চন্দন ভট্টাচার্য-এর ব্লগ
অন্নকূট
যে খেতে দেয়, তার তত ক্ষিদেই থাকে না
দানে-দানে পাদুটো ভেজায়
এই দেখে সব্বাই দল বেঁধে তার
গোড়া খুঁড়তে বসে —
“আছে, মিষ্টিআলু আরও আছে!” স্বাদ-গন্ধ ঘেঁটে ঘেঁটে জেনে গেছে খাবারের শিরাউপশিরা
চব্বিশ ঘন্টাকে বিতরণে বদলে দিয়েছে শুধু প্রস্তুত দাঁড়িয়ে থেকে
থাকা বড় ক্ষণস্থায়ী — হাসি, ভেলকি, অস্ফুট কুকুর।
তাই তো সে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ২৭ বার দেখা | ১০৪ শব্দ
শোয়া-পণ্ডিতের গুষ্টি
দশ
নির্মল সহজে ঘন মেঘস্তর থেকে নেমে বৃষ্টি হয়ে কচুপাতার মৃণাল ঘিরে দাঁড়াতে পারে না। “সরল তরল হও, বিকাশের রীতিনীতি এই” এক কবি লিখেছিলেন; কিন্তু মায়া কখনও দুধ তৈরি করতে বললে সে এত মোটা ক’রে গুলত, খাওয়ালে বাচ্চাদের অবধারিত পেট ছেড়ে দেবে। নির্মল নিজেকে মেলে পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | ৩২ বার দেখা | ১০৯৯ শব্দ
শোয়া-পণ্ডিতের গুষ্টি
সাত
— দাঁড়ায় জল খায় না, দিদি। বিষম লাগবেনে।
শিউলি খাটের ওপর খ’সে প’ড়ে গেলাসে চুমুক দিল।
দিদিমাবুড়িরা একটু বকর-বকর করেই থাকে :
— জীবনে আর তিন্‌ডে জিনিস মনে রাইখো। কেউ পান খাওয়াতি চালি খুলে দেখে মুখি দেবা। পাইখানা ক’রে মাটিতি হাত ঘষতি ভোলবা না। আর কোনও দিন পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৭ বার দেখা | ৯১৪ শব্দ
শোয়া-পণ্ডিতের গুষ্টি
তিন
আপনি তো বাজারে চলে গেলেন, এদিকে ছেলে আবার চোখ উলটোয় পড়িছিল।
তারক ডাক্তার স্টেথো দিয়ে রোগির বুক-পিঠ ছেনে যথারীতি বাঁহাতে তার কবজি ধ’রে নিজের রিস্টওয়চে ডুবে গেছে। আর দিদিমার বুক ঢিপ ঢিপ, তারক সেই উদ্‌ভুট্টি কথাটা ব’লে বসবে না তো — ঘ্যাঁজ্‌ড়া? জর্দাপানের পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৩ বার দেখা | ৯৯০ শব্দ
শোয়া-পণ্ডিতের গুষ্টি
এক
নিবাধুইয়ের সবজি বাজারটা কেমন যেন কম-রোশনি, চোখ-বোজা, মরা-মরা। ইঁটের দাঁত বের করা পিলারের ওপর টালির চাল, নীচে কাঁচা এবড়ো-খেবড়ো মাটিতে একটা চটের বস্তা পেতে ব’সে দুতিনটে বস্তার ওপর আনাজের ডাঁই তুলেছে দোকানদাররা, বিক্রির টাকাপয়সা চালান করছে হাঁটুর নীচে চাপা অন্য একটা দুভাঁজ পড়ুন
গল্প | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৫ বার দেখা | ১১০৮ শব্দ
নিমতিতা সরকারি কলোনি
এগারো
“ও-গৃহস্থ, আমার কলোমডা কোথায় বোলতি পারো? ও-গৃহস্থ, আমার চ্যাবোনপ্রাশের কৌটো পাচ্ছি না”। মনে হবে ভাষকের বয়েস পঁচিশ বছরে আটকে, তেমনি নেশাধরানো গলা। ‘ও-গৃহস্থ’ ডাকে ঘর-উঠোন ভ’রে আছে সারাদিন। মায়াও “একটা কাজ যদি করার উপায় থাকে” এই নকল উষ্মা ঠোঁটে নিয়ে রান্নাঘর থেকে এসে জিনিস পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৬ বার দেখা | ১২০২ শব্দ
নিমতিতা সরকারি কলোনি
আট
অনেক দূরের নক্ষত্রমণ্ডল থেকে ফিরে আসছিল চাঁদ, রিকশা ক’রে। অন্ধকার মহাজগতে চাকার নীচে খোয়ার মতো ছায়াপথ আর গ্রহাণুপুঞ্জের ঝাঁকুনি খেয়ে, রিকশার হ্যান্ডেলের লাগানো টেমি-র আলোয় রাস্তা দেখে দেখে। হঠাৎ এক একটা উল্কা ছুটছে চারদিক সাদা ক’রে দিয়ে। তখন বোঝা যাচ্ছিল, ধ্রুবলোকের কোথাও ব’সে সিংহ পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৩ বার দেখা | ৭৮৫ শব্দ
নিমতিতা সরকারি কলোনি
পাঁচ
জ্বর, তুমি কোথা হইতে আসিয়াছ? খগবতীর মৃত্তিকা হইতে। মাটি থেকে মানুষের পায়ের আঙুল বেয়ে আস্তে আস্তে উরু, কোমরে উঠে যাই। ওদিকে হাতের তালু থেকে নাক-গলা হয়ে মাথায়। তারপর দুই ঢেউ এক সঙ্গে ভেঙে পড়ি বক্ষতটে।
