আমার ভুবনে আমি একা। বড্ড নিঃসঙ্গ! সবাই থেকেও যেন নেই। নিজের থেকে নিজেই যখন দূরে সরে যায় কেউ, তখন চেতনায় দীর্ঘশ্বাসের জমাট বাষ্পে পরিচিত ছায়াগুলোকেও কেমন ঝাপসা দেখায়! আমার বেলায়ও তাই হয়েছে।
.
আমি এখন আর আমাতে নেই। অন্য কেউ-কিছু একটা আমাকে দখল করেছে। এক মরণব্যাধি ধীরে ধীরে আমাকে গ্রাস করে চলেছে। সবাই জানে। আমিও… অথচ অন্যরা এমন ভাব করছে যেন কিছুই হয়নি। আমিই পৃথিবীর সব থেকে সুস্থ মানুষ… একমাত্র সুস্থ মানুষ!নীরবে চোখের জল মুছে মুখে জোর করে হাসি ফুটিয়ে আমার কাছে আসে। কিন্তু চোখের জল মুছলেই যে হৃদয়ে কান্নার দাগ লুকোনো যায় না- এই চরম সত্যটা বুকে ধারণ করে অভিনয়ের জন্য হয়তো তাঁরা অস্কারের নমিনেশন পেতে পারবে। কিন্তু ক্যান্সারের সাথে বসবাসকারী এই যুবকের সামনে ওদের মিথ্যাচারগুলো যে কত অবলীলায় ধরা পরে যায়, ওরা তা কি বুঝে?
.
ওরা বলতে খুব কাছের তিনজন মানুষ। আর একসময়ে তাঁদের থেকেও কাছে আসা… এখন অনেক দূরে সরে যাওয়া আরো একজন। কাছের তিনজন হলেন আমার বড় ভাই, ভাবি এবং ছোট বোন।
.
বাবা-মা হারা তিন ভাইবোনের এই ফ্যামিলিতে ‘ভাবি’ নামের অন্য একজন ‘আউটসাইডার’ নিজের ভিতরের মমতার ডালি খুলে দিয়ে আমাদের পিঠাপিঠি দু’ভাইবোনকে তাঁর ন্যাওটা বানিয়ে নিয়েছিলেন! বড় ভাইয়া আমার থেকে দশ বছরের বড়। আমি আর রূম্পা দুই বছরের ছোট বড়। বাবা-মা দুজনেই গত হয়েছেন আজ আট বছর হল। সেই থেকে আমাদের দুই ভাইবোনকে সহ বাবার রেখে যাওয়া হামিদ গ্রুপ এবং এর ছোট বড় কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ভাইয়াই শক্ত হাতে আগলে রেখেছেন। একাই সব দিক সামলিয়েছেন। আমার মাস্টার্স কমপ্লিট হবার পরে আমাদের দু’জনের জোরাজুরিতে বিয়ে করলেন। জীবনের পঁয়ত্রিশটি বসন্ত তখন ইতোমধ্যে পার করে দিয়েছেন। এমনই বাবার মতো বড় ভাই যখন আমার চোখের দিকে তাকাতে পারেন না… ভাব করেন আমার কিছুই হয়নি… তখন নিজেকে সামলাতে পারি না। কিন্তু ক্যান্সার রোগীদের আবেগ থাকতে পারবে না। নিরাবেগী হয়ে তাদেরকে সবদিক সামলে চলতে হবে!
.

ক’টা বাজে এখন?
আমার কাছে ইদানিং সময় স্থির! ঘড়ির টিক টিক শব্দ আমাকে বেঁধে দেয়া একটি নির্দিষ্ট সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই আমার এই রুমে কোনো ঘড়ি রাখতে দেইনি। আমি নিজেই। দক্ষিণ সাইডের বেডসাইড উইন্ডোটি হাল্কা নীল কার্টেনে ঘেরা। ওটা সরালেই নীল সমুদ্র দেখা যায়। হোটেলের এই স্যুইটটি আমার জন্য ভাইয়া ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর দিয়ে ‘স্পেশাল’ ভাবে সাজিয়েছিলেন। পুরো হোটেলটাই আমাদের। পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমিকে সামনে রেখে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। আমার চারিদিকে প্রাচুর্য্যের ছড়াছড়ি। নীচে হোটেলের কার পার্কে আমার টয়োটা স্পোর্টস কার’টি আমার মতো নিঃসঙ্গ পড়ে রয়েছে। ওর মসৃণ শরীরে হয়তো ধুলা জমে আছে… ওকে বিবর্ণ করেছে…আর আমাকে বিবর্ণ করছে মৃত্যুর কালো ছায়া!
.

