শাকিলা তুবা-এর ব্লগ
সর্প শাপ
সর্প শাপ গাছগুলো ভিজে শেষ।
এমনদিনে সে যেন একলা থাকে
এই আকাশের সারিমেঘ
শীত শীত ব্যাকুল বাতাস আর
ভেজা মন নিয়ে
সেও যেন কাঁদে আরো কয়েকবার যে হারায় সে হারায়
যে জানে সত্যিকারের ভাসান দিতে
সে আর ডাকে না কাউকে
ফিরে ফিরে আসে হাহাকার
বুক ভরা অভিমান
দিকছাড়া ক্ষ্যাপাটে শোক যাকে সে দিয়েছে শোক তারই মতন
সেও অবিশ্বাসী পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ১৫ বার দেখা | ৬৭ শব্দ
খয়েরী বাতাস
খয়েরী বাতাস এই দিনটার কোনো নাম দেয়া যাবেনা
হয়তো চেনাবার জন্যে বলা যায় আজ বৃহস্পতিবার
আদতে গাঢ় বৃষ্টিরঙা দিনের নাম থাকতে নেই। বাতাসে খয়েরী রঙের লিপিস্টিক ঘঁষে দেয়া গাছগুলো
আপাতঃদৃষ্টিতে ওদেরও কোনো নাম নেই
সম্বোধনের প্রয়োজনে ডাকা যায় জারুল নামে। গাছশরীরে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো দুই প্রাণের নামও অপ্রয়োজনীয়
এই বৃষ্টিতে সব ভিজে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ১৮ বার দেখা | ৫৮ শব্দ
ছুঁয়ে দেখো শূন্য
ছুঁয়ে দেখো শূন্য ফিসফিস করে কথা বলছিলাম
ওর সাথে একা একা; ও একটা বনপরী
যদিও কেউ দেখেনি ওকে
ওর জীবনে প্রেম, গান, শিশুমুখ
কতটুকু মানে রাখে জানতে চাইলে
ও বলেছিল, ‘তোমার মতন
আমিও একটা বার্বি
আমিও একটা মিথ
তুমি প্রকৃতির উপহার
আমি তোমার তৈরী’
ওর বাকচাতুর্য আমাকে বিভ্রান্ত করল
আমি শব্দের পর শব্দ পেরিয়ে
পৌঁছে গেলাম বিপন্ন পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ১৯ বার দেখা | ৮৮ শব্দ
অবলোকন
অবলোকন রাস্তাটা সম্ভবতঃ পালিয়ে যাচ্ছে
হু-ই যে মহা সড়কের উপর দাঁড়ানো ছেলেটি
মনে হয়, সে এই রাস্তাকে চেনে। এখানে গীটার রাখা বারণ—জীবনে কোথায় বারণ নেই?
