চন্দন ভট্টাচার্য-এর ব্লগ
সন্তানপ্রণাম
অধ্যায় : সাত বাবাকে যে-কোনও সংখ্যা দিয়ে ভাগ করো
একদলা ভাগশেষ থাকে —
ইলিশমাছের তেল অথবা জলপাই চাটনি দিয়ে মাখা;
শূন্য করে আনা যায় না কোনও বাবাকেই।
বন্ধু নেই, কিডনি নেই, তবু ঢলঢলে ফুলপ্যান্ট
ছেলেবৌ আনবে ব’লে চৌরাস্তায় এগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
যত কথা তার চেয়ে গলা খাঁখারি বেশি
ড্রাইভারের পাশে ব’সে ভুল পড়ুন
কবিতা, জীবন | ৩ টি মন্তব্য | ৭৩ বার দেখা | ১৩৯ শব্দ
অতিপর্ব
আজ দশ বছর পর তোমাকে দেখতে পেলাম
একটা হাই তুলতে গিয়ে
এক দশক আমি রেড সিগন্যালকে নিয়তি আর
ট্র্যাফিক পুলিশকে দেবতা মেনে ঘুরে বেড়িয়েছি রাস্তায়
তোমার অফিসের উল্টোদিকে গুটখা দোকানদারের
তিন মেয়ের নাম বেছে দিয়েছি অভিধান দেখে
আর এই গোটা সময়কালে আমি মূলত হাই তুলে গেছি
কোটি কোটি নানা সাইজ পড়ুন
কবিতা | ৪ টি মন্তব্য | ১২৩ বার দেখা | ১৮১ শব্দ
শত্রুই ঈশ্বর
আমরা জানি বাঁচতে গেলে বেশির ভাগ মানুষের যতখানি বন্ধু লাগে, ততটাই শত্রুর দরকার হয়। নিজেকে ভালো বা ঠিক প্রমাণ করার আগ্রহ আমাদের অপরিসীম, এবং ভালো-খারাপ একটা তুলনামূলক বিচার। কাজেই, এই ‘আমি’টি অন্যে খারাপ প্রমাণিত না হলে নিজের ভালোত্বকে প্রতিষ্ঠা করতেই পারবে না। খারাপ কখন পড়ুন
জীবন | ৫ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৩২ বার দেখা | ৫৩২ শব্দ
পরপুরুষ
এক
এক দশকে তাদের একবারও দেখা হয়নি! বিশ্বাস হচ্ছে না? আসলে দুজনের কেউ-একটা অনিচ্ছুক হলেই সাক্ষাৎ অগুন্তি কাল ধরে পিছিয়ে যেতে থাকে। ডিভোর্সের পরের মাসেই অরুণাভ বদলি হয়ে কলকাতা অফিসে চলে এল। শেক্সপিয়ার সরণি থেকে রাসেল স্ট্রিটে অদিতির ব্যাংক কতটুকু? তবু দশ ইন্টু তিনশো পঁয়ষট্টি ইনটু পড়ুন
অণুগল্প | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৬৮০ বার দেখা | ৫১৫ শব্দ
যোগমায়া
আমি এমন ব্যবস্থা রেখেছি
সব তান্ত্রিক নিভে গিয়েও আমার ধুনি জ্বলে!
মেঘের গর্জন শেষে মৃদু হাসি বইতে থাকে — ভোর,
আমি এমন লাইনঘাট করেছি যোগ ও মায়া — দুটির একত্র বলে
নিজেকে উদ্ধার করেছি, আমার
রতিমোক্ষ শরীরে হয়েছে
আর মন ধুনুচিধোঁয়ার মতো অনর্গল ভয় তুলে তুলে
ওই দেখো, ভস্মমাখা ছাই
চলাচলই আমার দরোজা, পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১১৪ বার দেখা | ৮২ শব্দ
গয়ন্ত জাঙ্গুলি
যত সব সোকাবোকা ছেলে নিয়ে জেরবার
স্যার বলতেন
জয়ন্ত গাঙ্গুলি, হায়মন্ড ডারবার
ফা হিয়েন লেন স্বামী-স্ত্রী দুইজন আর এক বোন ঘরে
অবিবাহিতা
বেথুন কলেজে পড়ে, পাঠ করে অবসরে
কেষের শবিতা সেই মেয়ে হায় হায় ফেল হ’ল বাংলায়
অঘটন কী এ!