রোগটা প্রথম যখন ধরা পড়ল, তখনই অনেক দেরী হয়ে গেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আমাকে দেখলেন… অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। শেষে একদিন আমাকে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে ভাইয়াকে একা ডেকে নিয়ে ডাক্তার কথা বললেন। কিছুক্ষণ পরে ভাইয়া আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। তবে সেদিনের ঐ মুহুর্তটা আমার আজীবন (জীবনের যতটুকু আর বাকি রয়েছে সে পর্যন্ত) মনে থাকবে। সুইং ডোর ঠেলে একজন বিধ্বস্তপ্রায় মানুষ বের হলেন… যার সম্পদের পরিমাণ তিনি নিজেই জানেন না… হেঁটে হেঁটে আমার দিকে আসছিলেন। আমার দিকে চোখ পড়তেই মুহুর্তে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঐ টুকু সময়ে তাঁর চোখে আমি আমার সর্বনাশ দেখে নিয়েছিলাম… দেখেছিলাম আমার ভবিষ্যৎ। ভাইয়াকে তখন একজন নিঃস্ব-কাঙ্গাল মনে হচ্ছিল।
.

আমি ডাক্তারের সামনে বসলাম। টুকটাক কথাবার্তার এক পর্যায়ে ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়ং ম্যান, তোমার শরীর এখন কেমন?’ আমি ওর মুখের ওপর হাসলাম। একেতো নমিনেশন বাদ দিয়ে সরাসরি অস্কার দিয়ে দেয়া উচিত। অভিনয়ের জন্য অবশ্য। সব জেনেও কেমন অভিনয় করছে। বললাম, ‘আমার থেকে তোমারই ভালো জানা উচিত।’ ওর মুখের হাসিটা একটুও ম্লান হলোনা। পেশাদারিত্বের চরম পরকাষ্ঠা সেদিন সেই বিশেষজ্ঞের চেম্বারে বসে দেখলাম। আমার আর এখানে কোন থাকার প্রয়োজন নেই বলে সে তাঁর ডান হাতটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমি স্থির থেকে ভাইয়াকে রুমের বাইরে যেতে অনুরোধ করলাম। ডাক্তারের দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টি বিনিময় করে ভাইয়া বের হয়ে গেলেন। এবারে আমি ডাক্তারের হাতকে নিজের হাতে নিয়ে বললাম, ‘ওয়েল ওল্ড চ্যাপ, এখন বলো আমার হাতে আর কতদিন আছে?’
.

আমার খুব পানির তেষ্টা পেয়েছে। উঠে বেডসাইড টেবিল থেকে পানি খেলাম। রুমটা অনেক অন্ধকার। এখন এভাবে থাকতেই আমার আরাম লাগে। একসময় অন্ধকারকে প্রচন্ড ঘৃনা করতাম। আলো আর আলোয় ভরা এক উচ্ছশৃংখল জীবনের মালিক ছিলাম। শরীরের উপর যথেষ্ট অত্যাচার করেছি… প্রচুর সিগ্রেট টানতাম… সেখান থেকেই মরণব্যাধি আমার দেহকে বেছে নিয়েছে নিজের পুষ্টি পাবার জন্য। আমিও জীবনকে উপভোগ করার এমন কোন পথ বাকি রাখতাম না… আজন্ম এক বোহেমিয়ান লাইফ লীড করে এসেছি। আজ নির্জন একটি রুমে একাকী অন্ধকারকে পরম নির্ভরতায় সঙ্গী করেছি। আলো… রোদ এখন অসহ্য লাগে। এগুলো আমাকে আমার অক্ষমতাকেই জানান দেয়।
.

তিনমাস সময় হাতে নিয়ে দেশে এসেছিলাম। আর ক’দিন যেন বাকি আছে? সব কিছু কেমন ভুলে যাচ্ছি আজকাল। ভাইয়া আমাকে গুলশানের বাড়িতেই রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি এখানেই থাকতে চাইলাম। সমুদ্রের প্রতি আমার আগ্রহ সেই ছেলেবেলা থেকেই। সমুদ্রের নীল জলরাশির প্রতি ভালোবাসা আমাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াতো। জীবনের শেষ দিনগুলো সেই সমুদ্রের সাথেই কাটাচ্ছি আমি। ভাইয়া-ভাবী আর রূম্পা প্রতি সপ্তাহে আসে। আমিই বলেছি এভাবে আসতে। এখানে দেখাশোনা করার লোকের অভাব নেই। বেল টিপলেই কেউ না কেউ এসে হাজির হয়।
.

