চন্দন ভট্টাচার্য-এর ব্লগ
অপূরণীয় আলো
অপূরণীয় আলো রোদ মুখের ওপর পড়ে জ্যোৎস্না হয়ে গেছে
আমার হাতের আঙুলেও লেগে প্রতিমানির্মাণ।
ভাবছি, যদি কোনোদিন তোমাকে রাজি করাতে পারি মহাপীঠ পর্যন্ত
দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে দেখবো — আসলে কে নীলোৎপল, মণিকর্ণিকা বাইরে অপূরণীয় আলো
গাছের টেবিলে পাখিদের কফিহাউজ ভোরবেলা
দেখে মনে হবে দুঃখ কোথাও একজিস্ট করে না সব ছেড়ে দিলে যে পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ১৫ বার দেখা | ৯৫ শব্দ
শীতের তৃতীয় শীত
শীতের তৃতীয় শীত এক
প্রত্যেক ডিসেম্বরে হলুদ লজেন্সের ভেতরে কবর দেওয়া হয় আমাকে
আর প্রতি মার্চে সমাধি ফাটিয়ে কমলারঙ মধু গড়িয়ে যায় দুই
সব রোদ বোরখাপরা, সব ধানের গুছি মুসলমান
শুধু সূর্য নয়, কাঠের ফার্নিচারের দোকানও আলো দেয়
এই শীত কোনও প্রবেশমূল্য রাখেনিএখানে-ওখানে
বিড়ি বিভাগের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে দেশলাই সম্প্রদায় সব শীতের মতো পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | ১৮ বার দেখা | ১৯২ শব্দ
শীতের প্রথম শীত
শীতের প্রথম শীত শীতের আরম্ভ-শ্বাস দুলে ওঠে কঙ্কাল-তারায়
উৎপন্ন হয়েছে হিম ভোরপাত্রে, শালিখে, দূর্বায়।
পিপারমেন্টের জিভ ছুঁয়ে আছে বাতাস-ধমনী
শীতের প্রথম মোর্চা, জমায়েত আমার পাড়ায়। কুয়াশা শীতের: তাকে কেন কেউ সু-আশা বলোনি?
খাদে জিপ গড়াবে না যদি জেনে রাখো সুবচনী।
নারকোল-ডাঁটি জুড়ে সেতারের পুরু ঘাট কাটা
কাঁচা পাঁউরুটি-রোদ, জেলি নেই, গরীব কলোনি। শীতের পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | ১২ বার দেখা | ৮০ শব্দ
শীতের দ্বিতীয় শীত
শীতের দ্বিতীয় শীত ট্রেনের হর্নের গায়ে মাকড়সা-ঝুল লেগে আছে
পঞ্চায়েতে দু’মাসের কাজ পেল আকাশি মেয়েরা:
পায়ে-চলা জ্যোৎস্না দেবে বিলের মাটিতে, বিষধর —
ঝাঁপির পার্বণী পেয়ে হবে গোল সুখিত বেড়াল বৃদ্ধ দাঁতাল পাখি — ধান কাটতে গিয়ে ক্ষেতওলা
কোলে নেয়, মরাইতে রাখে। ঝরা পোকা, ঝরা ভিড়,
হিমের মশারি। এই যে দাঁতনফল, আমার পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ২০ বার দেখা | ৮৭ শব্দ
বাগীশ্বরী: দুই
বাগীশ্বরী: দুই জানি না কোন ঘন পাড়াগাঁয় বিলের ধানজমি থেকে
উঠেছে তোমার শরীরের ছড়া
কার্তিকের কৃষ্ণা তেরোদশী গোধূলিতে শীতবৃষ্টি প’ড়ে
হাতের আঙুলগুলো তৈরি হয় কিনা
জানি না বৈষ্ণবী, গেরুয়া পাঞ্জাবির নিচে কী লুকোও
জপমালা নাকি পাঞ্চজন্য স্তনদুটো
সন্ধে থেকে দুএকটা মশা ঘরে ঢোকার মতো
তোমারও কি রাগ শরীরের নর্দমাকে মা বলে ডেকেছে?