স্যার কান্নায় ভিজে — বোনটির শুখটি যে
গিয়েছে মুকিয়ে স্টুডেন্ট ভালোই, যত বোকাসোকা টাসমার
স্যার বললেন
গয়ন্ত জাঙ্গুলি, পড়ুন
ছড়া ও পদ্য | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৪৩ বার দেখা | ৫১ শব্দ
কত সীমাহীন আছে
অনেক অসংখ্য আছে। অনেক প্রার্থনা প্রার্থিতের হাত ছুঁতে পেরেছে এখুনি
পথ আছে; বলছি বিশ্বাস করো, তাকে বর্ণনা করলেই সমান্তরাল সড়কের
জন্ম হবে পাশে
নবজাত ফুলগুলো গায়ে নিয়ে যে-বাড়ি ঘুমিয়ে আছে কী নিশ্চিত;
একটা বরফগলা দুধ হাতে, মুখে বলিরেখা-লাগা, পুরনো পাহাড়
সে ঘুম ভাঙাবে
আরও শোনো বিরক্ত হওয়ার আগে — আকর্ণ পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫৭ বার দেখা | ১৩৯ শব্দ
আমি উন্মাদ আত্মজীবনীতে
তিন ঠিক এমনি গরমের সময়ে একবার বাবার চারপাইতে উঠে
একটা দাঁড়াশ লম্বা হয়ে ঘুমিয়ে নিল। ওই দেখতে পাচ্ছ
ঝুঁটি শালিখ গন্ধরাজের ডালে? আর টিউবয়েলের মাথায়
এক সেকেন্ড বসেই পিঠটান — না না, দোয়েল ছাড়া আর
কারও লেজে অতটা লাল থাকতে নেই সবার উঠোনই তো শুকনো পাতায় ভ’রে আসে, কিন্তু আমাদের
বারান্দায় পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫৪ বার দেখা | ১৫৩ শব্দ
আমি আর প্লক্ষতরুণী
ছয় দেখে মনে হবে রেস্তোরাঁ। আসলে বাইরের ঘর।
মুখোমুখি বসে প্রেমকাহিনি বাড়িয়ে নিচ্ছিলাম
একবারও দৃষ্টি সরাচ্ছে না উজ্জ্বল আনন্দিত
চোখ সে-মেয়ের। অল্প নিউরটিক কি ঝিলাম? তাকানোর মধ্যে একটা গোগ্রাস আছে। সে যেন
প্রেমের কাছে পিণ্ডদান চায়। আঙুলে আঙুলের
শেকড় জড়ানো, উঠতে গিয়ে মন অপরাধী।
“চলে যাচ্ছ! ভেবেছিলাম আজ দুজনে ধরা দিই” সে ও পড়ুন
কবিতা | ১১ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫০ বার দেখা | ১৭৬ শব্দ
মুখঢাকা গল্প
আমার বাঁহাতে মুখঢাকা গল্প মনিটার শুনতে পেয়ে গেছে?
তাই কি টেবিলে ডাস্টার ঠুকল তুহিনস্যারের মতো!
অথচ সবাই ছুটে বেরোচ্ছে ক্লাস থেকে টানা-বারান্দায়
ফাইভসিক্সের চোখে জল
টিচার্স রুমের কাছে জটিলতা
চার-পাঁচটা মহাপাপী ছেলে ‘আসতে পারি স্যার?’ না ব’লেই
ঢুকে গিয়ে, এমা দ্যাখ, জুতো পায়ে টেবিলে উঠল!
