চন্দন ভট্টাচার্য-এর ব্লগ
আমি আর প্লক্ষতরুণী
আট
দুজনের এইমাত্র মিল
নেক্সিটো, সুরোমন্টিল
লোনাজেপ, নাইট্রোসান টেন
ডোরবেল নিদ্রায় আছেন
ক্যুরিয়ারে পাঠ্যে দিছি বই
টেলিফোনে কথা শুনবোই
মুঠোর লবন ফেসবুক
নাম খ’সে খ’সে সাঁচিস্তূপ
যত মুখ দেখেছি সায়দ
সব্বাই প্রিঅকুপায়েড
দিন আর রাত বহুগামী
প্রশ্ন করো — ‘আধিপত্যকামী’
মিথ্যে কথা আঁকে অ্যাক্রিলিক
কারও প্রেম পুরোনো প্রেমিক
দিব্যি কেটে প্রতারণা কয়
পথনাটিকায় অভিনয়
পড়ো স্বার্থপর ঋকবেদ
সব্বাই প্রি-অকুপায়েড একদিন অফিস-ফেরতা
নেমে গেছি ব্রিজের পড়ুন
কবিতা, জীবন | ১টি মন্তব্য | ৩৯ বার দেখা | ১২৭ শব্দ
আমি আর প্লক্ষতরুণী
ছয়
দেখে মনে হবে রেস্তোরাঁ। আসলে বাইরের ঘর।
মুখোমুখি ব’সে প্রেমকাহিনি বাড়িয়ে নিচ্ছিলাম
একবারও দৃষ্টি সরাচ্ছে না উজ্জ্বল আনন্দিত
চোখ সে মেয়ের। অল্প নিউরটিক কি ঝিলাম? তাকানোর মধ্যে একটা গোগ্রাস আছে। সে যেন
প্রেমের কাছে পিণ্ডদান চায়। আঙুলে আঙুলের
শেকড় জড়ানো, উঠতে গিয়ে মন অপরাধী।
‘চলে যাচ্ছ! ভেবেছিলাম আজ দুজনে ধরা পড়ুন
কবিতা, জীবন | ২ টি মন্তব্য | ৩৫৯ বার দেখা | ১৭৯ শব্দ
আমি আর প্লক্ষতরুণী
চার
প্লক্ষতরুর পাশে ঝরনা, পাহাড়শ্রেণি তরুণ শিবালিক
যাত্রাকুশল পাঠ করোনি; কালো বেড়াল দেখছি, এক শালিক!
তবুও স্রোত দু’ধারি অসি, নদীগতর কামিন মেয়েছেলে
কুরুপাঞ্চাল, দুর্গসমান এমন তাজা তীর্থ কোথায় পেলে?
জনক ব্রহ্ম আমার তটে যজ্ঞে বসেছিলেন পূর্ণকাম
ভরতবংশ গঠন হল — নাও পৃথিবী, তোমারই মোকাম।
রাজসন্তান শিখতে আসে গুরুর কাছে ব্রহ্মচারণ যোগ
শ্রুতিআগুন পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৮৬ বার দেখা | ২৪১ শব্দ
আমি আর প্লক্ষতরুণী
তিন
ন্যাশানাল লাইব্রেরি গিয়ে একটা বই পেয়েছি পাশের চেয়ারে
শান্তিপুরী প্রচ্ছদের, চার কালার, তাতে শ্যাম ও বাঁশির ভাগ বেশি
পুটে কার নাম লেখা? করপুটে ঢাকা দিল মুখ টিপে ছদ্মবেশী
ছ’ফর্মার ছিমছাম দিন, যেন সোমদত্তা মিস স্কুলের প্রেয়ারে তাকে আমি ‘বরো’ করব কি, সেই তুলে নিয়ে গেছে ছাপাখানা লেন
“এই আমার পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৫১ বার দেখা | ১৩৪ শব্দ
‘আমি আর প্লক্ষতরুণী’ কবিতার একটু অংশ
এক
এক দাঁড়ে পাশাপাশি আমি-প্রাণপাখি
আমার উন্মাদ হতে অল্প কিছু বাকি
বাইরে বসন্তশিলা, সরানো যাবে না
আলো তার ধর্ষক, অত্যাচারী সেনা
ডায়েরি নেয় না তবু থানা, মনোবিদ
আমার উন্মাদদশা কত দূরে, নবী? দেখি আজ রাতে তুমি কোন স্বপ্ন দাও
নিজে আসো, না ভাড়ার মেয়েকে পাঠাও