আস্তে আস্তে জানালার সামনে এসে দাঁড়াই। পর্দা সরিয়ে দিতেই আলোর অসহ্য ঝলকানি আমাকে কয়েক মুহুর্ত অন্ধ করে রাখল। আলো সয়ে এলে চোখ খুলে ব্যালকনিতে যাই। এখন বিকেল। শেষ বিকেল… দিনেরও… জীবনেরও কি? এটাই হয়তো আমার দেখা শেষ বিকেল! আজকের বিকেলটি আমার কাছে তেমন কোনো অনুভূতি আনে না। বাইরে সোনাঝরা রোদ… উন্মুক্ত নীলাকাশ… নীল জলরাশি আর মুহুর্মুহু ঢেউ এর গর্জন… নীল শাড়িতে একজন নীলাম্বরী! এই একই রুমে… এই ব্যালকনিতে… ওর সাথে কাটতো সময় কত গল্প বলে… একদিন এখানেই সে আমার হাতটি ধরে বলেছিল আমাকে, ‘ভালোবাসি!’ এখন কোথায় সে? আমার ক্যান্সার হয়েছে জানার পরেও সে কয়েকবার এসেছে। তবে বিদেশ থেকে মৃত্যু পরোয়ানা জারি হবার পরে সেও আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে থাকে। এটা ওর নিজের ইচ্ছায় নাকি ওর বাবা-মায়ের ইচ্ছায় খুব জানতে ইচ্ছে করে! সে তো নিজের ইচ্ছাতেই আমাকে ভালোবেসেছিল… তবে চলে যাবার বেলায় কেন অন্যের ইচ্ছের দোহাই দেয়া?
একজন মৃত্যুপথযাত্রীকে কেই বা ভালোবাসবে!!
.

তবে সরাসরি আমাকে বললেই পারতো নীলা।
এই লুকোচুরির কোনো দরকার ছিলনা। এখন আমার কোনো কিছুতেই কিছু আসে যায় না। কে এলো কে গেলো কোনো অর্থ রাখে না। আচ্ছা, আমি কি নীলাকে মিস করছি? বোধহয়। তবে ক্যান্সার রোগীদের কাউকে মিস করার ও অধিকার নেই… কাউকে মনে করে কষ্টও পেতে হয় না তাঁদের। কারন প্রতি মুহুর্ত নিজের ভিতরে দুর্দান্ত কষ্টরা ডানা মেলে থাকে! তবে এই রোগীদের কিসের অধিকার রয়েছে, কেউ বলবে কি আমায়? অণুক্ষণ প্রচন্ড এক যন্ত্রণা… বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট কিছু সময়…আর শেষের সেই ভয়ংকর মুহুর্তের অপেক্ষা করা… একসময়ের ভালোবাসাময় চোখগুলো কীভাবে কনভার্ট হয়ে ভাষাহীন করুনাময় চোখে পরিণত হয় সেগুলো চেয়ে চেয়ে দেখার অধিকার? একজন নীলা কীভাবে একজন অপরিচিতা হয়ে ওঠে এবং চলে যায়… বিষন্ন চোখে তা দেখা আর তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করা? আমিতো এগুলো চাইনি? তবে আমার সাথেই কেন?
.

সুদর্শন ছিলাম। আমার চুল সবার দৃষ্টি কেড়ে নিতো। ভার্সিটির মেয়েরা পাগল ছিল এই চুলের। নীলা বলতো , ‘একটা স্কার্ফ পড়ে থাকবে বাইরে বের হবার সময়। অন্য কোনো মেয়ে তোমার চুল দেখবে তা চাইনে।’ কেমো দেবার পরে আমার আরো অনেক কিছুর মত সেই চুলও নেই। এখন আমি পঁচিশ বছরের লোলচর্মসর্বস্ব এক কুকুরের মতো! আমার রুমে ঘড়ির মতো কোনো আয়নাও নেই। নিজেকে এখন মনের চোখ ছাড়া আমার দেখবার কোনো উপায় নেই। অবশ্য অন্যের চোখে এখনো তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে দেখতে পাই। তবে তা অতোটা সুখককর নয়।
.

গত সপ্তাহে বন্ধুরা আমাকে দেখতে এসেছিল। কয়েকজনকে তো নিজের দুর্বল হয়ে যাওয়া স্মরণশক্তির জন্য চিনতে পারলাম না। আর কয়েকজন তাঁদের নিজেদের দুর্বলতার জন্য তাদেরকে চিনতে দিলো না। এরাই ছিল আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী… নেশার… তাসের আড্ডার… জীবনের মানে খুঁজতে যাবার…আর আজ এদের চোখে আমার জন্য ভালোবাসাহীন এক দায়সারা আবেগ!
.