পেড়ে নামাল বড় ফ্রেমের আবছা মহাপুরুষ-মুখগুলো
শুধু পড়ুন
কবিতা | ৮ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫৮ বার দেখা | ১৮৩ শব্দ
সে কাহার জন্য
আমার ঠাকুরদার পরিবার ছিল, খুলনার ভাষায়, ধানী-পানি গিরোস্তো। দক্ষিণ-এ মানে সুন্দরবন এলাকায় তাদের আবাদ বেশ কিছু-ঘর প্রজা সমেত। এ-হেন ফ্যামিলিতে মেধাবী, সুপুরুষ কিন্তু বিবাগী প্রকৃতির ছোট ছেলেটিকে নিয়ে ছিল অগাধ দুশ্চিন্তা। বছর তেরো বয়েসে একবার বাড়ি পালিয়ে ঢাকায় হাজির হয়েছে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্নিসি পড়ুন
জীবন | ৯ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৫০ বার দেখা | ২৬৯ শব্দ
সোনাঝুরি
ভোরে উঠে মুখ ধুচ্ছো — বেসিনভরা সমুদ্রতীর
টুথপেস্টের দুধকুয়াশা মেখে আয়না মহাস্থবির মর্নিং টি পৌঁছে সবার, নিজের কাপটি নিয়ে বসো
চা-ও শুভ্র? অথচ তুমি কালো পরতে ভালোবাসো! ঝিনঝিনিয়ে ফোন বাজল — যেমন কানের ঝুলন দুল
শুভেচ্ছাস্বর উপচে প’ড়ে এঘর-ওঘর হাউজফুল ব্যালকনিতে জুঁই আর চড়াই সহপাঠী হলুদ টবে
“হুশ, যা পালা” রাতে পড়ুন
ছড়া ও পদ্য | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৭ বার দেখা | ৭৪ শব্দ
রক্তের শিশির
তুমি শরতে আমাকে একবার দেখে যেয়ো
শিশু নিমপাতার পিঠে শতবিকশিত আলো পড়ে আছে
বাতাসের মাথায় দেশলাই ছোঁয়াতেই ধূপকাঠি হল
তুমি এখন কোন হাসিসমাবেশ বকফুলভাজা অথবা
উদ্যান সংস্কারের মধ্যে আছো, কীভাবে নিষ্পলক বৃষ্টি আর
সাবসিকোয়েন্ট চুমুর অধিকারে ফেলে রেখেছ অফুরন্ত ডানহাত
আমি তো জানি না তোমার রক্তে আজ ক’ফোঁটা শিশির, মাথার চুলে পড়ুন
কবিতা | ৯ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১০১৩ বার দেখা | ১৩২ শব্দ
জাতিস্মর চোয়ালেরা
যারা আসমুদ্র সমস্যা নিয়ে ভাবল তারা হিমাচল।
ভোঁসলে বা দেশমুখ, দাশগুপ্ত কিম্বা সিংহানিয়া — বড়জোর স্নান ক’রে
চুল আঁচড়েছে, জাতিস্মর ফুলদানির দিকে কেউ ফিরে তাকায়নি। যারা ব্যাংকের মাথায় ছাতা ধরল, ছোট চাষির এক টোকায়
বন্ধ করল আত্মহত্যা, কারখানার গেটে ঘোল খাইয়ে দিল
উৎপাদনব্যবস্থাকে, খবরের কাগজ তাদেরই কথায়
চার থেকে বাইশ পড়ুন
কবিতা | ৭ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৫ বার দেখা | ১২৮ শব্দ
পুরনো একটা গুঁড়ো কবিতা
পুরনো একটা গুঁড়ো কবিতা
আমার জন্ম শ্রাবণে, বৃষ্টির জ্যোৎস্নায়। বর্ষার প্রত্যেক কণায় জন্মদিন লেখা আছে দেখি। পুরনো একটা গুঁড়ো কবিতা : বৃষ্টিকে অবশ করে ওটি-তে শোয়াও
বৃষ্টিনাড়ি চিরে দ্যাখো ওর মধ্যে
কত জন্ম মেঘের ডিউটি, তার না-পাওয়া
মাইনে জমে আছে!
বর্ষা শুকিয়ে সেই আমড়াআচার
ভরা বালতি তুলতে যাওয়া পোয়াতির
কাটা জিভে ছড়িয়ে পড়ুন
কবিতা | ৬ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ১৬৬ বার দেখা | ৭৭ শব্দ ১টি ছবি