নৈবেদ্য, তাঁতের শাড়ি, কাঁসায় পালিশ
ঝুরো ফুল, জলশঙ্খ, যেন পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ৮৩ বার দেখা | ২১০ শব্দ
(পুরনো গল্প) বোকা বোকা লম্বা
মা
শীতের সকাল। বারান্দায় গ্রিলের পাশে আমি চমৎকার রোদে ব’সে আছি। না না, রোদ্দুরটা সুন্দর বলিনি কিন্তু। চমৎকার আমার নাম, এ-গল্পও এক বেড়াল-ফ্যামিলির। আজ মানুষের রোববার, কিন্তু বেড়ালের ক্যালেন্ডারে লেখা, “দেরিতে ব্রেকফাস্ট”। মনুষ্যজাতির মধ্যে যারা অফিসবাবু, ছুটির দিনে আটটার আগে তো বিছানা ছাড়েন না। আর পড়ুন
গল্প, জীবন | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৯ বার দেখা | ১৬৫৩ শব্দ
সে কাহার জন্য
আমার ঠাকুরদার পরিবার ছিল, খুলনার ভাষায়, ধানী-পানি গিরোস্তো। দক্ষিণ-এ মানে সুন্দরবন এলাকায় তাদের আবাদ বেশ কিছু-ঘর প্রজা সমেত। এ-হেন ফ্যামিলিতে মেধাবী, সুপুরুষ কিন্তু বিবাগী প্রকৃতির ছোট ছেলেটিকে নিয়ে ছিল অগাধ দুশ্চিন্তা। বছর তেরো বয়েসে একবার বাড়ি পালিয়ে ঢাকায় হাজির হয়েছে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্নিসি পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৪ বার দেখা | ২৭০ শব্দ
টু জিরো টু ওয়ান
টু জিরো টু ওয়ান
‘নতুন’ বসে আছে শীতের ভাঙা রোদে
সাজলো ‘গতকাল’ রঙ-ওঠা গরদে
‘পুরোনো’ আমাদের কষ্টে রেখেছিল
দু’সুর, দুটো ঠাট, বলিনি আন মিলো
ফুরিয়ে যাওয়া দিন উড়িয়ে দেবে ক্ষতি
আশার পায়ে নমো, অসাড় পায়ে গতি পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৯ বার দেখা | ২৭ শব্দ ১টি ছবি
বন্ধুমিলন সংঘ
দশমীর নাচ থেকে পুজো শুরু হোক, ভবতোষ।
যখন ঢাকের পালক উড়ে উড়ে বাতাসে
মুরগির দোকান, বক্স ফেটে সাউন্ডের সাদা
ছোট নেকড়েরা আমাদের রান্নাঘরের
সামনে ব’সে আছে — বুকের ডালা-খোলা
পাঞ্জাবি লরি থেকে আবার পুজো শুরু করে দাও
তখন তো পুরোহিত রুটি-মাংস মেরে
বউয়ের সঙ্গে শুতে চলে যায়; ফেটে যাওয়া
বেলুনে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮৩ বার দেখা | ১৪০ শব্দ
অগ্নিসহকারী
একটা বরফীকৃত ঘর, আলো-পেছল। দেয়াল কত পুরু হবে, পঞ্চাশ ইঞ্চি? এই পুরুকে সে হারাতে পারবে আলেকজান্ডার? তখন মাইকে দৈববাণী —মহান ভয়যোগ্য ঘরে স্বাগত। পৃথিবীতে ফিরে আসতে আপনার যে ঐকান্তিক চেষ্টা, তার পেছনে আমাদের অনবরত শুভকামনা রইল। মাথা খুলে নামিয়ে রাখার জন্যে একটা টেবিল। তিনটে হ্যাঙার পড়ুন
জীবন | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮৭ বার দেখা | ৪০০ শব্দ
