আবু মকসুদ-এর ব্লগ
দুয়ারে_আইসাছে_পালকি_১১
ঝগড়াটা না হলেও পারতো
এমন কোন মারাত্মক বিষয় ছিল না
মামুলি বিয়ের দাওয়াতের ঝগড়া
এ পর্যন্ত গড়াবে, জীবন বদলে দেবে
জীবন ধ্বংস করে দেবে, একটা জীবনের বাতি
নিভিয়ে দেবে, এটা কী কেউ ভেবেছিল তিনটা প্রাণ আর কোনদিন এক হবে না
এক উড়ে গেছে, দুইজন
দুই দিকে মোড় নিয়েছে
ফিরবার কোন সম্ভাবনা নেই
ফিরে আর পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৪৬ বার দেখা | ৯৩২ শব্দ
গায়ের_লোক
আমরা গায়ের লোক, কচি ধানের
বাতাসে বুক হালকা লাগে। দোয়েলের ডাল পাল্টানো খেলায় আমরা অভ্যস্ত
দূরের নাও যখন ছাওয়ের নীচে বউয়ের ঘোমটা খুলে, কৌতুহলী চোখ
লাজরাঙা মুখ দেখে। দুরন্ত বাছুর আল বাধে শুয়ে শুয়ে কাটায় প্রতিক্ষার
প্রহর, মায়ের খাবার সাঙ্গ হলে মিলবে দুধের নহর। আমাদের ধূলিপথ দিগন্ত
বেড়াতে যায়। অসময়ে ঝড় সবকিছু তছনছ করে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ৬৭ বার দেখা | ৭৩ শব্দ
ঘৃণা
ঘৃণা
আমি ঘৃণা বংশের লোক
কালজয়ী গল্পের পরতে পরতে
যে ঘৃণা, অন্তরালে
আমার বংশের অবদান আছে গল্পের ইবলিশকে ঘৃণায় হারিয়েছি
পদকে পদকে পরিপূর্ণ শোকেস পাঠক আমাকে সযত্নে পরিহার করে
আমি কি আহত হই, হই বটে
ঘৃণার শরে বিদ্ধ করতে পারলে
রাগের উপশম হতো
দূর থেকে ছাইভস্ম করতে থাকি ঘৃণিত আমাকে
একলা ফেলে পাঠক পড়ুন
কবিতা, জীবন | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১১২ বার দেখা | ৭৪ শব্দ ১টি ছবি
মৃত_নদী
মৃত_নদী
মৃত নদীতে চাঁদের খুঁজে যায়
যে মানুষ, প্রতিবিম্বে নিজেকে না দেখে
হতাশ হয়, মৃত নদীতে চাঁদ থাকে না
থাকে চাঁদের কঙ্কাল, কঙ্কালে
প্রতিভাত হয় না মানুষের মুখ রূপবতী নদীর নিদানে মানুষ
পর হয়, নদীলগ্নতা বিস্মৃত হয়
দূর গঞ্জের মনোহারি দোকানের কিম্ভুত
আয়না তাদের হাতছানি ডাকে
জলের মিত্রতা ভুলে বেভুল পড়ুন
কবিতা, জীবন | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৭০ বার দেখা | ১৬৪ শব্দ ১টি ছবি
স্বপ্ন
স্বপ্ন
স্বপ্নে ভাগ্য বদলে যায়
প্রতিরাত স্বপ্নের প্রতিক্ষা করি
সুবহে সাদেকের পূর্বে
মঞ্জিল পেয়ে যাবো ঘুম ভেঙ্গে গেলে
অধরা আলোয় স্বপ্ন
মিলিয়ে যায়, জীবন যুদ্ধ
বাস্তবের মুখোমুখি করালে
বিছানা বিলাস অবান্তর মনে হয়
নিজ কর্মে ব্যাপৃত মানুষ
অলীক স্বপ্নের মোহগ্রস্ততা
ঝেড়ে ফেলে
দিনের শুরু
শেষ স্বপ্নে বাধাপ্রাপ্ত হয় না স্বপ্নের মলম, তাবিজ
মনে কাঙ্ক্ষা জাগায়
ঘুম পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৬ বার দেখা | ৭১ শব্দ ১টি ছবি
আশাবাদ
আশাবাদ
প্রতারিত সময়ের পিছনে
ছুটেছি অনেক
আমাকে বসিয়ে রেখে
সে গেছে হাওয়া খেতে অপেক্ষায় তন্দ্রাঘোর
এলে বিগত মুদ্রা খরচে
হৃদয় তলীয়ে যায়
খোয়াবের দেশে বশীভূত
সময়, ঘোড়ার সওয়ারীর
মতো দিগন্ত মাড়ায় গভীর ঘুমের পরে
পুনরুজ্জীবিত খোয়াবে
সময় ধরবো ভেবে