এই তরঙ্গ উইপোকার, তার আস্তরণে ঢেকে গেছে সমস্ত শরীর। পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৩ বার দেখা | ৯৪৭ শব্দ
নিমতিতা সরকারি কলোনি
তিন
তারক অধিকারীই উদ্বাস্তু-মোকামে বাস করা একমাত্র বদ্যি। কেউ কোনওদিন তার ডিগ্রি জানতে চায়নি; ‘নেয়েচি’-খেয়েচি’ বলা ঘটি পরিবার সরকারি কলোনিতে ভিড়ল কীভাবে, সে রহস্যের গিঁট খুলতেও লোকের বয়ে গেছে। কামদেবপুরে তার ডিসপেনসারি, সেখানে গরীব মুসলমানদের সাক্ষাৎ খোদা এই তারকেশ্বর। দুহাতের আঙুলে সাতখানা পাথর আর পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫০ বার দেখা | ১০৭৮ শব্দ
নিমতিতা সরকারি কলোনি
এক
নিমগাছে নতমস্তক হয়ে পড়েছে রোদ্দুর। পুকুরপাড়ে পোঁতা খুঁটির ডগায় ব’সে মাছরাঙা ভাবছে, মাছ ধরতে গেলে সেই তো পায়ে ঠান্ডা লাগবে। কার বাড়ি যেন রেডিয়োতে “বলো না সহজ ক’রে আমায় পেরেছ তুমি বুঝতে”, আর প্রত্যেক গাছের নীচে শুকনো পাতার কবিতাপাঠ।
তখন কলোনির রাস্তা দিয়ে একটা পড়ুন
গল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৪ বার দেখা | ৭৪৬ শব্দ
গুড়ের চা
সাত
সকাল থেকে এই নিয়ে চার নম্বর ভিখারি। পেট ডুগ্‌রে গলা সরু একটা ন্যাংটো বাচ্চা কোলে তার মা এসে দাঁড়িয়েছে। বাচ্চাটার দু’নাক দিয়ে মোটা হলদে সিক্‌নি। মাঝেমাঝে নাক টানলে বেরিয়ে পড়ছে সিক্‌নির নীচে দুটো লম্বা লাল ঘায়ের দাগ। প্রতিবার রান্নার চাল নেওয়ার পর হাঁড়ি থেকে পড়ুন
অণুগল্প, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৬ বার দেখা | ৯৮৩ শব্দ
গুড়ের চা
চার
মা কোনওদিন হেডমিস হতে পারবে না। হেডমিসের কেমন দূর-ময়না গলার আওয়াজ, যে-কোনও “ভাল্লাগে না” সারিয়ে দেওয়া হাসি, পাট-পাট শাড়ির কুচি, রাস্তা দিয়ে এক-ঢেউয়ে হেঁটে যাওয়া আর মা তো ব্লাউজই পরে না। চাঁদের দিদি প্রতিদিন মিসের সঙ্গে স্কুলে যায়। চাঁদও হেডমিসের পাশাপাশি এক-ঘোরের মধ্যে হেঁটে পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৫ বার দেখা | ১১২৩ শব্দ
গুড়ের চা
এক
শীতকাল পুরোনো নীল সোয়েটারের শক্তিপরীক্ষা নেয়।
শুরুতে মনিদার ছিল, তারপর ছোড়দা পরতো, এখন চাঁদের গায়ে। ক্যাশমিলনের তৈরি, কিন্তু তাতে বিচ্ছেদের ভাগ বেশি; ক্ষার-কাচায় আর টান খেতে খেতে উলগুলোর ফেস্টো বের হয়ে গেছে, হাওয়া পাস করে মাছের-চোখ ডিজাইনের ভেতর দিয়ে। লেপেরও তুলো সরে গেছে স্থানে স্থানে; পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬২ বার দেখা | ৮৬৩ শব্দ
রিস্কি
সবাই নিজের স্বার্থ দ্যাখে
মানছে মনে মনে
স্বীকার করতে বলো – ওদের
কিল-ঘুষি কে গোনে!
নিজের সুখের ব্যস্ত খোঁজে
তোমার ভালো দেখছে না
চোট-ধাক্কা দিনের মেনু
হও গে’ যতই মুখচেনা
লোকাল ট্রেনের চতুর্থ সিট
হিসেব- বহির্ভূত
তেমনি সবাই সবার কাছে
রুক্ষ হওয়ার ছুতো এই জনতাই ব্রহ্ম, জান-এ
সাপটে নিতে হবে
নিলেই চোরা ছুরি বুকের
বাইপাস-উৎসবে
কিশোর, তবু হোক না তোমার
গঠিত পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৫ বার দেখা | ৪৯ শব্দ
বাউল
ধুলোবালির রাস্তা উজোয়
ডাইনে ডাঙা, বাঁয়ে অজয়
জনমানুষ পাখির মতো প্রাণ নদীর চরে সূর্যথালা
মেজেঘ’ষে কৃষ্ণআল্লা
তাতে সিকি-আধুলি ভিখ চান শীত পড়েছে এবার বেশি
আমরা সবাই প্রতিবেশী
অচিন ছেলে কাঁথায় ভাগ্যবান তুমি জাতবাউলের ব্যাটা
নেই ঘরসংসারে চ্যাঠা
বোল-নাচ-ভাবের সাম্পান সুরের শিরে দাঁড়াও, গুরু
জগৎ তোমার পায়ে শুরু
কপাল জুড়ে আকাশ ওড়ে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৫ বার দেখা | ৫৫ শব্দ