আবু মকসুদ-এর ব্লগ
মেঘাচ্ছন্ন দিনের বিড়ম্বনা
মেঘাচ্ছন্ন দিনের বিড়ম্বনা
মেঘাচ্ছন্ন দিনে মেঘ হৃদয়ের
মেয়েকে জিজ্ঞেস করি
বৃষ্টির খবর। ঈশানে; রাজা প্রলয়
প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, মেঘের
জবাবের পুর্বেই তিনি
জোরেশোরে এসে পড়লেন। প্রথম ধাক্কায় উড়ে গেল
কদলী বৃক্ষ। দাদাজানের
পুকুরে পাতা ছিল মৎস শিকারির
জাল; রাজা প্রলয় তার বুক
বিদীর্ণ করে পাশের বাড়ির
সফেদা গাছের সাথে কুস্তি
করলেন। আমার প্রেমিকা শরীফা পড়ুন
কবিতা, জীবন | ১টি মন্তব্য | ৫০ বার দেখা | ৮৭ শব্দ ১টি ছবি
দাম্পত্য
তোমাকে নিয়ে ঢাকায় সেটেল হব
ভেবেছিলাম
কিন্তু ধুলোয় তোমার এলার্জি সাত পাহাড়ের মাথায় যে বাংলো
দুজন মিলে দেখে এসেছিলাম
দামে পোষালো না একটা লাইট হাউসের সখ ছিল
দিকভ্রান্ত নাবিকের
দিশা ফিরিয়ে দিতে
আলো হয়ে জ্বলে উঠতে এত খোঁজাখুঁজির পরেও যুতসই
লাইট হাউস পাওয়া গেল পড়ুন
কবিতা, জীবন | ১টি মন্তব্য | ৭৬ বার দেখা | ১১৬ শব্দ
উড়াল পাখি
উড়াল পাখির পাশের সীটে
তুমি যখন সুগন্ধ ছড়াচ্ছ;
মায়ের মুখ স্মরণে কান্নায়
বুক ফেটে যাচ্ছে। পরবাস অভিশাপ; কিন্তু
গত্যন্তর নেই, পাপী পেট
নির্দয়; সাহারায় ছুড়ে ফেলে। আমি কাঁদছি; সুগন্ধি ভ্যানেটি
ব্যাগে রাখা টিস্যু অশ্রু মুছে
দিচ্ছে। বাম হাতের পাঁচ আঙুল
ডান হাতের পাঁচ আঙুল জড়িয়ে
ধরলে বুঝতে পারি সাড়ে ছয়
হাজার কিলোমিটার
পাড়ি দিতে হবে। কপিলা ছাড়া কুবের পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ১০৭ বার দেখা | ৫২ শব্দ
শিল্পের বড়াই কিংবা মানুষের অসুখ
বারান্দার গ্রিলের উপর দিকে
চড়ুই দম্পতি বাসা বেধেছে,
পুকুরের দক্ষিণে এক পায়ে দাঁড়ানো তালগাছ
তার আগায় ঝুলছে বাবুইয়ের শিল্পিত বাসা। আমি মাঝে মাঝে পালক কুড়াই
মাঝে মাঝে পাখিদের শিল্পভাবনা পড়ি বাবুইয়ের পালকে কোন আভিজাত্য দেখি না,
দেখি না কোন বড়াই।
চড়ুইয়ের পালকে নেই হীনমন্য দাগ,
লজ্জায় ম্লান হতে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ৪৬ বার দেখা | ৬১ শব্দ
নীল চোখের কৃষ্ণ বালিকা
ব্রুজ খলিফার চুড়ায় নীল চোখের
কৃষ্ণ মেয়েটা যখন মৃদু ধাক্কা দিল
আমি পড়ে যেতে যেতে সামলে নিলাম। একশ পঁচিশতলা থেকে পড়ে গেলে
মরে যেতাম নিশ্চিত। মরে গেলে মেয়েটার
নীলাঙ্কিত মুখ দেখা হত না। ‘সরি’র সাথে হয়তো দুঃখের যোগ আছে
আমার কিন্তু আনন্দ অনুভূত হল
মেয়েটার বিব্রত মুখে আনন্দ দেখলাম। আমরা একসাথে সেলফি উঠালে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮১ বার দেখা | ৮০ শব্দ
দিদি
সে আমাকে দিদি ডাকে;
কেন ডাকে! বয়সে হয়তো কয়েক মাসের
বড় হতে পারি দিদির বদলে অন্য ডাক;
কিংবা কিছু না ডাকলেও চলত। সে সামনে এলে
বুক ধরফর করে আড়াল হলে উৎসুক চোখ
এ দিক সে দিক খুঁজে। তার জন্য বিপর্যস্ত
অন্য কিছু ভাবতে পারি না। সে আমার পাশের বাসার পড়ুন
ছড়া ও পদ্য | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৭ বার দেখা | ৫০ শব্দ
মানবিক হৃদয়
তোমরা রাশিয়ার ইউক্রেন গ্রাস দেখছ
আমি দেখছি
নাতির চিকিৎসার জন্য
আস্তুম উল্লা
তার শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে দিচ্ছে,
আস্তুম নিজ দেশে উদ্বাস্তু। ইউক্রেনের শিশুদের আলিঙ্গনে
এগিয়ে আসছে হাজার হাত
আস্তুমের নাতি বেডের অভাবে
মেঝেয় রাত যাপন করছে ইউক্রেনের জন্য হৃদয় ব্যথিত হচ্ছে
আস্তুমের নাতির মৃত্যুকে
নিয়তির বেশি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৯৯ বার দেখা | ৬৩ শব্দ
মুদি কর্মচারী
গালর্স স্কুলের প্রবেশ পথে টং দোকান;
একটা ছেলে গলায় গামছা ঝুলিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকে। ছেলেটা পাশের মুদি দোকানের কর্মচারী