হাত বাড়াই, সময় ফসকে যায় প্রতারণার কৌশলে পারদর্শী
সময় আমাকে ফাঁকি দিয়ে
পড়শি, দূর আত্মীয়
শত্রুর সাথে মিত্রতা পাকিয়ে
ভেংচি পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৫ বার দেখা | ৫৬ শব্দ ১টি ছবি
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ৪
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ৪
নদী ভাঙ্গনের সাথে
দুঃখের সংযোগ আছে
বসতভিটা হারানোর শোকে
দুঃখের মিছিল প্রত্যক্ষ করেছি
শেষ পর্যন্ত শরিক হইনি
আমাদের বসতভিটা নদী ভাঙ্গনের
পরেও নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে
দুঃখ তবু ছেড়ে যায়নি আমার দুঃখ আম, বেদরদি
নদীর জন্য দুঃখে ভাসি আমের আহামরি স্বাদ ছিল
বলবো না, কিন্তু পেড়ে খাওয়ার
আগ্রহে গায়ের চামড়া
পুরু করেছি
গাছে চড়তে অক্ষম পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৫ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৪৫ বার দেখা | ৯৭ শব্দ ১টি ছবি
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ৩
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ৩
এখন যেখানে জাঁদরেল বিল্ডিং
একদা একটা জলাধার ছিল
হাঁটুপানি, তবু প্রাণ ছিল
গামছা বিছিয়ে পোনামাছ
শিকারে কতটুকু পটু ছিলাম
এমন প্রশ্ন উহ্য থাকলেও
প্রাণপ্রাচুর্যের কমতি ছিল না জলাধার আমাদের অধীন
অথবা আমরা তার বশীভূত ছিলাম
একে অপরের পরিপূরক
কিংবা আজন্ম গাঁটছড়ার চুক্তি জলাধার ত্যাগিত হবে, আমরাও
পরিযায়ী জীবনে অভ্যস্ত হবো
কোনদিন ভাবিনি, জলাধারের
ভাবনা পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৭২ বার দেখা | ৯০ শব্দ ১টি ছবি
বাসর
এজন্য আগুনের আয়োজন, প্রতীক্ষিত দিন
বসন্তের পরিপথে দীর্ঘ পরিভ্রমণ অন্তে
পুষ্পে সাজার দিন, প্রজাপতির পাখায়
ওড়াউড়ির সফল সমাপ্তি, মধুরেণসমাপয়েৎ জলের কলসে জলাধার আঁটকে আছে
দুধের বাটিতে সরের ভেসে থাকা, মালাইয়ের
কুলফি একটু পরে চেখে দেখা হবে, আগুনের
উত্তাপ উপশমে বরফের ব্যাপক প্রয়োজন বরফে বরফে ঠোকাঠুকি, চুমুকে চুমুকে
পান, তৃপ্তির অপর পারে মসলাদার
চায়ের ঘ্রাণ, পড়ুন
কবিতা | ৫ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১২৮ বার দেখা | ৬০ শব্দ
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ২
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ২
আমাদের স্মৃতিঘাটে
শ্যাওলা জমে ছিল
সন্তর্পণে জল ছুঁয়ে
পরিশুদ্ধ হয়েছি আমাদের স্মৃতিমাঠে
ঘাস ছিল না
বুকের ঘাসে
ছুটেছি দাড়িয়াবান্ধা মাঠ
অভাবের ছিলনা
অবান্তর হাসফাস আমাদের স্মৃতিস্কুলে
বাজে নি ছুটির ঘণ্টা
আক্ষেপ না করে
কাটিয়েছি অতিক্রান্ত সময় আমাদের স্মৃতিবিকেলে
হল্লা ছিল, অকারণ
ছুটার পরে কলের
ঠাণ্ডা জলে ছিল
আয়েশের তৃপ্তি ফিরে গেলে স্মৃতিদিনে
নিষ্কলঙ্ক ছায়া দেখি
নির্মল ছাপে দেখি
আসছে আজদাহা রাত ভোরে সবকিছু পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১২৪ বার দেখা | ৮৪ শব্দ ১টি ছবি
