এই আষাঢ়ের চিঠি

দূরের পাখিরা জানে এই আষাঢ়ের অন্যনাম-তোমার চিঠি। অথবা ভালোবাসার পুরনো খাম- নতুন অক্ষরে সাজানো একটি কদমফুল। ভুল করে উজানে বয়ে যাওয়া নদীর প্রশ্বাস জমা রাখা দুপুর। হতে পারে ভোর- কিংবা দুপুর। যে সময়ের কাছে রেখে এসেছি আলোর অতীত। মনে পড়ে ? এই আষাঢ়েই আমরা গেড়েছিলাম আরেকটি বিশ্বাসের ভিত !

ফিলিস্তিন

এই ভূমিতে লুটিয়ে পড়া শিশুদের মাথার খুলি পাথর হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই! যে পাখিটি সিরিয়া থেকে উড়ে এসেছিল— একটি পা হারিয়ে সে’ও এখন আর নির্বাক তাকায় না আকাশের দিকে! গাজা উপত্যকার আনাচে কানাচে যে গোলাপগুলো তুমি দেখছ— তা’তে লেগে আছে বিধবার সর্বশেষ রক্তের দাগ! সাদা ভবনটির লনে দাঁড়িয়ে চার বছর পর পর খুনির আসন বদল … Continue reading “ফিলিস্তিন”

গলিত মাংসের দোকান

আমার চারপাশে এখন গলিত মাংসের দোকান- ঝরে পড়ছে লাল মাংস থেকে রক্তের ফোটা কাঁপছে মাংস, ঢেউ তোলে ভ্রমণ করছে আমার দক্ষিণ উত্তরে,বাড়ন্ত আলু ক্ষেতের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে, নতুন মাংসমূল। থেতলে যাওয়া বাহু থেকে নীল মাংসের ক্ষত, চিহ্নায়নে এগিয়ে আসছে না কেউ- কেউ উপুড় হয়ে পড়ে থাকা পাঁজরের মাংসের পাশে দাঁড়িয়ে তুলে রাখছে প্রথম সেলফি ! … Continue reading “গলিত মাংসের দোকান”

শঙ্খময় পৃথিবীর ছায়া

করোনা বলে আসলে বিশেষ কোনো বীজাণু নেই! যা আছে, তা দীর্ঘঘুমের একটি বাহু মাত্র! যে বাহু না থাকলে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরতে পারে না। ফেরাতে পারে না বৈশাখি তাণ্ডব! . অগণিত মৃত্যুর ভার নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে যে পৃথিবী আমার এখন আর তার দিকে তাকাবারও ইচ্ছে করে না। বরং এই ফুলগুলোকে বলি- তোমরা কবির … Continue reading “শঙ্খময় পৃথিবীর ছায়া”

সময়ের শব্দাবলি

সাহিত্য আর সংস্কৃতিতে দখল নিয়ে বলতে চায় একাত্তরে ভুল করেনি তাদের মরা বাপ-দাদায়। এখন বলে মিলে মিশে আসুন আমরা দেশ গড়ি শহিদ স্মৃতি ভুলে গিয়ে খেলাফতের পথ ধরি মূল পরিচয় লুকিয়ে রেখে সুশীল সেজে, হাটবাজার গরম করে- চেয়ে দেখো আওলাদে সব রাজাকার।

তিনটি ছায়া

পৃথিবী প্রথম যেদিন আমার কাছে এসেছিল, আমি তাকে উপহার দিয়েছিলাম তিনটি ছায়া, একটি আমার, একটি শ্রাবণের আর আরেকটি … সে ছায়াটি কার ছিল, তা জানিয়ে তোমাকে এর আগেও বহুবার লিখেছি প্রবন্ধ। নিবন্ধকার তার লেখার চৌহদ্দি জানেন না, এমন ইঙ্গিতও ছিল আমার লেখায়, আর ছিল আগামী শীতে আমাদের বাগানে পাপড়ি কুড়াবে যে পাখি তার বিবরণ। কীভাবে … Continue reading “তিনটি ছায়া”

ব্যাখ্যা বিষয়ক বচনপঞ্জিকা

তুমি অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারো। ‘জল’কে কেউ কেউ কেন ‘পানি’ বলে, ‘গোরস্থান’ কে ‘কবরস্থান’- কিংবা ‘খোদা হাফেজ’কে ‘আল্লাহ হাফেজ’। কেন কেউ কেউ মাঝে মাঝে ‘তস্কর’ কে ‘লস্কর’ বানিয়ে বাজারে সেরে নিতে পারে মামুলি বেচাকেনা। ‘বাতাসা’ খেতে গিয়ে যারা ‘বাতাস’ খেয়ে তৃপ্ত হয়ে নগরে ফিরেছিল, আমি তাদের গন্তব্য চিনি। জানি কীভাবে তারা সেরে নিয়েছে মাটির … Continue reading “ব্যাখ্যা বিষয়ক বচনপঞ্জিকা”

জাগো হে জ্যোতির্ময়

সুরমা নদীতে রক্তের ফোয়ারা আমি একাত্তরে দেখেছি ক্বীনব্রীজের পূবাকাশে প্রতি ভোরে, যে সূর্য ওঠে- আমি দেখেছি তার জ্যোতি। এবং সেই জ্যোতি নিয়েই আমি গ্রহণ করেছি নির্বাসন। মানুষ নির্বাসিত হয় কিন্তু তার ভিটে ভুলে যায় না মানুষ আত্মহারা হয় দেখে দেখে শিকড়ের আয়না চাদনিঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আমি সেই ঢেউ ছুঁয়েছি বহুবার, বহু দুপুরে। আর বলেছি, ভালো … Continue reading “জাগো হে জ্যোতির্ময়”

বংশীবাদকগণ

পৃথিবী আপাততঃ বেঁচে থাক অন্ধ হয়ে। চলো, আলোর আয়োজনে আমরা পূরণ করি তরুপ্রতিম সবুজের ছায়া। তারপর বিলিয়ে দিই, এইসব পূরণ ও প্রমাণ। যারা নিতে চাইবে – তাদের হাতেই তুলে দেবো দুপুর, দৈন্যতা ও দ্রোহ। অন্ধত্বের দ্বিতীয় অভিষেক সেরে যারা আমূল গৃহহীন, তাদেরকে দেখিয়ে যাই ভাঙনের অষ্টম পয়ার। আবার ভাঙুক। গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই আজ। গহীনে … Continue reading “বংশীবাদকগণ”