যার জন্য দাঁড়ায়, তার দূরত্ব চাঁদের কাছাকাছি;
তবু সে দাঁড়ায়। চাঁদ কখনো তার দিকে নজর ফেরাবে না
জেনেও ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে, গামছায়
মুখের ঘাম মুছে। মেয়েরা সবুজ পরিধান করে দল বেঁধে আসে;
খলবলিয়ে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৫ বার দেখা | ৫৪ শব্দ
বিপরীত দৃশ্য
মানুষের ঘরে কারনে অকারনে উঁকি দেয়া স্বভাব
ভাণ্ডারে অনেক বিসদৃশ দৃশ্য জমা আছে। যখন কোথাও উঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকে না
তখন সে একমনে দৃশ্যান্তরে যায়। বিপরীত দৃশ্যে নিজেকে প্রতিস্থাপিত করে আহত হয়
তার শরীর থেকে রক্ত ঝরে। গত পরশু আবদাল মোল্লার পোয়াতি স্ত্রী মৃত সন্তান
প্রসব করে। সে পড়ুন
কবিতা, জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৯ বার দেখা | ৯৭ শব্দ
শহরকে কাধে নিয়ে
শহরকে কাধে নিয়ে হাটছিলাম, ক্রমে হালকা থেকে ভারি হচ্ছিল। এক সময় যে গাছের সাথে প্রাণের সখ্য ছিল সে গাছ খুঁজতে গিয়ে দেখি দানব দালান তার নির্দয় থাবা মেলেছে। প্রতিজ্ঞা ছিল ব্রজেন দাসকেও ছাড়িয়ে যাব; ইংলিশ চ্যানেল পুনরায় পরাভূত হবে। যে পুকুরে ব্রজেনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৭৮ বার দেখা | ১৩৬ শব্দ
পরিবর্তন
পরিবর্তন
গঞ্জে অনেকদিন পর এসেছি।
টং দোকানের চা’য়ে গুড়ের
চুমুক দিয়ে পঞ্চাশ বছরের বেঞ্চের
দিকে তাকালাম; উপরে যে ছনের
ছাদ ছিল, উধাও। তর্জার বেড়া
বদলে গেছে ইটের দেয়ালে,
সিলিং ফ্যানের বালাই ছিল কিনা
মনে করতে পারছি না কিন্তু
এখন শীততাপিত একটা যন্ত্র দেখতে
পেলাম। আশ-পাশের লোকের
দিকে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৮৪ বার দেখা | ৮০ শব্দ ১টি ছবি
কুদালি ছড়া
ছোটবেলা আমাদের এক হাটুনদী ছিল। আমরা ‘কোদালি ছড়া’ নাম দিয়েছিলাম। আমাদের বয়স যখন দশ তখনো এই নদী আমাদের হাটু ডুবাতে পারেনি। হাটুর বয়সী নদীর জন্য অত্যাধিক দরদ ছিল। এই নদী ইয়ার কিংবা দোস্ত ছিল। তার বুকে সারাক্ষণ দাপাদাপি করতাম। এখন আমাদের বয়স পঞ্চাশের পড়ুন
জীবন | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৯০ বার দেখা | ১৬৬ শব্দ
আধুনিক
আধুনিকে অভ্যস্ত
বাটি উলটিয়ে মাড় খাই না
স্যুপের চামচে কায়দা করে
মুখে ঢালি। লুঙ্গির অন্ত হয়েছে
রিলাক্স মুডে পরি
সিল্কের ঝোলা প্যান্ট। সাইকেল গেঞ্জি বড্ড
গেয়ো, টি-শার্টের আভিজাত্য
গেঞ্জিতে পাওয়া যায় না।
পুশ-মি অঙ্কিত টি-শার্ট
আধুনিকতার পরিপূরক। ভাত ভাজা কবে যে
ফ্রাইড রাইস হয়ে গেছে
টের পাইনি, ভাতের অরুচি
মেটাতে চাইনিজে
ফ্রাইড রাইসে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১০০ বার দেখা | ১২৪ শব্দ
আসছি
কে যেন ডাকছে! ঘুম চোখ; তলিয়ে যেতে চাচ্ছে,
পারছে না। ক্রমাগত ডাকছে!
জীবনানন্দের মুখোমুখি বসে আছি,
সব পাখি ইতোমধ্যে ঘরে ফিরেছে।
মুছে যাওয়া রঙে অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি;
মনঃসংযোগের চেষ্টা করছি,
পারছি না। কে যেন ডাকছে। মলে প্রচণ্ড ভিড়, চিৎকারে কান পাতা দায়।
দোকানীর নজর আকর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১১২ বার দেখা | ১০৪ শব্দ
বেদনা
অনেক দিন পরে গচ্ছিত বেদনা
দেখতে তোমার কাছে এলাম
টকটকে লাল এমন রঙ
ধারণ করেছে আমার বেদনা তোমাকেও নীল
করে দেবে ভাবতে পারনি; কিন্তু
নিজে কত আর নীল হব
সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে মানুষ অপারগ
হয়। অপারগ পথিকেরে ক্ষমা
করে দিও। যদি একদিন ফুল
ফোটে, প্রথম পুষ্প তোমার চরণে অর্ঘ্য দেব হে
দেবী। আমরা বেদনা পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১০৮ বার দেখা | ৫১ শব্দ