নিজের কাছে মোবাইলও রাখি না। ভাইয়া হোটেলের ম্যনেজারের নাম্বারে কল করে আমার সাথে কথা বলেন। এখন বেশীক্ষণ কথাও বলতে পারি না। দরোজা নক করে একজন মোবাইল হাতে এলো। ভাইয়ার ফোন। আমার কাছে জানতে চাইলেন কিছু লাগবে কিনা? বড্ড বলতে ইচ্ছে হল আমাকে আরো কিছুটা সময় পারলে এনে দিতে। কিন্তু বললাম, ‘কিছু লাগবে না।’ ওপাশে অনেকক্ষণ ভাইয়া চুপ করে আছেন। আমিও নীরব। বুঝতে পারছি তিনি কাঁদছেন। আমি যে ওনার কাছে ছেলের মতন। আমাদের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো সন্তান নেননি। স্রষ্টার কাছে এই মুহুর্তে প্রার্থনা করলাম, ‘যদি পারো আমাকে আবার অন্য কোনো জনমে ভাইয়ার সন্তান করে পাঠিয়ো।’ হঠাৎ কি হল, ভাইয়াকে বললাম, ‘একবার নীলাকে দেখতে ইচ্ছে করে।’ মোবাইলটা ফেরত দিতে বেল বাজালাম। ভাইয়ার সাথে আমার শেষ কথাই কি হয়ে গেলো?

কীভাবে দিন আসে… চলে যায়… রাত ভোর হয়… সুর্য উঠে… চাঁদ হাসে এগুলো আমার অনুভূতি থেকে বিদায় নিয়েছে। তাই দরোজা ঠেলে নীলা যখন এলো আমি বুঝতে পারলাম না এটা রাত না দিন। তবে ঘর আলো করে সে যে এসেছে তা বুঝতে পারলাম। সে এসে আমার বিছানার সামনে নির্বাক দাঁড়িয়ে রইলো। এই নীলা আর সেই নীলা! এই আমি আর সেই আমি! মাঝখানে এক মরনব্যাধি… লুপ্তপ্রায় ভালোবাসা। ভালোবাসারা কি একদিন এভাবে মরনব্যাধির কাছে হার মেনে শেষ হয়ে যাবে?
.

নীলা এখনো আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। পাশে এসে বসলো না। আমি বললাম, ‘কি দেখছ?’ কিন্তু নিজের কাছেই নিজের আওয়াজকে অপরিচিত লাগল। নীলা এবার আমার পায়ের কাছে আসে। বসে।ওর শরীর থেকে কি ভালবাসার ঘ্রাণ বের হচ্ছিল… সে কি আমার পাশে বসে মৃত্যুর ঘ্রাণ অনুভব করছে। ওর চোখ দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে। নীলা বলল, ‘কেমন আছ?’ আমি হাসলাম। বললাম-
‘ভালো আছি।’
– কেন মিথ্যে বলছ?
‘তুমিই বা কেন মিথ্যে বলাচ্ছ?’
দু’জন চুপ করে রইলাম। কথা যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দু’জন মানুষ একসময়ে ভালবাসার টানে একে অপরের কাছে এসেছিল। আজ একজনের ভিতরে কি এক ব্যাধি বাসা বানাতেই সেই ভালবাসার সৌধ ভেঙ্গে গেছে। এতোই ঠুনকো ভালোবাসা!
.

ওকে বললাম, ‘তোমার গলায় সেই গানটা একবার গাইবে ?
– কোনটা?
‘মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে?’
একটু কি চমকায় নীলা? একটা গান কি ফেলে আসা কিছু নস্টালজিক মুহুর্তকে ফিরিয়ে আনতে পারে? মাথা নীচু করে থাকে সে। আমি অপেক্ষা করি। যেভাবে অপেক্ষা করছি শেষ সময়ের জন্য। নীলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে গাওয়া শুরু করে… ওর হাত আমার কঙ্কালসার হাতকে ধরে রাখে… আমি কোনো অনুভূতি পাইনা… তবে ওর গান আমাকে ভালোলাগার এক সুন্দর মুহুর্ত এনে দেয়। খুব ভালো লাগে গানের কথা।
.