তুমি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | ১৫ বার দেখা | ৯৩ শব্দ
সার্জারি নাট্যশালা
সার্জারি নাট্যশালা ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬, সকাল ১০/৩০
হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ার শেষ আবেদন
খারিজ হয়ে গেল ওপিডি আউটডোরে। ফাইলে সই করে
কলমের নিবটি ভেঙে ফেললেন সিনিয়র সার্জেন ফ্রান্সিস জেকব
কিছু হতাশ ও বিচলিত দেখাচ্ছিল অপরাধীকে ২৯ জানুয়ারি, দুপুর ১/০০
অসুস্থের পরিবারকে জানানো হল, জরিমানার দেড় লাখ টাকা
জমা দিতে হবে। ইম্মেডিয়েটলি ২৯ জানুয়ারি, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২২ বার দেখা | ২৫৩ শব্দ
চাঁদের তৃতীয় পিঠ
চাঁদের তৃতীয় পিঠ আমি তখন ছিলাম চাঁদের অন্ধকার পিঠে
সামান্য রাগ হলে বাসন ছুঁড়তাম, পা-ই কথা বলত ক্যানিজিয়া।
সবচেয়ে বাড়ির ছোট ভ্রমর, ছোট্ট ডানাদুটো উড়তে উড়তে
মাটিতে ‘ধপাস’ পর্যন্ত হাত মুঠো করে রাখত সবাই আমি খুব কথা চালাতাম, অসম্ভব কথা
চাঁদও অবাক হতো — কোন নক্ষত্র থেকে এসব পোকা
এসেছে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৪৯ বার দেখা | ১৩৫ শব্দ
ডায়েরি: চিকিৎসালয়শালা
ডায়েরি
চিকিৎসালয়শালা এক
নগ্ন হও নগ্ন হও — এই শুধু স্লোগান
যেন পোষাকেই সব অসুখ লেগে আছে
“দেখি দেখি” বলে বারবার দেখার নিচে
চলে যাচ্ছে হাঁস-নার্সেরা
যত বলি, লজ্জাই আমার একমাত্র প্রেমিকা,
“না, ভিজিটিং আওয়ার্স ছাড়া কেউ কাছে থাকতে পারবে না।” দুই
সিডাকটিভ সাদা জোব্বা-পরা আমি
হাঁটু গেড়ে বসে পড়লাম
তরুণীর পায়ের সিঁড়িতে
বললাম, বহু কষ্টে চেতনা পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৫ বার দেখা | ৩৩৫ শব্দ
কী এক পৃথিবী ছিল
কী এক পৃথিবী ছিল কী এক পৃথিবী ছিল তোমার স্বরের টুকরো বসে থাকতো ছাতিমপাতায়
শ্বাসপথ দিয়ে ফুসফুস পর্যন্ত টানা মোরাম ছিল রোদ্দুরের,
হাঁটা যেত দুইবাহু দোকানে দোকানে
একটা বিমান আবছা আকাশে থেমে থেকে
শুকতারা পালন করতো কী এক সকাল তার লিপিড প্রোফাইল থেকে
চোখ সরানো যেত না
প্রথম শ্রেণীর লিভারের মতো হিন্দু পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৮ বার দেখা | ১১২ শব্দ
প্রেমের পদ্য ৩
প্রেমের পদ্য ৩ “আমি তোমাকে ছোঁব, নভতল” যদি তুমি ছোঁও আমাকে
বদ্রিলার ভেঙে পড়বে, পেনরোজ ভুল প্রমাণিত
অস্ট্রেলিয়া ভাসতে ভাসতে এসে বলিভিয়ার গায়ে লেগে যাবে
এই প্রথম দ্যাখা যাবে বাতাসদিগকে — হলুদ, বেগুনি, ভাসমান ওড়নার দল
আর, এমন স্পর্শের উপমা কোনও শব্দে নেই বলে কবিতার বই স্তূপ করে জ্বালিয়ে দেবে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৮ বার দেখা | ৯৫ শব্দ
