unnamed

আরবি ‘সদকাতুন’ শব্দের অর্থ দান। দান দুই প্রকার ওয়াজিব (যার উপর প্রযোজ্য তার জন্য অপরিহার্য) এবং নফল (ইচ্ছাধীন)। আল্লাহ এবং রসুল (সা.) দানের বিনিময়ে শুধু সওয়াব অর্জনের কথাই বলেন নাই, সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছেন। সদকা আদায় অর্থাৎ দান করলে সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ, যাকে দান করা হচ্ছে সে ওই টাকাটা খরচ করছে অর্থাৎ টাকাটা রোলিং হচ্ছে, অলস টাকা হিসেবে আটকে থাকছে না। অলস টাকা না থাকায় সমগ্র অর্থনীতিতেই ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে এবং এর সুবিধাভোগী হবে সবাই। যৌক্তিক কারণেই যার সম্পদ বেশী তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে আর সুরক্ষিত থাকবে।

বিষয়টি পরিষ্কার করতে খুব সাধারণ একটা উদাহরণ দেই, ইসলামের রীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে প্রতি বছর নির্ধারিত হারে জাকাত দেওয়া ও জমিনে উৎপন্ন শস্যাদির ওশর প্রদান করা ফরজ এবং সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর কোরবানি করা ওয়াজিব। চার বছর আগের হিসেবে বাংলাদেশে আদায়যোগ্য যাকাতের পরিমাণ নূণ্যতম ২৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ যাকাত কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে ২৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক রোলিং হচ্ছে, এই রোলিংয়ের ফলে গতি পাচ্ছে অর্থনীতি, সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্ররা লাভবান হচ্ছে এবং এর সুবিধা পাচ্ছেন দাতাসহ সবাই। অন্যদিকে কোরবানির চামড়ার ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের চামড়া শিল্প, আর দেশের দরিদ্র মানুষের আমিষের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ মিটে কোরবানিকে কেন্দ্র করেই। অর্থাৎ দানে যে সম্পদ বৃদ্ধি পায় সে বিষয়টি এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়, আর নিয়মতান্ত্রিকভাবে আচারগুলো পালন করলে আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্কার তো আছেই।

পুনশ্চঃ আমরা চাইলেই আলেম, ইমাম, পাদ্রী, পুরোহিত, রাবি হতে পারবো না। এর জন্য বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়ন ও চর্চা প্রয়োজন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই মূল ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্ম বিষয়ক বইগুলো পাঠ করতে পারি, আজকাল বাংলায় অনুবাদের অভাব নেই। এর ফলে হবে কি, আমরা আলেম, ইমাম, পাদ্রী, পুরোহিত, রাবি হতে পারবো না ঠিকই, কিন্তু কেউ আমাদের ভুল পথে পরিচালনা করছে কি না তা বুঝতে পারবো এবং প্রশ্ন করতে পারবো।

যে ধর্মের প্রথম ঐশী বাণী “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক” অর্থাৎ ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (এখানে পড়ো মানে শুধু পাঠ করা নয়, জ্ঞান অর্জন করাও বটে) এবং নবী করিম হযরত মোহম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তালাবুল ইলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিম’ অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ, (বায়হাকি : ১৬১৪), ওই ধর্মের অনুসারী হয়ে পাঠ বিমুখ থাকা কি উচিত- বিবেচনাটি আপনার।

VN:F [1.9.22_1171]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
দান বা সদকা আদায় করলে সত্যিই কি সম্পদ বাড়ে?, 5.0 out of 5 based on 1 rating
FavoriteLoadingলেখা প্রিয়তে নিন
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে জীবন-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

২ Responses to দান বা সদকা আদায় করলে সত্যিই কি সম্পদ বাড়ে?

  1. মুরুব্বী বলেছেনঃ

    পরম করুণাময় আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে দান করার তৌফিক প্রদান করুন।
    আমীন।

    VN:F [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)
  2. ফয়জুল মহী বলেছেনঃ

    ভীষণ ভালো লাগলো

    VN:F [1.9.22_1171]
    Rating: 0 (from 0 votes)

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।