মাছ-ভাত
এক
যা ভাত রেঁধেছি, বাকি জীবন এতেই হয়ে যাবে
প্রেশারে রাঁধতে পারি না, তার চেয়ে
শান্ত গোল-গলা হাঁড়িতে চাল নেওয়া ভাল
এরকম কত মেয়ে উদ্বেগঅসুখে ভোগে
রান্নাঘরে বঁটি সোজা রেখে সেই পথে
ছুটে গিয়ে গ্যাস নিভিয়ে দেয়
দুধের বদলে তার উথলে ওঠে পা
সাঁড়াশি হারিয়ে ফেলে আঁচলে নামাতে যায়
ভোরের মোরগ, আর পোড়ে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮৩ বার দেখা | ১৬২ শব্দ
বিসর্জিত প্রতিমা পেয়েছি
শোকযোগ্য এই সকাল যেন সবার
অফিসে যাওয়ার ব্যাগে মৃতদেহ
যে আনন্দ ক্যালেন্ডারগলি ধরে এসেছিল, গায়ে
গ্রহণের ছায়া ফেলে সরে গেছে।
কালীপুজোয় আমরা কেন ফ্যামিলি নিয়ে
বেরোনো বন্ধ করলাম, আজ আর মনে পড়ে না
আমারও চাকরি ছিল স্বপ্নভাঙা কারখানায়
হাতুড়ি চালানো। উদ্বাস্তু হয়েছি তবু শরণার্থী নই।
দম চুরি করিনি চু-কিতকিতে, দু’ঘর বাড়িয়ে
গুনিনি এক পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮৩ বার দেখা | ১৫৫ শব্দ
সন্তানপ্রণাম
এগারো লক্ষ্মীর পাঁচালির বাবু-আসন থেকে আমি উঠে এসেছি ব্রহ্মসূত্রের পাঁচশো টাকার নোটে। ক্লাস টেনের মনোজগতে ফুটে গেছিল কাফকার বিষ,
তবু কে কাকে গ্রেট ডিবেট ক’রে দিল, কে কাকে ট্রাফালগার স্কোয়্যার — দেখতে দেখতে মনে হয় বাবাটা চলে গিয়ে কী ভুলই করেছে!
জানতেও পেল না বাদামফুরোনো পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৯৬ বার দেখা | ১৫৫ শব্দ
চটকপুর
এক
যত বিনোদ-অরণ্য পার হলাম ওপরে
মহাফার্নের উড়োসেতু, নীচে জলখোয়ার শিঞ্জিনী;
ওপরে চিতাবাঘিনীর পা, নীচে ওর ঠাকুরপো
বাঁদরলাঠি ফুল — সবই তোমার সামান্য ধন;
রাতে পাহাড়ের দরজা খোলা রেখে
সকালে জ্বর বাধানো বিজুবন
হাসপাতালে বাবার শ্বেতমর্মর মুখ মনে এলে
আমি মেঘের গলা জড়িয়ে শুই; ঝুলন্ত দু’পা-র
শতকোটি নীচে খাদের অসীম ডিগবাজি —
সমস্তই তোমা পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১০০ বার দেখা | ৩৫৮ শব্দ
খইয়ের অভিবাদন
এক
মৃত্যুর ঘোলাটে কেবিনে এই প্রথম পা রাখা হল
বসার গদিটা দেখছি জীবনেরই মতো —
ঘরোয়া, অগোছালো, কোনওরকমের।
কেবিন বলতে পারো, বা নীচে চাকা লাগানো সিনেমামহল, এবং গোটা ঘরটা মৃতের শিল্প-নির্দেশনার ভেতর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে
ধড়াদ্ধড় হুটার বাজিয়ে
প্রয়াতের কীসের এত তাড়া, তার কোথায় পৌঁছোতে দেরি হয়ে যাবে আমি, পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১০১ বার দেখা | ৭১৯ শব্দ