মদ বা সিগারেট খাওয়া বারন
পছন্দের নারীর গায়ে নাম লেখা বারণ— রাস্তার বুকে গীটার ঘঁষটে তবু ছেলেটি চলে যায়
এইসব বারণ ফারণ তার ডিকশনারীতে নেই
সে প্রাচীর বিষয়ে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ১৭ বার দেখা | ৫৬ শব্দ
কোনও নাম নেই
কোনও নাম নেই আমি বড়ই সামান্য একজন
আঙ্গুলে যে হীরে দেখছ ওটা নকল
ব্রেসলেটের রুবির মতন—
আমার হৃদয় এক ছায়াপথ
ঢুকে যাচ্ছে এখানে যাবতীয় রঞ্জক
আমার মাথায় অদৃশ্য মুকুট, তুমি তা দেখোনি। বিশ্বের সবচেয়ে গরীব দেশের,
গরীব ঘরে; আমি বেড়েছি নিতান্তই আগাছা
চায়ের পেয়ালায় প্রথম চুমুক আর সংবাদপত্রের মেলবন্ধনে
আমার ছবিটা ঠিকঠাক তুমি দেখতে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৩ বার দেখা | ৮৫ শব্দ
ফিরে গেলাম
ফিরে গেলাম অতর্কিত হামলায় ভেঙ্গে পড়েছে আকাশ
টুকরো টুকরো মেঘগুলো পড়েছিল পায়ের কাছে
আঙ্গুলের খোঁচায় ওখান থেকে উঠে এসেছে কেঁচো
লকলকে জিভওয়ালা সাপ খুঁজছিলাম ধ্বংসস্তুপের ভেতর
সাপের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হতে চাই
বিষ কি আমি-ই কম ঢালতে পারি? বিষহরি হে—এসো, চোখের বিষ ঝেড়ে দাও
লোভে পড়া চোখ উপড়ে ফেলা ছাড়া পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৯ বার দেখা | ১১৭ শব্দ
রূপবন্ধ
রূপবন্ধ ঠিক উত্তরের ঘরটার উপর মেঘগুলো ডানা ঝাপটিয়ে উড়ছে, একটু পরেই ঝরে পড়বে যেন। এই ঘরটা ছোটমা’র ঘর। নওয়াব ঘুম ঘুম চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে আরেকবার। মন বলে, অপুর মুখটা ওই মেঘেদের ভেতর আচমকা একদিন সে দেখে ফেলবে। শুধু এই এক প্রত্যাশায় নিজের ঘরের পড়ুন
জীবন | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩২ বার দেখা | ১২৬৮ শব্দ
বিস্তৃত বিভ্রম
বিস্তৃত বিভ্রম আমার কোনদিন কেউ ছিল না
ভালবাসবার মতন, মনে রাখবার মতন—
আমার পথেরা জোনাকী পাখায় ঝিলমিল
অনন্ত ঢেউ সারি আর কলজে কাঁপানো দীর্ঘশ্বাস
আমি বাতিঘরের লাল-নীল আলোক প্রণালী বিষাদ। আমি শুধুই সময়ের অসম দান
ভালবাসতে বাসতেও না বেসে চলে যাই উজানে
পা ছড়ে গেছে, ছুঁলে গেছে ত্বক-নিহিত সুন্দর
ভালবাসা হলো ঠিক মাপ পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৩ বার দেখা | ৮৩ শব্দ
কল্পতরু
কল্পতরু আজকাল পাখীদের ঠোঁটে ঠোঁটে
তাম্বুরা অনুরাগ
কিমাম আর জর্দার মিশেল বানারসি পান। এক পাখি চঞ্চু ভেঙে আধখানা দেয়
সঙ্গী পাখীটা লেজঝোলা,
গুলকন্দের মিঠা
প্রথমে একজন গেয়ে উঠবে সোনালী সুর
দিনশেষে অন্যজন দেবে ভাল বাসা। আকাশের ম্যাপ ধরে কে মাপবে পথ?
গাছের কোটরে এখনো ছোট্ট সংসার
এরপরে কে যে যাবে কোথায়!
পান ফুরাবে, ধান উড়াবে
রয়ে যাবে পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫৩ বার দেখা | ৬২ শব্দ
দুই অন্ধকারের গল্প
দুই অন্ধকারের গল্প কোনদিকের অন্ধকারটা দেখতে পাচ্ছো?
মূলতঃ দুইভাগ কালো আমার
একটা দর্শনীয়, যা তুমি দেখছ
আমি হাঁটলে সে হাঁটে
আমি ঘুমালে সেও
অন্যটা বুদ্ধিমান নিঃসন্দেহে
অনেকবার কাবু করেছে আমাকে এই তিমির
হয়তো তুমিও তাকে চেনো। অবিরাম জ্বলছে বিড়াল চক্ষু আঁধারে
আমি চিবুচ্ছি মাছের লেজ
জিভের উপরকার তালু কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত
নোনা রক্ত পেটে চালান হতেই পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪২ বার দেখা | ৭৯ শব্দ
ভালবাসি কাঁচের চোখ
ভালবাসি কাঁচের চোখ বলেছিলে, ভেতরে নদীর পাড় ভাঙ্গছে, শব্দ পেয়েছ?