সমকাল
সমকাল
সমকাল এই প্রজন্মের সাথে সখ্য হউক
পরের প্রজন্মের জন্য লিখে যাবো
অমর গাথা তেমন ইচ্ছে নেই বর্তমান আমাকে পড়ুক, কাল কে
পড়ল জানা হবে না
কালকের জন্য আহাজারি অহেতুক আমার পায়ের ছাপ একটু পরেই
মুছে যাবে, নতুন জুতায় মসৃণ
পথ অন্য কেউ মাড়াবে এখনকার কেউ পায়ের ছাপ
ধরে পৌঁছাক, জলজ্যান্ত আমাকে
আবিষ্কার পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫৭ বার দেখা | ৭১ শব্দ ১টি ছবি
করবিন
করবিন
করবিন ইতিহাস হয়তো লিখবে
বিভ্রান্ত জমানাতে
একজন করবিন ছিল কিংবা লিখবে একজন
মানুষ ছিল, এমন মানুষ যে নির্দ্বিধায় মানুষের মাঝে
হেঁটে যেতে পারতো
যার বুকে মানুষের হৃদয়
ছিল, যার প্রচেষ্টা ছিল
মানুষের চোখের কান্না মুছে দেয়া
মানুষের বুকের কান্না মুছে দেয়া যার প্রচেষ্টা ছিল
প্রতিটি মানুষের অন্ন নিশ্চিত করা
প্রতিটি মানুষের বস্ত্র নিশ্চিত করা
প্রতিটি পড়ুন
কবিতা, ব্যক্তিত্ব | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৭৯ বার দেখা | ১৬৯ শব্দ ১টি ছবি
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ১
গুগলি কিংবা ফিরে যাওয়া ১
দলই বাগানে গিয়েছিলাম
পরিত্যক্ত ছেলেবেলার খোঁজে
পেয়েছি, অত্যন্ত ভারী বিধায় উঠাতে পারিনি
ওজনদার ছেলেবেলা ওখানে পড়ে আছে
আমাকে তার কোন প্রয়োজন নাই তখনকার কালে সাঁতার বিশেষজ্ঞ
হিসাবে খ্যাতিমান ছিলাম
ব্রজেন দাসের পরে সমীহে
উচ্চারিত হতো নাম
আমার গুরু কোর্ট মসজিদের পুকুর
এখন অস্তিত্ব নাই, গুরুর অভিশাপে
আজ নামহীন গোত্রহীন আস্তুম উল্লার কাছে পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৪০ বার দেখা | ১৩৩ শব্দ ১টি ছবি
কুদালিছড়া
আমাদের ছোটবেলায় কুদালিছড়া মোটামুটি জীবন্ত ছিল, ক্ষীণ একটা স্রোত ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যেতো শৈশবে কুদালিছড়াকে কম অত্যাচার করি নি, লাফানো, ঝাঁপানো কাদা ছুড়াছুঁড়ি শৈশবে যত প্রকার বাঁদরামি করা যায় কুদালিছড়া বুকে প্রায় সবই করা হয়েছে বাসা থেকে এক মিনিটের দূরত্বে থাকার কারণে আমাদের পড়ুন
জীবন | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৭৯ বার দেখা | ৩৬১ শব্দ
ফিরছি মায়ের ডাকে
ফিরছি মায়ের ডাকে
ডাকছে কুদালিছড়া
ডাকছে আনসার মাঠ
ডাকছে কালেঙ্গা, ফাটাবিল
টিকর বাড়ির টিলা ডাকছে মনু
পুনরায়
অবগাহনের জন্য হাঁটুজলের নদীর সাথে
শেষবার যখন দেখা হয়েছিল
তখন তার রুগ্ন শরীর
ভগ্ন হৃদয়
শুশ্রূষার কথা
অনুভব করে
শুশ্রূষা দিয়েছি নিয়ম করে প্রতিদিন
কপালে জলপট্টি
শরীরে
হাত বুলিয়ে দিয়েছি
তিতকুটা ঔষুধের পুরিয়া
দিয়েছি মুখে শুশ্রূষায় সুস্থ হলে
তবেই ফিরেছি, প্রাণের নদী
ভালোই ছিল
কিন্তু একাকীত্বের অসুখ
পুনরায়
আসন গেড়েছে
দিন ভাল পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৯০ বার দেখা | ৮৫ শব্দ ১টি ছবি