একসময় শেষ হয় গান… নীলা এখন চলে যাবে। যাবার বেলায় কোনো কথা হল না আর আমাদের। একেই বোধহয় নীরবে চলে যাওয়া বলে। দরজা পর্যন্ত গিয়ে নীলা একবার পিছনে ফিরে চায়! ওর চোখে ক’ফোটা জল দেখতে পেলাম। সে না ফিরলেই ভাল হতো! কি মনে করে ফিরলো কে জানে। আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি… সেও তাকিয়ে আছে। নীলার চোখে কি সেই আগের ভালোবাসা ফিরে এলো? নাহ! এসব আমার মনের ভুল ভাবনা। একবার চলে গেলে কেউ আর ফিরে আসেনা। একবার ভাবলাম নীলা যদি দরজার ওখান থেকে ফিরে আমার কাছে আসে, হয়তো শেষ একবার চেষ্টা করতাম! বেঁচে থাকার…
.

নীলা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে… দরজাকে সাথে নিয়ে। এক পা সামনে বাড়ালেই ওর মুক্ত জীবন… আর এক পা পিছনে আসলেই আমাকে ঘিরে ওর জন্য এক নতুন জীবনের অনিশ্চয়তা। নীলা কি ফিরবে? নীলারা কি ফিরে আদৌ? এটাই ছিল আমার চেতনায় শেষ অনুভূতি… … …।।

GD Star Rating
loading...
GD Star Rating
loading...

মামুন সম্পর্কে

একজন মানুষ, আজীবন একাকি। লেখালেখির শুরু সেই ছেলেবেলায়। ক্যাডেট কলেজের বন্দী জীবনের একচিলতে 'রিফ্রেশমেন্ট' হিসেবে এই সাহিত্যচর্চাকে কাছে টেনেছিলাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি... নিজের চল্লিশ বছরে এসে আবারো লেখালখি ফেসবুকে। পরে ব্লগে প্রবেশ। তারপর সময়ের কাছে নিজেকে ছেড়ে দেয়া। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ তে 'অপেক্ষা' নামের প্রথম গল্পগ্রন্থ দিয়ে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। বইমেলা ২০১৭ তে তিনটি গ্রন্থ- 'ছায়াসঙ্গী'- দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ, 'ঘুঙ্গরু আর মেঙ্গরু'- উপন্যাস এবং 'শেষ তৈলচিত্র'- কাব্যগ্রন্থ নিয়ে সাহিত্যের প্রধান তিনটি প্ল্যাটফর্মে নিজের নাম রেখেছি। কাজ চলছে ১০০০ অণুগল্প নিয়ে 'অণুগল্প সংকলন' নামের গ্রন্থটির। পেশাগত জীবনে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। একজন অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পোষাক শিল্পের কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতা করছি। লেখার ক্ষমতা আমি আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছি। তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লিখেই যেতে হবে আমাকে।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের,লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে গল্প-এ এবং ট্যাগ হয়েছে স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

৩ টি মন্তব্য যেতে যেতে দুয়ার হতে : ছোটগল্প

  1. মুরুব্বী বলেছেনঃ

    এভাবেই আমাদের জীবনের সময় গুলোন ছোট থেকে আরও ছোট হতে থাকে। রোগ বা রুগী না হলেও আমাদের অনেকের জীবন এই একই গণ্ডীতে বাঁধা। দিন যায়; যায় দিন। 

    শুভ সকাল মি. মামুন।

    GD Star Rating
    loading...
  2. আমার চারিদিকে প্রাচুর্য্যের ছড়াছড়ি। নীচে হোটেলের কার পার্কে আমার টয়োটা স্পোর্টস কার’টি আমার মতো নিঃসঙ্গ পড়ে রয়েছে। ওর মসৃণ শরীরে হয়তো ধুলা জমে আছে… ওকে বিবর্ণ করেছে…আর আমাকে বিবর্ণ করছে মৃত্যুর কালো ছায়া!

    জীবনটা আসলে এভাবেই আস্তে আস্তে ধোয়াশা হয়ে যায় এবং প্রদীপ যায় অস্তাচলে। আমি গল্পের ঘোরে এখনো পড়ে আছি। বাস্তব জীবনের সহস্রাধিক চিত্রের প্রতিচ্ছবি এটি। খুব ভালো লাগল। লিখুন, আমরা ঋদ্ধ হই গল্পাকার বন্ধু।

    GD Star Rating
    loading...
  3. রিয়া রিয়া বলেছেনঃ

    মনটা যেন কেমন করে উঠলো। একসময় না একসময় পৃথিবীকে বড্ডো বিচ্ছিন্ন মনে হয়। Frown

    GD Star Rating
    loading...

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।