁড়িয়েছি জলের
কাটগড়ায়। বৃষ্টিতে ভিজে একটি আশ্বিন খুঁজে বার বার গিয়েছি
সমবেত শরতের কাছে। পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৫০ বার দেখা | ৬৮ শব্দ ১টি ছবি
পরজীবী পথের প্রান্তে
যে মেঘ মেরুদণ্ডহীন উড়ে যায়, তার
কোনো গন্তব্য থাকে না। কিংবা যেজন
রাত না চিনেই খোঁজে অন্ধকারের প্রকার-
তাকে নিয়েও ভাবে না কেউ! কিছু ছায়া মিশে যায় পরজীবী পথের প্রান্তে;
আর কিছু মানুষ রক্তরেখার ভোর
দেখেই করে উল্লাস! কেউ কেউ-
চূড়ায় আরোহন করবে বলে, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৩৩ বার দেখা | ৯৬ শব্দ
সব দুঃখই পাখি হয়ে যায়
সব দুঃখই পাখি হয়ে যায়।সকল বেদনাই চৈতন্যের
জল হয়ে সমুদ্রে ভাসে। কোনো পরদেশী জাহাজের
পাটাতন তা ছুঁতে পারে, কখনও থেকে যায় অস্পর্শের অতল। ঝড়গুলো বিভক্ত হয়ে প্রদক্ষিণ করে উত্তর এবং
দক্ষিণ মেরু। যারা পূর্বে থাকে, তারা তাকায় পশ্চিমে।
সূর্য ডুবলো বলে, জোনাকিরা গায়ে জড়ায় রাতের সন্ন্যাস। দুঃখের পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৪ বার দেখা | ৭৫ শব্দ
ইহা কোনো লিখিত অক্ষর নয়
পাথরদানার নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য থাকে না। এমন কী জলেরও, অনন্ত
জীবন পাবার থাকে না কোনো বাসনা। নদীর ঢেউ আর চোখের অশ্রুর
পার্থক্য দেখে যে চিত্রকর আঁকেন তার মূল্যবান চিত্রকর্ম, তিনি কি জানেন—
এই লিখিত অক্ষরগুলো একদিন রক্তলেখায় ব্যবহৃত হয়েছিল, এই শব্দের ফিনকি
সেরেছিল আমাদের ভালোবাসার সর্বশেষ উদ্ধার। যে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩১ বার দেখা | ৯৩ শব্দ
বিজয়ের জলচাদর
গায়ে জড়িয়ে নিতে নিতে অনুভব করি রক্তের ওম
এই চাদর গায়ে দিয়েই নদী পার হয়েছিলেন আমার
সহোদর, আমার বুকের ভেতর যে পাখি দম নেয়
প্রতিদিন, তার জন্য জমা রাখি অমর উষ্ণতা। এই বিজয়ের ভোরে
আমি বার বার পাঠ করি সেই চাদরের ভাজ
বার বার খুলে দেখি কিছু নাম ও শিখা
যে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৭ বার দেখা | ৫৬ শব্দ
সূর্যবালার হাত
রাতের ভেতরে হারিয়ে যেতে যেতে আমি আবারো
খুঁজে ফিরি আঁধারের নিজস্ব ওম। যারা নিজেদের
সাম্রাজ্য বাড়াবে বলে খুঁড়েছে আমার ভিটে, তাদের
প্রেতাত্মা দেখে আমি হেসে উঠি। এরা একাত্তরে ঠিক
এভাবেই হেরে গিয়েছিল আমার পূর্বসূরীর কাছে। রক্ত
ও রোদের নিয়ন্ত্রণে জয়ী হয়েছিল সূর্যবালার দুটি হাত।
দিনের ভেতরে হারিয়ে যেতে যেতে আমি পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৪ বার দেখা | ৭১ শব্দ
বিজয়ের কবিতা: আমি বিশ্বাস করি
বিজয়ের কবিতা: আমি বিশ্বাস করি
আমি বিশ্বাস করি, এই বাংলার আকাশে প্রতিদিন সূর্য উঠে,
শহিদের ঘাম আর দম নিয়ে। যে গোলাপ
আমার দিকে তাকিয়ে হাসে, অথবা-
যে শিশু সড়কে দাঁড়িয়ে কাঁদে, জানে সে ও,
এখানে একদিন মানুষের কান্নারও অধিকার ছিল না। আমি বিশ্বাস করি, পিতারা যুদ্ধে গেলেই,
সন্তান দ্রোহী হয়।
মায়ের আঁচলে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫১ বার দেখা | ৯৭ শব্দ ১টি ছবি
বৃষ্টিদ্রোহী
॥ক॥
নষ্ট আগুন নিয়ে কিছু লোক চলে গেল এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে। বিচ্ছিন্ন ঘাসের
কোলে ডুবে থাকা গ্রামগুলো ঘটনার সাক্ষী হয়ে লিখে রাখলো স্বরবর্ণের শোক।
প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো ক্ষমতা ছিল না বলে ভাসমান ডিঙিও মাঝির
হাত ধরে কাঁদলো পুনরায়। আমি কোনো কবি নই। তবুও পংক্তির পুনরাবৃত্তি
দেখে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৬ বার দেখা | ২০০ শব্দ
অনেক আলোর বিধান ঘিরে
শিশিরের সিক্ততা ছড়িয়ে হেমন্ত চলে যায়। ঘোরের
আভা নিয়ে বাঁচে যে রাখাল,তাকে তুমি বন্দি,
বলতেই পারো। অথবা লিখে রাখতে পারো-
জীবিতদের জন্যই জীবন, মৃতের জন্য- শুধু দীর্ঘশ্বাস উত্থানের কাহিনি শুনিয়ে সূর্য ডুবে যায়। তপ্ত দুপুর
ছিল বুকের দুপাশে, তার সাক্ষী শুধুই থাকে নদী
আর প্রিয় পিপাসা- অনেক আলোর বিধান ঘিরে
রচিত পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪১ বার দেখা | ৭৩ শব্দ
ভুবনপুর
ভুবনপুর ছেড়ে এসেছি অনেক আগে। এখন বসত করি নরকনগরে, পরখ
করে দেখি নক্ষত্রের চোখ, মুখ,তালু। আমাকেও যেনো দেখে কেউ কেউ, থির
সমুদ্রের ছায়ায় প্রথম যেদিন দাঁড়িয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই দাঁড়াই। দেখে
পাখি, ভোর,ভাস্কর্য। শুধু তুমি বার বার চোখ ফিরিয়ে নাও! বাধ্যবাধকতা
নেই জেনেও আমাকে শেখাও জলখেলা। জলের বাহার পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৪ বার দেখা | ৬৫ শব্দ
গুহাজীবন
আমার প্রতিবেশী ছিল আলখেল্লা পরা একটুকরো রাত, ডানপাশে
কয়েকটা মাকড়শা বুনছিল তাদের স্বপ্নজাল। আর শুকনো পাতার
মর্মরে বাজছিল অনাগত দিনের দ্যোতনা, কিছু সমবেত পিঁপড়ে
খুঁড়ছিল মাটি। মাঝে মাঝে এভাবে খুঁড়ে যেতে হয় – তা আমার আগেই জানা ছিল। কালো বন্দুকটার গায়ে হেলান দিয়ে আমি
যে মমতার স্থির চিত্র আঁকতাম, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৫ বার দেখা | ১০২ শব্দ