আমি তখন মগ্ন উড়ন্ত প্রজাপতির রঙ্গিন পাখায়-
বেসামাল দেহ, লতায়-পাতায় বাঁধা পড়েছে
নেশায় টলমল পা নিঃশব্দে গিয়ে দাঁড়ায় তোমার দুয়ারে
এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজেয়ে বলেছিলে, পাড় ভাঙ্গছে—
বলা হয়নি, সব অহমিকা ভেঙ্গেছে তোমায় ভালবেসে। দায়ে পড়ে নয় এ সমর্পণ, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৭ বার দেখা | ৮০ শব্দ
লঘূকরণ
লঘূকরণ ছায়ার ওজন মাপতে মাপতে
মেপে ফেলেছি শূন্যতা
এ কেমন সরল ধৃষ্টতা!
তার উপর তোমার মনিবন্ধে মাখানো পরাগ
যার মূল্যমান পার্থক্য পরচুলার সাথে করা যায়
ওদিকে গোধুলী শামিয়ানার নীচে সব লাল
তবে কেন এই ভরা চন্দ্রালোকও শূন্য মনে হয়?
সময়ের ওজন নেয়া তো আমার কাজ নয়
সেই আদি থেকে যার ভার অবিভেদ্য। নৈর্ব্যক্তিক হাঁটাও পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৭ বার দেখা | ৮৮ শব্দ
বিষামৃত
বিষামৃত তুমি আর আমি একই পাত্রে রাখা বহুবিধ বিষ
বাষ্প হয়ে মিশে যাব সে উপায় নেই
মেঘেরা আমাদের নেবে না।
বস্তুতঃ সূর্য প্রদক্ষিন করছি বায়বীয় আকারে
আর মাংসের ভেতর ক্রমানুসারে জন্ম নিচ্ছে লজ্জা
আমরা পৃথিবীর বর্জ্য নই, ঠিক বলছো তুমি? ঐ কালো পিচের রাস্তা থেকে উঠে আসো মানুষ
ভেড়ার লোমের নমনীয় আস্তিনে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৩ বার দেখা | ৯৯ শব্দ
বিজন বনের দিকে
বিজন বনের দিকে নেই হবার জন্যে বিকেলের শরীর থেকে রোদটুকু আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে হাজী সাহেবের তিনতলা বাড়ীর ছাদের দিকে। নীচে এইখানে আমাদের একতলা বাড়ীর উঠানে আমরা এতগুলো ছেলেমেয়ে হই হই করে গোল্লাছুট খেলছি। ঘামে ভিজে একেকজন জুবজুবে। মুখের উপর, নাকের নীচে চিকমিক করছে পড়ুন
গল্প, জীবন | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬০ বার দেখা | ২৫৫৩ শব্দ
জেগে আছি
জেগে আছি রাতভর ঘুমের ক্লান্তিতে জেগে আছি,
জেগে আছি দুই চোখ,
জেগে আছি চুল,
সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতার কাল থেকেই
জেগে আছি; পরিব্যাপ্ত,
শত্রুকর্তৃক অধিকৃত।
জেগে আছি চিবুকের তিল— নিতাইগঞ্জের চিত্রাক্ষী বুড়ীর একটি হাত
আকাশে ঠেকেছিল, অপরটি সমুদ্রে-
দুইয়ের মাঝে ভেসে ঘুমিয়েছিলাম একদা,
যেমন ঘুমোয় প্রভুভক্ত কুকুর আশ্লেষে।
এই ঘুমে নখের আঁচড়,
গাল ফুটো করা বাতাস, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৫১ বার দেখা | ৬৮ শব্দ