প্রেমের পদ্য ২
প্রেমের পদ্য ২ প্রেম এক অসমাপ্ত ব্রেন সার্জারি।
সমস্ত পরীক্ষা শেষে যেদিন একশো চুয়াল্লিশটা কার্ফু জারি
তুমি ভোরে স্নান-সারা, মাথা মসৃণ, উপোষি পেট
টাল খাচ্ছে,
তবু বমি করবে না
উন্মাদ চেতনা —
বুঝে রূপসী প্রফেট
অভিলাষ-হেতু তোমার মস্তিষ্কফুল ও টি রুমে খুলে রেখে
আরও উপুড়, নিঃস্ব কোনও খুলি থেকে
এক কাপ চা খেতে চলে পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৩ বার দেখা | ৪৫ শব্দ
আনন্দনির্ভর
আনন্দনির্ভর ভূমিতে পা রাখা আলতো সেবা হয়ে ওঠে
স্মিত ও টাটকা চপ্পল
জমির প্রতিটা তন্বী অণুর ওপরে
সুষমা উন্মুক্ত হয়ে যায় দেখি বাতাসের রোমকুয়োয় ধূপকাঠি গোঁজা
আর শুকনো পাতার নিচে ব্যবহার না হওয়া নিঃশ্বাস
জ’মে থেকে মরে গেছে
মুছে যাওয়া আনন্দনির্ভর
রাস্তার পাশের বাড়ি কড়াই-ছাত্র আর উনুন-মাস্টার মিলে
পড়াশোনাগন্ধের “সিরাজ”
চলৎশক্তি হেঁটে গেল, গতিশক্তি সাইকেলে, পড়ুন
কবিতা | ১টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২২ বার দেখা | ৮৬ শব্দ
হরিণ ... মৃত্যুর পর
হরিণ — মৃত্যুর পর বসুন্ধরায় দুধ পাতা আছে লিচুর শাঁসের মতো
তাতে হাত কোশ ক’রে যে যার নিজের শৈলী তুলে নেয়
গাছ তোলা আছে — পৃথিবীর সলতে-প্রমাণ,
সবুজেরা পাতার অক্ষর হলে ডালপালা আলদা আলাদা বাঁক
দামিনী-ঘরানা হাঁসের নৌকো চিনি — শুধু পারিজাত হাঁসদের,
পুকুরের স্তন অবধি জল
প্রত্যেকে নিজের তোতা হাতের বাজুতে পড়ুন
কবিতা | ৩ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৩ বার দেখা | ৮৩ শব্দ
আমি উন্মাদ আত্মজীবনীতে
আমি উন্মাদ আত্মজীবনীতে কাল বিকেলবেলা পাড়ার গলিতে পৌঁছে তোকে
ছুঁড়ে ফেলেছি রাস্তায়, কনুইভাঙা বডি আস্তে সোজা
হচ্ছে — একটা পিঁপড়ে ভয় পেল। আমি হাঁটলাম বাড়ির দিকে,
তোকে চাপা দিচ্ছে খড়ম জুতো শ্রীখাদিম। পাড়ার দোকান থেকে
টুথব্রাশ কিনছি, বোতলের বাঁচা জল আহ তোর গায়ে উপুড়
করল টিউশানি-ফেরত ছাত্র। আমি স্নানগেঞ্জিপাজামা —
টিভি পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ৩৭ বার দেখা | ১৬১ শব্দ
হরণপর্ব
হরণপর্ব আমেজামে শঙ্খ লেগে আছে
মেঘেজলে তরুণ বিচ্ছেদ
নিশুত রাস্তায় হাত পাতো —
চাঁদভিক্ষে আলো, তার গায়ে নুন, স্বেদ কেননা, রাত্তির জেগে পড়া
বোনকে গিলিয়ে দিই দুধ
ভাতরান্না — সেও অধ্যয়ন
পাটকাঠি সহস্র, অর্বুদ
চুড়ো করে রেখে আসি ছাদে
সে ইশারা গুপ্ত সংবাদের তাই বুঝি ভোরের বাইক এসে থামে
আজ গ্রাম্য মেঘের রাস্তায়
ঘুমঘোরে উঠেছে মেয়েটি
চাঁদের মর্মর পড়ুন
কবিতা | ২ টি মন্তব্য | মন্তব্য বন্ধ রাখা আছে | ২৪ বার দেখা | ৪৬ শব্দ